নিয়ামতপুরে বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের তৎপরতা

প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২১; সময়: ১২:৩১ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিয়ামতপুর : করোনাভাইরাসরে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকার ঘোষিত এক সপ্তাহের সর্বাত্মক লকডাউন বাস্তবায়নে ৫ম দিনেও নওগাঁর নিয়ামতপুরে বিভিন্ন বাজার ও রাস্তায় উপজেলা প্রশাসন, আইন শৃংখলা বাহিনীর কঠোর তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। সেই সাথে সার্বিকভাবে প্রশাসনকে সহযোগিতা করে যাচ্ছেন উপজেলা আওয়ামীলীগ, ছাত্ররীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগের সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবক টিম হিসাবে।

সার্বক্ষনিক টহলে রয়েছেন সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‌্যাব। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ, নির্বাহী অফিসার জয়া মারীয়া পেরেরা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিলুফা সরকার ও অফিসার ইন চার্জ হুমায়ন কবির উপজেলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত ছুটে বেড়াচ্ছেন কঠোর লকডাউন, বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি পালনে। উপজেলার আটটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান তাদের নিজেদের উদ্যোগে আটটি স্থানে দলীয় নেতাকর্মী ও স্কাউট সদস্যদের নিয়ে বুথ তৈরী করে সার্বক্ষনিক নজরদারী করছেন। জনগণকে সচেতন করে যাচ্ছেন।

সোমবার নিয়ামতপুর উপজেলার সদর, ছাতড়া, গাবতলী, বামইন, শিবপুর, পানিহারা, নিমদীঘি, গাংগোর বাজার ঘুরে দেখা যায় সবকটি বাজারে লোক সমাগম একেবারে নেই বললেই চলে, শুধুমাত্র নিয়ামতপুর সদর ও ছাতড়া হাটবার হওয়ার কারণে লোক সমাগম কিছুটা বেশী। তবে সাধারণ মানুষের মাঝে মাস্ক পরার প্রবণতা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে।

কঠোর লকডাউনের পঞ্চম দিনের মাথায় নওগাঁর নিয়ামতপুরে করোনা সংক্রমণ অনেকটাই কমতে শুরু করেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ মোঃ তোফাজ্জল হোসেন বলেছেন, সবাই লকডাউন মেনে চললে এই হার আরো দ্রুত কমে যাবে।

এদিকে প্রশাসন করোনা সংক্রমণ আরো কমাতে সরকারের নির্দেশনাবলী কঠোর ভাবে পালনের জন্য সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান। কঠোর লকডাউনে সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করে সকাল ৬টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত শুধুমাত্র মুদিখানার দোকান খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। পাশাপাশি সবজি বাজারগুলোকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে উম্মুক্ত স্থানে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। উপজেলায় চালু রাখা হয় গ্রামীণ হাটগুলো।

এদিকে এত কড়াকড়ির পরেও উপজেলার গ্রামা লের মানুষ প্রথম দুদিন ঘরে থাকলেও তৃতীয় দিন থেকে দিনে রাস্তায় সাধারণ মানুষের চলাচল কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিশেষ বিশেষ মোড় ও বাজারগুলোকে পুলিশ ও প্রশাসনের বিশেষ নজরদারী থাকার কারণে ঐসব স্থানে ঔষুধের দোকান ছাড়া সবকিছুই বন্ধ রয়েছে।

উপজেলায় এ পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১ হাজার ৮শ ৮৩ জনের, সংক্রমিত হয়েছে ৪শ ১১ জন, রির্পোট আসে নাই ৩১ জনের, উপজেলায় বর্তমান করোনা সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা ৩০জন। হাসপাতালে কোন রোগী ভর্তি নাই। গত ৩ এবং ৪ তারিখে ২১টি নমুনা এন্টিজেন এ পরীক্ষা করা হয়েছে তাতে সবকটিই নেভেটিভ এসেছে। তবে উপজেলায় নমুনা পিসিআর ল্যাব থেকে রির্পোট আসতে অনেক দেরী হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্য বিভাগ। উপজেলায় সর্বশেষ ২৫ জুনের পাঠানো নমুনার রির্পোট এসেছে। এর পরে আর কোন রির্পোট আসে নাই। এত দেরী হওয়ার কারণও জানাতে পারিনি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে