সামাজিক দূরত্বে বদলে গেল এনায়েতপুর হাটের চিত্র

প্রকাশিত: জুলাই ১০, ২০২১; সময়: ১২:৩৯ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ : লকডাউনের বিধি ভঙ্গের অভিযোগে বন্ধ করে দেয়া সিরাজগঞ্জের গরু ও তাঁত কাপড়ের এনায়েতপুর হাটের চিত্র এখন পাল্টে গেছে। হাটের ইজারাদার ফজলুল হক ব্যাপারী ও পুলিশের যথাযথ উদ্যোগ কার্যকরি ভুমিকা রেখেছে।

জেলার বড় এ হাটের প্রবেশ মুখের ২টি স্থানে পুলিশের চেকপোষ্ট ও ইজারাদার নিজ উদ্যোগে আগত ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে মাস্ক বিতরন, হ্যান্ড স্যানিটাইজ করছে। এ ছাড়া যৌথ উদ্যোগে হাটে সামাজিক দুরত্ব বজায়ে রেখেছিল কার্যকরি ভুমিকা।

জানা যায়, চলতি বছরে ৩ কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় সিরাজগঞ্জের বৃহৎ তাঁত কাপড় ও গরুর এনায়েতপুর হাট ইজারা নেন এলাকার ব্যবসায়ী ফজলুল হক ব্যাপারী। প্রতি সপ্তাহে রবি, সোম, বুধ, বৃহস্পতিবার কাপড়ের হাট এবং সাপ্তাহিক শুক্রবার সবচেয়ে বড় গরু, মাছ, শাক, সবজি সহ যাবতীয় জিনিস পত্রের হাট বসে। দিন ব্যাপাী এ হাটের দিনে এখানে বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর সহ টাঙ্গাইল, পাবনা জেলার হাজার-হাজার ক্রেতা-বিক্রেতাদের ঢল থাকে।

গত ২ জুলাই শুক্রবার লকডাউন চলাকালে বসেছিল এ হাট। গরু-ছাগলও উঠেছিল। তবে অন্যান্য দিনের হাটের চেয়ে কম। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হলে হাটটিতে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের দোকান বসতে দেয়া হলেও বন্ধ করে দেয়া হয় পশু ও কাপড়ের হাট।

শুক্রবার (৯ জুলাই) সকালে হাটের শুরুতেই দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। প্রায় ৪ বিঘার গরুর হাটটিতে কোন পশু ওঠেনি। প্রায় অর্ধ কিলোমিটার জুড়ে হাটের উত্তর ও দক্ষিন পাশের রাস্তার প্রবেশ পথে পুলিশ চেক পোষ্ট বসিয়ে যানবাহন ও হাটুরেদের সচেতন করছে।

হাটের প্রধান পট্টির প্রবেশ পথ ও থানা কার্যালয়ের রাস্তার উপরে হাটে প্রবেশ করা ক্রেতাদের ইজারাদার ফজলুল হক ব্যাপারী পক্ষ থেকে মাস্ক বিতরন ও হ্যান্ড স্যানিটাইজ করেছে। তার তার সাথে ছিল সাবেক চেয়ারম্যান হাতেম আলী মাস্টার, এনায়েতপুর হাট বনিক সমিতির সভাপতি আব্দুল খালেক শেখ, ব্যবসায়ী জনাব আলী সহ অন্যান্য ব্যবসায়ীরা। তারা দাঁড়িয়ে থেকে নিজ হাতে তা বিতরন করেন।

এ ব্যাপারে হাটের ইজারদার ফজলুল হক ব্যাপারী জানান, গত হাটে আমারও তেমন একটা বুঝতে না পারায় হাটটি বসেছিল। তবে অতীতের মত তেমন সমাগম হয়নি। জেলা প্রশাসন আমাদের গরু ও কাপড়ের হাট বন্ধ করে দিয়েছে। আজকে শুক্রবার নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের হাট বসেছে সামাজিক দুরুত্ব মেনে। গরুর হাটও বসতে দেয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার বিকেলে হাটে কিছু গরু আসলেও আমরা তা সরিয়ে দিয়েছি।

তিনি আরো জানান, আমরা প্রশাসনের নির্দেওেশ লকডাউন মেনে হাট পরিচালনা করছি। পাশাপাশি মানুষকে সুরক্ষিত করতেও মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরন করছি। তবে সরকারের কাছে দাবী একটাই, লকডাউনের কারনে গত ১ সপ্তাহে হাট না বসায় অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে আমার। সামনে আরো হবে। তাই হাটের ইজারাদার হিসেবে আমাদের আর্থিক প্রনদনা দিতে হবে। তা না হলে সাড়ে ৩ কোটি টাকা খরচ করে এ হাট নিয়ে পথে বসা ছাড়া আমার উপায় থাকবেনা।

এদিকে হাটে আসা গোপালপুরের ক্রেতা মন্টু প্রমানিক, গোপিনাথপুরের আব্দুল আওয়াল, এনায়েতপুরের আব্দুস ছামাদ, শিবপুরের রওশন আলী জানান, এনায়েতপুর হাটের এমন চিত্র আগে কখনো দেখিনি। পুরোপুরী সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখা হয়েছে। প্রবেশ পথে মাস্ক ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। ইজারাদারের পক্ষ হতে দেয়া হয়েছে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার। দুরে-দুরে দোকান বসায় আমরা স্বাচ্ছন্দ্য ভাবে কেনা কাটা করেছি।

বিষয়টি নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান মুল্লুক চাঁদ মিয়া, হাজী সুলতান মাহমুদ জানান, শুক্রবার এনায়েতপুর হাট মানে দু-তিন থানার মানুষের উৎসবের দিন। এখান থেকেই যাবতীয় সব কিনে থাকে মানুষ। এ দিন সুলভে মাচ-মাংস সহ যাবতীয় বাজার করে থাকে সবাই। তবে লকডাউনে হাটটি এখন জৌলুশ হীন। তার পরও হাটটিতে যে কাচা বাজার লেগেছে তাতে সবাই সন্তুষ্ট। এলাকাবাসীর জেলা প্রশাসনের কাছে দাবী, সামনে কোরবানীর ঈদ উপলক্ষে যেন গরুর হাটটি এখানে যেন বসতে দেয়া হয়।

এদিকে এনায়েতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, জেলা প্রশাসনের নির্দেশে আমরা করোনা ভাইরাস হতে মানুষকে ঝুঁকি মুক্ত রাখতে কাজ করছি। হাটেও ছিল একই ব্যবস্থা। এ কাজে ইজারাদার আমাদের সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছে। এ কারনে হাটে গরু-ছাগল ওঠেনি। সামাজিক দুরুত্বও বজায় ছিল।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে