বদলগাছীতে আপন ভাবির অর্ধনগ্ন ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২১; সময়: ৮:৫৪ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, বদলগাছী : নওগাঁর বদলগাছীতে এক গৃহবধুর (৩৮) গোপনে মোবাইল ফোনে অর্ধনগ্ন ছবি তুলে বিভিন্ন সময় ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায় করছে দুই দেবর। অর্থ না দিলে অর্ধনগ্ন ছবিগুলি ফেইসবুকের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার বারবার হুমকি দিলে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে অবশেষে মামলা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বিলাশবাড়ি ইউনিয়নের শর্মাপুর নামক গ্রামে।

অভিযুক্ত এনামুল হোসেন ওরফে মামুন ও ফরহাদ হোসেনের নামে গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় মামলা করেন ভুক্তভোগী ঐ গৃহবধু। মামলার প্রেক্ষিতে এনামুল হোসেন ওরফে মামুন (৩৮) নামের আসামীকে তাঁর নিজ বাড়ির এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ ।

থানা সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২৭ থেকে ২৮ বছর আগে ঐ গৃহবধুর বিয়ে হয়। ঐ দম্পতির ঘরে ২টি কন্যা সন্তান আছে। গত ১৪ থেকে ১৫ বছর আগে এনামুল হোসেন ওরফে মামুন গোপনে ওই গৃহবধূর অশ্লীল অর্ধনগ্ন ছবি তোলেন। পরে ছবিটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ওই গৃহবধুর কাছ থেকে বিভিন্নভাবে টাকা আদায় করে আসছিলেন। পরে তার ছোট ভাই ফরহাদ হেসেন তার বড় ভাই মামুনের কাছ থেকে ছবিটি পায়। ছবিটি পাওয়ার পর একইভাবে ফরাদ হোসেনও ওই গৃহবধুকে ভয় দেখিয়ে পর্যায়ক্রমে টাকা নিতে থাকেন। পরবর্তীতে গৃহবধু তাদেরকে আর টাকা না দিতে চাইলে তারা দুই ভাই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে গৃহবধু বিষয়টি তার বড় মেয়েকে খুলে বলেন। তখন বড় মেয়ে ১ নং বিবাদী এনামুল হোসেন ওরফে মামুনের (চাচা) কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঘটনাটির বিষয়ে জানতে চাইলে বিবাদী আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

গত ২৭ জুন দুপুর ১২টা ৫৮মিনিটে মামুন তার ইমো আইডি থেকে ওই গৃহবধুর বড় মেয়ের ইমো আইডিতে তার মায়ের অর্ধনগ্ন ছবি পাঠায়। এরপর ঐ গৃহবধু ১ জুলাই থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে রাত সাড়ে ১০টায় থানায় মামলা দায়ের হয়।

ওই গৃহবধু বলেন, আমার স্বামী সেনাবাহিনীতে চাকুরী করছিলেন। সেই সুবাদে দীর্ঘদিন আমি বাড়িতে একা থাকতাম। এনামুল হোসেন ওরফে মামুন ও ফরহাদ হোসেন আমার স্বামীর আপন ভাই। ১৪ থেকে ১৫ বছর আগে আমার দেবর মামুন ও ফরহাদ গোপনে আমার অর্ধনগ্ন ছবি তুলে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময় আমার কাছ থেকে টাকা নিচ্ছিলো। পরে বিভিন্নভাবে ভয় দেখায় সেই ভয়ে আমি তাদেরকে টাকা দিয়ে আসছিলাম।

তিনি আরও বলেন, আমার স্বামী রিটায়ার্ড করার পর বাড়িতে চলে আসেন। তারপরও তারা আমার কাছে বিভিন্ন সময় টাকার দাবী করলে আমি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় ঐ ছবি আমার বড় মেয়ের ইমোতে দিয়ে দেয় মামুন। বিষয়টি আমার স্বামীর সাথে আমি আলাপ করি। বিনা অপরাধে সম্মান হারাচ্ছি আমি। মামলা করার পর এনামুল হোসেন ওরফে মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। আমি জড়িতদের কঠিন শাস্তি চাই।

এ বিষয়ে বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগী ঐ গৃহবধুর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মামলা রেকর্ড করে ১নং আসামী এনামুল হোসেন ওরফে মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ২য় আসামী ফরহাদ হোসেন পলাতক রয়েছে। তাকেও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গ্রেপ্তারকৃত মামুনকে শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • 104
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে