পাবনা হাসপাতালে অব্যবস্থাপনায় ৭ জনের মৃত্যুর অভিযোগ

প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২১; সময়: ৯:৩৭ pm |

রাজিউর রহমান রুমী, পাবনা : করোনা উপসর্গ নিয়ে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি তিনজনসহ ৭ জনের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বোবরার দুপুর ১২টা থেকে সোমবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকায় তাদের মৃত্যু হয়।

মৃত ব্যক্তিরা হলেন, পাবনা শহরের দিলালপুর ও গোপালপুর এলাকার নূরে আলম ও নাজমুল ইসলাম, পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর গ্রামের মৃত আলহাজ দায়েন বিশ্বাসের স্ত্রী রাশিদা বেগম, ঈশ্বরদী উপজেলার চরকুরুলিয়া গ্রামের মৃত কোরবান সরকারের স্ত্রী রোকেয়া খাতুন, চরমিরকামারী মাথালপাড়ার জয়েন উদ্দিন খানের ছেলে আমিরুল ইসলাম খান, শৈলপাড়া গ্রামের শাহীনের স্ত্রী রিমা খাতুন এবং মুলাডুলি ইউনিয়নের চকনারিচা বাগাবাড়িয়া গ্রামের রিজু প্রামানিক। মৃতদের সবার বয়স ৭৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।

মৃত্যু রাশিদা বেগমের ছেলে আলমগীর হোসাইন বলেন, আমার আম্মাকে রবিবার দুপুরে ঠান্ডা জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি করেছিলাম। হাসপাতালে অব্যবস্থাপনার কারনে শুরু থেকেই অক্সিজেন ঠিকমত দেয়া হয়নি। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এ-ওর কথা বলে আমাদের চরকির মতো ঘুরিয়েছে। ১০০ বার বলার পরও তারা আমার মায়ের জন্য একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার দেয়নি।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক রোগীর ভাই মামুন হোসেন জানান, হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই বললেই চলে। অনেক ভাল রোগীকে করোনা ইউনিটে ভর্তি করে রেখেছে। আমার বোনকে ১২ দিন আগে ভর্তি করেছি। পরেরদিন করোনা পরীক্ষার নমুনা দিলেও ১১ দিন অতিবাহিত হলেও ফলাফল পাচ্ছিনা। যার কারণে আমাদের রোগী এখন সুস্থ্য হলেও এই ওয়ার্ডে ভর্তি করে রেখেছে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ডা. সালেহ মুহাম্মদ আলী হাসপাতালে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, করোনা উপসর্গ নিয়ে একদম শেষ মুহুর্তে এসে হাসপাতালে ভর্তি হয়। যে কারণে আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু কিছু করার ছিল না। তারা আরো আগে ভর্তি হলে হয়তো এমন হতো না। অব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা সাধ্য মতন চেষ্টা করি।

তিনি আরো বলেন, আমাদের হাসপাতালে করোনার জেনারেল বেড আছে ১’শ, রুগী ভর্তি আছে ১৭ জন, গত ২৪ ঘন্টায় নতুন রুগী ভর্তি হয়েছে ৫ জন। আইসিইউ ও এইচভিইউ নাই, ভেন্টিলেটর আছে ছয়টি, বর্তমান অক্সিজেন সিলেণ্ডারের সংখ্যা ২০৬টি। হাইফ্লো নেজাল কেনোলা আছে একটি। সেন্ট্রাল অক্সিজেন ব্যবস্থাটা এখনও চালু হয়নি। যে কারণে হাই ফ্লো করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেয়া দুরুহ হয়ে পড়েছে।

তবে আজকে আমরা অনেকগুলো বড় সিলিন্ডার একসাথে করে ‘মিনি ফোল্ট’ ব্যবস্থায় করোনা ইউনিটের একশ’ শয্যার মধ্যে ৫৬টি শয্যায় সরবরাহ শুরু করেছি। এতে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা কিছুটা উন্নতি হবে। আর সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্ট চালু করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলেছি। তাদের দ্রুত চালু করার তাগিদ দেয়া হয়েছে।

এদিকে, নতুন করে পাবনায় ১৩৯ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। রোববার সকাল দশটা থেকে গতকাল সোমবার সকাল দশটা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় তারা করোনা আক্রান্ত হন।

পাবনার সিভিল সার্জন ডাক্তার মনিসর চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, উল্লেখিত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ৬৫১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৩৯ জনের পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। গত সাতদিনে জেলায় ৬ হাজার ৭৬৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করে করোনা আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১১৬ জন।

সিভিল সার্জন বলেন, গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় করোনা সংক্রমণের হার ২১.৩৫ শতাংশ। গত এক সপ্তাহে সংক্রমণের হার ১৬. ৪৯ শতাংশ। এ যাবত পর্যন্ত সংক্রমণের হার ০৫.১৭ শতাংশ। করোনা পজিটিভ রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৩০ জন। ২৪ ঘন্টায় সুস্থ্য হয়েছেন ২৫ জন। গত এক সপ্তাহে সুস্থ্য রোগীর সংখ্যা ১৩৭ জন। জেলায় সুস্থ্যতার হার ২৪ ঘন্টায় ১৭.৯৯ শতাংশ আর সাতদিনে এই হার ১২.২৮ শতাংশ।

এদিকে পাবনায় করোনা ভাইরাসে সংক্রমণ বাড়তে থাকলেও এখনো করোনার চিকিৎসায় তেমন অগ্রগতি হয়নি। পিসিআর ল্যাবের অনুমোদন হলেও এখনো তা স্থাপন হয়নি। এ ছাড়া করোনা চিকিৎসায় পাবনা জেনারেল হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহের কাজ এখনো শেষ হয়নি। এ অবস্থায় করোনা সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে