পাবনায় প্রতিদিন উপসর্গে মৃত্যুর হার বাড়ছে

প্রকাশিত: জুলাই ৯, ২০২১; সময়: ৬:০৯ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা : পাবনায় প্রতিদিন রেকর্ড ভাঙছে করোনা সনাক্তের সংখ্যা। কঠোর লক-ডাউন মানাতে পারছে না স্বাস্থ্যবিধি। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে পাবনার পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারন করবে বলে সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এদিকে ২৫০ শয্যার পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ১০০ শয্যার করোনা ইউনিট রোগীতে পরিপূর্ণ।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় ও জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জেলায় প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত করোনা রোগী বাড়ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে দিশেহারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার রুগী ভর্তি ছিল ৯৮ জন। ফলে করোনা ইউনিট আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। পাবনা পুলিশ সুপার ইতোমধ্যে জেলা পুলিশ হাসপাতালের ১০০টি বেড দিয়েছেন জেনারেল হাসপাতালে করোনা ইউনিট ২০০ বেডে উন্নতির জন্য।

এই জেলায় করোনা শুরুর পর থেকে শুক্রবার সর্বোচ্চ ৩৪৮ জনের শরীরে করোনা সনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া গত সাতদিনে করোনা উপসর্গে শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধা, চিকিৎসকসহ কমপক্ষে ২৭ জনের করোনা উপসর্গ নিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকয় মৃত্যু হয়েছে। উপসর্গে মৃত্যুর কথা স্থানীয়রা জানালেও, মৃত্যুর সঠিক পরিসংখ্যান জানাতে পারেনি স্বাস্থ্যবিভাগ। শুরু থেকে পাবনায় তাদের কাছে ২৭ জনের মৃত্যুর বেকর্ড রয়েছে। হাসপাতালে অক্সিজেন সহ চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নতি না থাকায় রুগীর অবস্থার অবনতি হলেই তাকে রাজশাহী বা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। ফলে দৃশ্যত জেলাটিতে করোনায় মৃত্যুর হার কম রয়েছে।

পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মনিসর চেšধুরী জানান, শুক্রবার জেলায় ১৪৯৮ জনের নমুনা পরীক্ষায় নতুন ৩৪৮ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত এটিই পাবনায় সর্বোচ্চ সংক্রমণের রেকর্ড।

তিনি আরো জানান, করোনা সংক্রমণ প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ায় এবং জনসাধারণ স্বাস্থ্যবিধি না মানায় করোনা সংক্রমণ বেড়ে চলেছে। সচেতন না হলে ভয়াবহ সংক্রমণ ও মৃত্যু দুই বাড়বে। আক্রান্তের একটি বড় অংশ করোনা পরীক্ষা না করা। আর তাই হাসপাতালের বাইরে মারা যাওয়ায় সঠিক পরিসংখ্যান জানা সম্ভব হচ্ছে না।
যোগাযোগ করা হলে হাসপাতালের প্রধান সহকারী রহুল আমিন বলেন, একদিকে হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে হাসপাতালের কর্মীরা করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। ফলে লোকবল সংকট দেখা দিয়েছে। করোনা ইউনিট বাড়ানোর পাশাপাশি হাসপাতালে লোকবলও বাড়ানো প্রয়োজন।

পাবনা পুরোনো জেলা হলেও এখানে অজ্ঞাত কারনে পিসিআর ল্যাব চালু হয়নি। সপ্তাহের দুদিন নমুনা সংগ্রহ করে রাজশাহী , সিরাজগঞ্জ অথবা কুষ্টিয়ায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। এতে সঠিক সময়ে সঠিক করোনা রোগী শনাক্ত সম্ভব হচ্ছে না। ২০০৯ সালে হাসপাতালের জন্য চারটি কার্ডিয়াক মনিটর ও আইসিইউ শয্যা এসেছে। একটি হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা রয়েছে। এসব চালুর জন্য গত ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থার কাজ শুরু হলেও তা এখনো শেষ করতে পারে নাই ঠিকাদার। কেন্দ্রীয় অক্সিজেন প্যান্টে সিলিন্ডার লাগিয়ে কোনোমতে রোগীদের অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মো. সালেহ মোহাম্মদ অলীর মুঠো ফোনে কল করে পাওয়ার যায় নাই। তবে একটি সুত্র জানিয়েছে সংকটের মধ্যেও রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে কতৃপক্ষ।

  • 111
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে