মান্দায় বন্যার আশঙ্কায় আড়াই হাজার পরিবার

প্রকাশিত: জুলাই ৪, ২০২১; সময়: ৬:০৯ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, মান্দা : নওগাঁর মান্দায় গত কয়েকদিনের বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে একটু একটু করে বাড়ছে আত্রাই নদীর পানি। আর একটু বাড়লেই গতবারের বন্যায় ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধের স্থানগুলো দিয়ে অনায়াসে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করবে। এতে করে বন্যাকবলিত হয়ে পড়বেন বেড়িবাঁধের ভেতরে বসবাসরত অন্তত আড়াই হাজার পরিবার।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বেড়িবাঁধের ভাঙনস্থানগুলো মেরামতের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে বারবার ধর্ণা দিয়েও কোন কাজ হয়নি। বেড়িবাঁধের অনেক জায়গা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এটি। নদী বাড়লেই ভাঙনস্থান দিয়ে পানি ভেতরে প্রবেশ করবে। এতে তলিয়ে যাবে ক্ষেতের ফসল। বন্যার কবলে পড়বেন অন্তত ১০ হাজার মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার ফকিন্নি নদীর মোহনা থেকে আত্রাই নদীর ডানতীরের ১০ কিলোমিটার বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গতবছরের বন্যায় এ বাঁধের পার-নুরুল্লাবাদ উত্তরপাড়া, জোকাহাট, চকরামপুর ও কয়লাবাড়ী এলাকায় ৬ স্থানে ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। বর্তমানে বাঁধটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বন্যা শুরু হলে বাঁধটির যেকোনে স্থানে ভেঙে এবছরও বন্যাকবলিত হবে হাজার হাজার মানুষ। অন্যদিকে বেড়িবাঁধের ভাঙনস্থান মেরামত না হওয়ায় বন্যার শঙ্কা মাথায় নিয়েই সময় পার করছেন অন্তত আড়াই হাজার পরিবার।

উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও চকরামপুর গ্রামের বাসিন্দা ইব্রাহীম হোসেন জানান, ২০১৭ সালের বন্যায় জোকাহাট থেকে চকরামপুর, কয়লাবাড়ী হয়ে বটতলা মোড় পর্যন্ত বেড়িবাঁধের দুইস্থান ভেঙে যায়। ভাঙনস্থান দুইটি মেরামতের জন্য জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়নবোর্ড, এলজিইডিসহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেও কোন কাজ হয়নি। নদীর পানি বাড়লেই লোকালয়ে পানি চলে আসবে। এতে করে বন্যার কবলে পড়বেন হাজার হাজার মানুষ।

পার-নুরুল্লাবাদ উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নাসির উদ্দিন বলেন, নদীর পানি বাড়লেই তলিয়ে যাবে বসতবাড়িসহ ক্ষেতের ফসল। বারবার বন্যার কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়েছে এলাকার মানুষ। পথে বসার উপক্রম হয়েছে অনেকে।
একই এলাকার বাসিন্দা মনসুর রহমান বলেন, বেড়িবাঁধটি উঁচু করে নির্মাণসহ নদীর কিনার দিয়ে দিতে হবে সিসি ব্লক। তাহলে বাঁধটি ভাঙার আর সম্ভবনা থাকবে না। এতে করে বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাবেন এলাকার মানুষ।

কৃষক সামসুল আলম বলেন, বেড়িবাঁধটি খোলা থাকায় পানি সহজেই বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে আঘাত হানবে। এতে দুর্বল বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধটির যেকোন স্থানে আবারো ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বনকুড়া গ্রামের আব্দুল জব্বার জানান, গতবারের বন্যায় বন্যানিয়ন্ত্রণ মূল বাঁধের ভাঙনস্থানগুলো মেরামতসহ মাটির কাটার কাজ শুরু করেছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু দীর্ঘ সময়ে সামান্যই কাজ হয়েছে। বাঁধটি পুরো মেরামত না হওয়ায় আবারো ভেঙে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

নুরুল্লাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাহাঙ্গীর আলম জানান, ইতোপূর্বে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ দিয়ে বেড়িবাঁধটি মেরামত করে টিকিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু গতবছর বন্যার তোড় বেশি হওয়ায় বেড়িবাঁধসহ মূল বাঁধ ভেঙে যায়। কিন্তু বরাদ্দ না থাকায় বেড়িবাঁধটি মেরামত করা সম্ভব হয়নি। পানি বিপদসীমা অতিক্রম করলেই বন্যাকবলিত হবে বেড়িবাঁধের ভেতরে বসবাসরত লোকজন।

নওগাঁ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান খান বলেন, ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধগুলো তার দপ্তরের আওতাধীন নয়। স্থানীয়ভাবে বরাদ্দ দিয়ে এগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। নদীর ধারে অপরিকল্পিত বেড়িবাঁধ নির্মাণ সঠিক হয়নি।

পাউবোর এই প্রকৌশলী আরো বলেন, বন্যানিয়ন্ত্রণ মূল বাঁধটি পানি উন্নয়ন বোর্ডের। এটির মেরামতের কাজ চলছে। পর্যায়ক্রমে পুরো বাঁধ মেরামত করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে