নন্দীগ্রামে কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় খামারি ও কৃষকরা

প্রকাশিত: জুলাই ৫, ২০২১; সময়: ১১:২৪ am |

অদ্বৈত কুমার আকাশ, নন্দীগ্রাম : বগুড়ার নন্দীগ্রামে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর উপজেলার খামারি ও কৃষকরা হাজার হাজার গরু, ছাগল ও ভেড়া লালন-পালন করেন। এ বছর কোরবানি উপলক্ষ্যে পশু মোটাতাজাকরণ করে আতঙ্কে রয়েছে খামারি ও কৃষকরা।

তাদের শঙ্কা করোনা পরিস্থিতির কারনে যদি ঈদুল আজহা পর্যন্ত লকডাউন স্থায়ী হয় তাহলে গরু বেচাকেনা হবে না। সেক্ষেত্রে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে খামারি ও কৃষকদের। এ উপজেলার খামারি ও কৃষকদের দাবি ঈদের আগেই যেন সরকার গরু যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তুলে নেয়। সেই সাথে ভাল দামে গরু বিক্রি করতে পারে তারা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খামারি ও কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, করোনার এই ক্রান্তিকালে তারা বড় দুশ্চিন্তায় আছেন। একটি গরু মোটাতাজাকরণ করতে অনেক বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ করতে হয়েছে। তাই ঈদে যদি গরুগুলো বিক্রি করতে না পারে তাহলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে এ সকল খামারি ও কৃষকরা।

উপজেলার রণবাঘার গরুর খামারি আব্দুস সালাম লাদু বলেন, এবার কোরবানিতে বিক্রির জন্য আমি ১৬ টি গরু লালন-পালন করেছি। করোনা নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। আমার এই গরুগুলো নায্য দামে বিক্রি করতে পারবো কি না। লকডাউন থাকায় হাট-বাজারের বেচাকেনার হালচাল বোঝা যাচ্ছে না। ভাবছি গরুগুলো ঢাকায় নিয়ে গিয়ে বিক্রি করবো। এখন ঠিকমতো গাড়ি পাওয়া যাবে কি না। ঢাকাতে হাট হবে কি না। অনেক চিন্তায় আছি ভাই।

মথুরাপুর গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান জানান, আমাদের এলাকায় বড় গরু চেয়ে ছোট ও মাঝারি গরু বেশি। এছাড়া অনেকেই ছাগল ও ভেরা পালন করে। আমি ৪ টি গরু লালন-পালন করেছি কোরবানিতে বিক্রির জন্য। এভাবে যদি লকডাউন থাকে তাহলে গরু কে কিনবে। আবার এই গরু লালন-পালনে খরচও অনেক। তাই লোকসান হলেও গরু বিক্রি করতে হবে। গো-খাদ্যের দাম অনেক বেশি। একটি গরুর পিছে প্রতিদিন প্রায় দেড়শো টাকা খরচ হয়।

নাগরকান্দি গ্রামের কৃষক সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, গরু লালন-পালন করে এখন আর তেমন লাভ হয় না। গো-খাদ্যের দাম অনেক বেশি। ১ বিঘা জমির খড় কিনতে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা লাগে। প্রতি কেজি ভূষি ৪৫ টাকা, খুদ ৪০ টাকা, ব্যন্ড ৪০ টাকা, খোইল ৪০ টাকা ও ফিড ৫০ টাকায় কিনতে হয়। এছাড়া অনেক ধরনের ওষুধও লাগে।

থালতা গ্রামের বাবলু হোসেনের স্ত্রী মিনা আক্তার জানান, করোনার কারনে আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। আমি কোরবানিতে বিক্রির জন্য ৮ টি খাসি লালন-পালন করেছি। ভাবছি ভালো দামে এই খাসিগুলো বিক্রি করতে পারবো কি না।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা অরুনাংশু মন্ডল জানান, এই উপজেলায় খামারি ও কৃষকদের বাড়িতে সরকারি হিসেবে প্রয় ২১ হাজার গরু ও ছাগল রয়েছে। খামারি ও কৃষকরা এখন কোরাবানির জন্য গরু ও ছাগল লালন-পালন করে বিক্রয়ের জন্য অপেক্ষা করছে।

তিনি আরো বলেন, আমি মাঠ কর্মীদের মাধ্যমে খামারি ও কৃষকদের গরুর ছবি তুলে আমাদের অনলাইন প্লাটফর্মে তা আপলোড করে বিক্রয়ের জন্য দিচ্ছি। এছাড়া কোরবানির পশু হাট শুরু হলে আমাদের ভেটেরিনারি চিকিৎসক সেখানে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য থাকবেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে