নিয়ামতপুরে মাঠে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর কঠোর নজরদারী

প্রকাশিত: জুলাই ৩, ২০২১; সময়: ৫:৪৫ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিয়ামতপুর : করোনা ভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে সরকার ঘোষিত এক সপ্তাহের সর্বাত্মক লকডাউন বাস্তবায়নে তৃতীয় দিনেও নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলা প্রশাসন কঠোর তৎপর রয়েছে। উপজেলা প্রশাসনকে মাঠে সার্বিক সহযোগিতা করছেন পুলিশ প্রশাসন। পাশাপাশি সার্বক্ষনিক টহলে রয়েছেন সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র‌্যাব। উপজেলায় আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। এ নিয়ে উপজেলায় করোনা সংক্রমিত হয়ে ১৪জন এবং উপসর্গ নিয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার নিয়ামতপুর উপজেলার সদর, রামনগর মোড়, রামকুড়া বাজার, চান্দইল বাজার, বালাতৈড় বাজার, আঘোর বাজার, খড়িবাড়ী বাজার, ধানসা বাজার, বরেন্দ্র বাজারে উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা টহল দেন। এ সমস্ত বাজার ঘুরে দেখা যায় সবকটি বাজারে লোক সমাগম একেবারে নেই বললেই চলে, শুধুমাত্র খড়িবাড়ীতে আজ হাটবার হওয়ার কারণে লোক সমাগম কিছুটা বেশী। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝে মাস্ক পরার প্রবনতাও অনেক কম। প্রচন্ড গরমের কারণে তারা নাকি মাস্ক পরতে পারছেন না। অপরদিকে বরেন্দ্র হাটে পশু বেচাকেনা বন্ধ থাকার কথা থাকলেও রাস্তার ধারেই ছাগল বেচাকেনা করতে দেখা গেছে।

উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান অভিযানকালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিলুফা সরকার লকডাউন অমান্য করে যারা দোকান খোলা রেখেছেন ও মাস্ক পরেন নাই তাদেরকে জরিমানা করেন।

বিনা প্রয়োজনে যারা ঘর থেকে বের হয়েছে তাদের পুনরায় বাড়িতে ফেরত পাঠান প্রশাসন ও পুলিশ সদস্যরা। কঠোর লকডাউনের তুতীয় দিনের মাথায় নওগাঁর নিয়ামতপুরে করোনা সংক্রমণ কিছুটা কমতে শুরু করেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ মোঃ তোফাজ্জল হোসেন বলেছেন, সবাই লকডাউন মেনে চললে এই হার আরো দ্রুত কমে যাবে।

প্রশাসন করোনা সংক্রমণ আরো কমাতে সরকারের নির্দেশনাবলী কঠোর ভাবে পালনের জন্য সবাইকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান। কঠোর লকডাউনে নওগাঁর নিয়ামতপুরে শুধু সবজি বাজারগুলোকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই সুযোগে নিয়ামতপুর উপজেলায় চালু রাখা হয় গ্রামীণ হাটগুলো। তবে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন মুদির দোকান বন্ধ রাখায় অনেক খেটে খাওয়া মানুষের চরম ভোগান্তি হচ্ছে বলে অনেকে জানান। চাল পর্যন্ত কিনতে পারছেন না তারা। বিষয়টি প্রশাসনকে একটু বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

এদিকে এত কড়াকড়ির পরেও উপজেলার গ্রামাঞ্চলের মানুষ প্রথম দুদিন ঘরে থাকলেও তৃতীয় দিনে রাস্তায় সাধারণ মানুষের চলাচল কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে বিশেষ বিশেষ মোড় ও বাজারগুলোকে পুলিশ ও প্রশাসনের বিশেষ নজরদারী থাকার কারণে ঐসব স্থানে ঔষুধের দোকান ছাড়া সবকিছুই বন্ধ রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে