মান্দায় দুর্ভোগের রাস্তায় কিছুটা স্বস্তি

প্রকাশিত: জুলাই ৮, ২০২১; সময়: ৫:২০ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, মান্দা : নওগাঁর মান্দা উপজেলার ফকিন্নি নদীর বামতীর দিয়ে ৯০ দশকের শুরুর দিকে নির্মাণ করা হয়েছিল বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ। পানি উন্নয়নবোর্ডের নির্মিত বাঁধটি এর পর আর সংস্কার করা হয়নি। এতে করে বন্যা ও বৃষ্টির পানিতে দুইধারের মাটি কেটে গিয়ে ছোটবড় অনেক খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এটি। বর্ষা মৌসুমে বহু স্থানে পানি জমে কাদায় একাকার হওয়াসহ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে বাঁধের এ রাস্তা।

তবে এবারে বর্ষার শুরতেই পানি জমার স্থানগুলোতে বালি-মাটি ও রাবিশ (ইটের গুড়া) ফেলে চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া হচ্ছে। ব্যক্তিউদ্যোগে কাজটি করছেন উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গোলাম আজম। ইতোমধ্যে বেশকিছু এলাকা সংস্কার করা হয়েছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মাঝে।

স্থানীয়রা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এ বাঁধটি দিয়ে মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলে ছাড়া অন্যান্য যানবাহন চলাচল করা দুষ্কর। জরুরী প্রয়োজনে এলাকার লোকজনকে কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরে উপজেলা সদরে পৌঁছাতে হয়। বর্ষায় নদীর পানি বাড়লে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় স্থানীয়দের। প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই এ বাঁধ দিয়ে চলাচল করেন অন্তত ১৫ গ্রামের মানুষ।

শিবপুর গ্রামের ওয়াজেদ আলী জানান, ফকিন্নি নদীর মোহনা থেকে ফতেপুর পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার দুরত্বের এ বাঁধটি দিয়ে প্রতিদিন পারনুরুল্লাবাদ, চকহরি নারায়ণ, নিখিরাপাড়া, চককামদেব, দাসপাড়া, শিবপুর, যশোপাড়া, পশ্চিম দুর্গাপুরসহ অন্তত ১৫ গ্রামের লোকজন চলাচল করেন। প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মাণ করা হলেও বাঁধটি আর সংস্কার করা হয়নি।

শিবপুর গ্রামের আকতার হোসেন বলেন, বাঁধটি সংস্কার না হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে কাদায় একাকার হয়ে যায়। নদীর পানি বাড়লে বাঁধের অনেক এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। এসময় বাঁধটি টিকিয়ে রাখতে দিনরাত পাহারা বসিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করেন এলাকার লোকজন।

দাসপাড়া গ্রামের জুলফিকার আলী ভুট্টো জানান, বাঁধটি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকবার ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বতমানে শিবপুর এলাকায় ৫০০ মিটার এলাকা চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গতবছরের বন্যার সময় দুই স্থানে ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। স্থানীয়দের চেষ্টায় ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পায় বাঁধটি।

পথচারী আব্দুল খালেক বলেন, বর্ষায় এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। মেম্বার গোলাম আজম রাস্তাটি সংস্কার করে দিচ্ছেন। এতে করে কিছুটা স্বস্তিতেই যাতায়াত করা যাবে।

ইউপি সদস্য গোলাম আজম বলেন, বাঁধটি পুরোনো হওয়ায় দুইধারের মাটি কেটে গিয়ে ছোটবড় অনেক গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। নিচু হয়ে যাওয়ায় বন্যার পানি বাঁধ উঁপচিয়ে অন্যপারে চলে যায়। বাঁধটি পানি উন্নয়নবোর্ডের আওতাধীন হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বরাদ্দ দিয়ে সংস্কার করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, জনগনের দুর্ভোগ লাঘবে নিজস্ব অর্থায়নে বালি, মাটি ও রাবিশ ফেলে চলাচলের উপযোগী করা চেষ্টা করছি। জরুরী ভিত্তিতে বাঁধটিতে মাটি ফেলে সংস্কার করার জন্য পানি উন্নয়নবোর্ডর প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

নওগাঁ পানি উন্নয়নবোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খান বলেন, বাঁধটির বেশ কিছু এলাকায় মাটি ফেলে উঁচু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো বাঁধটি সংস্কার করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে