শিবগঞ্জে ফোন পেলেই খাবার নিয়ে ছুটছেন উপজেলা চেয়ারম্যান

প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২১; সময়: ৫:৫৭ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, শিবগঞ্জ : করোনাভাইরাসের সংক্রমণে দিশেহারা খেটে খাওয়া মানুষ। শত কষ্টের মধ্যেও যাঁরা কখনো মানুষের কাছে হাত পেতে খাওয়ার কথা চিন্তাও করেননি, তাঁরাও এখন দুমুঠো ভাতের জন্য অন্যের কাছে হাত পাততে বাধ্য হচ্ছেন। এই যেমন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের প্রতিবন্ধী এক তরুণী। মা-বাবা মারা যাওয়ায় দুই বোনের কষ্টের সংসার। দারিদ্র্য আর শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর থেকেই অভাবের সংসারে দুমুঠো ভাতের জন্য কষ্ট করতে হচ্ছে দুই বোনকে। লজ্জায় কারও কাছে হাত পাততে পারছেন না।

অবশেষে বুধবার মধ্যরাতে ফোন দেন শিবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের নম্বরে। সকালেই সে অসহায় তরুণীর বাসায় চাল, ডাল, সয়াবিন, লবণসহ ব্যাগভর্তি খাবার নিয়ে হাজির হলেন উপজেলা চেয়ারম্যান।

শুধু এই তরুণী নন, এক মাস ধরে কষ্টে থাকা প্রতিবন্ধী, রিকশাচালক, শ্রমিক, গৃহপরিচারিকা, হরিজনসহ ক্ষুদ্র আয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। অচেনা কারও ফোন পেয়ে খাবারভর্তি ব্যাগ নিয়ে বাড়িতে হাজির হয়েছেন, অনাহারে থাকার খবর পেয়ে কারও বাড়িতে ছুটে গেছেন।

বুধবার সকাল থেকেই শিবগঞ্জের আকাশে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। শিবগঞ্জের চরাঞ্চলের বাসিন্দা রূপালী বেগম। ঘরে খাবার নেই। তার স্বামী শরিফ মিয়া রিকশাচালক। এক মাস ধরে রিকশার চাকা ঘোরেনা। রূপালী নিজেও শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতেন। সেই কাজও বন্ধ। দিশেহারা রূপালীকে এক ব্যক্তি উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলামের ফোন নম্বর দেন। সেই নম্বরে ফোন দেওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে রূপালীর অসহায় পরিবারের জন্য খাবারভর্তি ব্যাগ নিয়ে তার বাড়িতে হাজির হন উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম। এসময় সেখানের আরও ৭০টি পরিবারকে খাদ্যসহায়তার প্যাকেট উপহার দেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন, প্রতিদিনই কেউ না কেউ ফোন দিয়ে কষ্টের কথা বলেন। সাধ্যমতো তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি। এ পর্যন্ত ফোন পেয়ে সহস্রাধিক অসহায় পরিবারকে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, গত একমাসে আমি আমাদের পারিবারিক সেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান ‘জিকে ফাউন্ডেশন’ এর অর্থায়নে শিবগঞ্জে প্রায় ছয় লক্ষ মাস্ক বিতরণ করেছি। এছাড়াও গত বছরে করোনাকালীর সময়ে প্রায় বিশ হাজার পরিবারকে খাদ্য সামগ্রীসহ নগদ অর্থিক সহায়তা দিয়েছি।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে