বিধি ভঙ্গ করে এনায়েতপুর হাটে জনসমাগম

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২১; সময়: ৮:৩৭ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ : করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রনে চলমান লকডাউনের বিধি ভঙ্গ করে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর হাটে হাজার-হাজার মানুষের জনসমাগম হয়েছে। শুক্রবার দিন ব্যাপী চলা জেলার এই বৃহৎ হাটে বৃষ্টি উপক্ষো করে অসংখ্য মানুষের ভীড় লক্ষা করা গেছে। অধিকাংশ মানুষের মুখে ছিলনা মাস্ক। বিধি ভঙ্গ করেই ছিল মানুষের অবাদ বিচরন। এদিকে থানার সাথের হাটটিতে এমন অবস্থা থাকলেও পুলিশ কোন পদক্ষেপ নেয়নি। তবে জেলা প্রশাসক পদক্ষেপ নেবার কথা জানিয়েছে।

জানা যায়, প্রতি সপ্তাহে এনায়েতপুরে কাপড়ের হাট হিসেবে ৪ দিন ও সপ্তাহের মুল হাট শুক্রবার বসে থাকে। এদিন খাদ্য-পন্য, পোশাক, সুতা সহ যাবতীয় জিনিস পত্রের হাজারো দোকান-পাট বসে থাকে। লকডাউনের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার ঠিক একই ভাবে বিধি নিষেধ অমান্য করে বসেছিল বিশাল এই হাট। নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্রের পাশাপাশি গরু-ছাগল, সুতা, পোশাক, সহ বিধিতে নিষেধ করা সব ধরনের দোকান-পাটের পসরা সাজিয়ে বসেছিল ব্যবসায়ীরা। থানা পুলিশকে ম্যানেজ করে হাটটি লাগালো হবে বলে আগে থেকেই প্রচারনা চালিয়ে ইজারদার তা লাগিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এদিকে শুক্রবার হাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গরু ছাগলের বিশাল হাট। সকালে বৃষ্টি উপক্ষো করে সহস্রাদিক গরু ছাগল উঠেছিল গরুর হাটে। এখানে গাদাগাদি করেই ক্রেতা বিক্রেতার অবস্থান ছিল। অধিকাংশ মানুষের মুখে ছিলনা মাস্ক। একই সাথে প্রচন্ড বীড় ছিল তরকারী পট্টি, মাছ-মাংস, চাল, ডাল, পোশাক, সুতা ও অন্যান্য পট্টিতে। দিনভর ছিল হাটে আসা ভ্যান, ট্রাক ও টেম্পু, নসিমনের যানজট। কেউ লকডাউন মানেননি।

হাটে শাহজাদপুরের পাচিল থেকে গরু নিয়ে আসা রইজ, হোসেন, বেলকুচির দৌলতপুরের আবুল হোসেন ও স্থল চরের ইদ্রিস আলী জানান, আমরা ভেবেছিলাম করোনার লকডাউনে হাট লাগবে না। বৃহস্পতিবার আগেই হাটুরে গরুর ব্যবসায়ীদের জানানো হয়েছে থানাকে ম্যানেজ করে হাট লাগানো হবে। তাই মুখে-মুখে শুনে হাটে এসেছি। দেখলাম আসলেই কোন সমস্যা নেই। পুলিশও কিছু বলেনি। আমাদের মত আরো হাজার-হাজার মানুষ এসেছে। তবে বিক্রি কম।

এদিকে হাটের অন্যান্য সকল পট্টিতে ছিল ব্যাপক ভীড়। সকালে বৃষ্টি উপক্ষো করে মানুষ এসেছিল নিত্য প্রয়োজনীয় সব জিনিস পত্র কিনতে। এ ব্যাপালে বেতিল গ্রামের আসাদুল ইসলাম, এনায়েতপুরের সোহরাব আলী, খোকশাবাড়ি গ্রামের ইচাহাক হোসেন জানান, হাট লাগবে না ভেবে বাড়িতে ছিলাম। প্রচুর বৃষ্টিও ছিল। সকাল ১১ টার দিকে বৃষ্টি কমলে হাটে গিয়ে দেখি ব্যাপক সমাগম। তা প্রায় ২০ হাজারের মত মানুষ। তাই হাটে গিয়ে বাজার-সদাই করেছি। তবে ভয় লেগেছে একটাই, আমাদের মুখে মাস্ক থাকলেও হাটে আসা ৯০ ভাগ মানুষের মুখে কোন মাস্ক ছিলনা।

বিষয়টি নিয়ে এনায়েতপুর হাটের ইজাদার ফজলু ব্যাপারী মুঠো ফোনে বার-বার যোগাযোগ করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

তবে এনায়েতপুর থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, হাটে তেমন সমাগম নেই। চরের মানুষ না জেনে গরু নিয়ে আসতে পারে।

এদিকে এনায়েতপুর হাটে বিধি ভঙ্গ করে অসংখ্য মানুষের সমাগম বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মদ বলেন, সবাইকে সচেতন করতে আমাদের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে কেন এমন হলো আমি খবর নিচ্ছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে