করোনাকালে কোরবানির গরু নিয়ে দুশ্চিন্তায় কুষ্টিয়ার খামারিরা

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২১; সময়: ১০:০৫ pm |

জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া : কোরবানির বাজারে কুষ্টিয়ায় পালন করা গরু ছাগলের চাহিদা বরাবরই আলাদা। তবে করোনার কারণে এবার কুষ্টিয়া অঞ্চলের হাজার হাজার গো-খামারী ও কৃষকদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। কুরবানী আসন্ন তাই দুশ্চিন্তা পিছু ছাড়ছে না তাদের। প্রতি বছর রোজার ঈদের পর থেকেই কোরবানীর পশু কেনাবেচা শুরু হয়। অথচ এবার কোরবানির ঈদের হাতে গোনা কয়েক দিন বাকী থাকলেও এলাকায় পশু কেনাবেচা শুরু হয়নি।

জেলায় সরকারী হিসাব মতে এবারের কোরবানির ঈদের জন্য ৯০ হাজার গরু ও ছাগল প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে স্থানীয় সূত্রগুলোর মতে, এই সংখ্যা দ্বিগুনেরও বেশি। প্রতিবার রোজার পরপরই কোরবানীর পশু কিনতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ী এবং সাধারণ ক্রেতা গরু ও ছাগল কিনতে কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়ান। খামারী এবং কৃষকের বাড়ি থেকেই এখানে পালন করা গরু ছাগলের একটি বড় অংশ বিক্রি হয়। এতে গোখামারী ও চাষীরা বড় ধরনের দুশ্চিন্তামুক্ত হন।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার ব্যাপারী ও ব্যবসায়ীদের দেখা মিলছে না। করোনার কারণে কেউ এলাকায় ভয়ে আসছে না। তাছাড়া কুষ্টিয়া অঞ্চলে করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই মুত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় চলছে কঠোর লকডাউন। সারাদেশের সাথে কুষ্টিয়ার সড়ক ও রেল পথের যোগাযোগ বন্ধ থাকায় অন্য জেলা থেকে ব্যাপারী ও ব্যবসায়ীরা আসতে পারছেন না। আবার কুষ্টিয়ার সকল পশু হাট বন্ধ থাকায় ব্যাপারীরা পড়েছে আরো বিপাকে।

সদর উপজেলার কুমারগাড়া গ্রামের এনামুল মেম্বার জানান, এলাকায় প্রচুর ছোট এবং বড় গরু রয়েছে। কোরবানির বাজারে দেশী জাতের এবং ছোট গরুর চাহিদা এলাকায় বেশি। কুরবানীর আগে সড়কে গরুবাহী ট্রাকের যাতায়াত সহজ করার ব্যাপারে সরকারকে আন্তরিক হতে হবে।

সদর উপজেলার কবুরহাট গ্রামের গো-খামারী শাওন কাটেল ফার্মের স্বত্বাধিকারী আব্দুল মজিদ জানান, প্রতি বছর গরু নিয়ে চট্রগ্রামে যায়। এবারো যাওয়ার নিয়তে প্রস্তুতি নিয়েছি। ৫০টি গরু ইতিমধ্যে রেডি করেছি কিন্তু করোনার কারণে এবার কোরবানীর বাজার কি হবে তা নিয়ে সংশয়ে আছি।

তিনি বলেন, আমার খামারের সব গরুই বড় আকারে। ৯ মণ থেকে শুরু করে ১৪ মণ পর্যন্ত গরুর গুলোর ওজন। ভাল পরিবেশ পেলে চট্রগ্রামে গরু নিয়ে যাবো। আশা করছি এবার ভাল মুল্য পাবো তবে করোনার কারনে সামনের দিনগুলোতে কি অবস্থা হবে তা ভেবেই কুল পাচ্ছি না।

আইলচারা গ্রামের কৃষক আব্দুর রহমান জানান, তার স্ত্রী ২টি গরু লালন পালন করেছেন কোরবানীতে বিক্রির জন্য। বেশি মূল্যের গো-খাদ্য ও আনুসাঙ্গিক অনেক খরচ হয়েছে জানি না কি হবে। তিনি জানান, এলাকার ঘরে ঘরে গরু আর ছাগল রয়েছে।

শিমুলিয়া গ্রামের চাষী ইসমাইল জানান, এলাকায় বড় গরুর চেয়ে ছোট ও মাঝারী গরু বেশি। করোনার কারনে গোখামারী ও কৃষকেরা আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। করোনার কারনে হাট বন্ধ থাকায় বেচাকেনার কোন হাল বুঝা যাচ্ছে না।

সদর উপজেলার বটতৈল, কবুরহাট, স্বস্তিপুর, হাতিয়া, ঝাউদিয়া, জিয়ারখি, মোল্লাতেঘরিয়া, কাঞ্চনপুর, পাটিকাবাড়ি, হাতিয়া আব্দালপুর, উজানগ্রাম, কুমারখালী উপজেলার বাঁশগ্রাম,পান্টি, সাঁওতা, পাহাড়পুর, মধুপুর, সান্দিয়ারাসহ সব এলাকায় এবারো ঘরে ঘরে গরু দেখা যাচ্ছে। জেলার বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ী এবং কৃষকেরা গরু নিয়ে ঢাকা, চট্রগ্রাম, সিলেট এলাকার বিভিন্ন গরুর হাটে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এলাকার গো-খামারী ও কৃষকেরা আশা করছেন ঈদের আগেই করোনা পরিস্থিতি ভাল হবে এবং সরকার গরু যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তুলে নিবে সেই সাথে ভাল দামে গরু বিক্রি করে লাভবান হবে।

জেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ সিদ্দিকুর রহমান জানান-জেলায় খামারী ও কৃষকদের বাড়িতে সরকারী হিসাবে ৯০ হাজারের বেশি গরু এবং ছাগল রয়েছে। এর মধ্যে ৬০ হাজার গরু আর ৩০ হাজার ছাগল রয়েছে। তিনি জানান-জেলায় পর্যাপ্ত গরু এবং ছাগল রয়েছে। খামারী এবং কৃষকদের বাড়িতে বাড়িতে কোরাবানীর জন্য গরু ও ছাগল লালন পালন করে অপেক্ষা করছে তবে এই করোনার মাঝে হাট বন্ধ থাকায় কি অবস্থা হবে তা কিছুই বোঝা যাচ্ছে না।

তিনি জানান, হাটে না যেয়ে অনলাইনে গরু এবং ছাগল বিক্রির বিষয়ে জোর দিচ্ছি। আমাদের উপজেলা এবং জেলা অফিস অন লাইনে গরু-ছাগল কেনা ও বিক্রির জন্য সহযোগিতা করে যাচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে