চলনবিল অঞ্চলে নৌকা তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা

প্রকাশিত: জুলাই ২, ২০২১; সময়: ৬:১২ pm |

নূর ইসলাম রোমান, তাড়াশ : দেশের সবচেয়ে বড় বিল হিসেবে স্বীকৃত চলন বিল। আসছে বন্যার পানি। এ বিলের নিচু এলাকাসহ মাঠ-ঘাট এখনো তলিয়ে না গেলেও বর্ষাকে মোকাবেলা করার জন্য বিল অঞ্চলের মানুষ নৌকা তৈরি ও মেরামতের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

বন্যা দেখা দিলেই বিল অঞ্চলের অনেকেই এই কাজের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। কেউ করছেন নৌকা তৈরি, কেউবা করছেন মেরামত। আর এসব ছোট ছোট নৌকা বিক্রি হচ্ছে স্থানীয় বিভিন্ন হাটবাজারে।

চলন বিলের ৯টি উপজেলার অধিকাংশ এলাকাই বন্যাপ্রবণ। ফলে বর্ষা মৌসুমে তলিয়ে যায় রাস্তা-ঘাট। এ সময় চলাচলের একমাত্র মাধ্যম নৌকা, ডিঙি নৌকা বা তালের ডিঙি।

চলন বিলের মানুষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের প্রধান বাহন হিসেবে কাজে লাগায় নৌকাকে। তাছাড়াও চলন বিলের মিঠা পানির মাছ শিকারের জন্য এ ছোট ছোট ডিঙি নৌকা ব্যবহার হয়ে থাকে। তাই বন্যার মৌসুম আসার শুরু থেকেই নৌকা তৈরি ও মেরামতে ব্যস্ত সময় পার করছেন নৌকা তৈরির কারিগররা।

বিভিন্ন গাছের কাঠ দিয়ে ১০ থেকে ১২ হাত নৌকা তৈরি করতে খরচ পড়ে প্রায় ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা। যা ব্যবহার হয় মাছ শিকার ও সীমিত সংখ্যক মানুষ পারাপারের জন্য। এছাড়াও দুরে ভ্রমণ ও বেশি মালামাল বহনের জন্য তৈরি করা হয় ইঞ্জিন চালিত বড় নৌকা।

তাড়াশের মান্নান নগর এলাকার নৌকা তৈরির কারিগর আব্দুল গফুর মিয়া বলেন, আমরা এ নৌকা তৈরির কাজ অনেকটাই বাণিজ্যিকভাবেই করে থাকি। গ্রাহকের কাছ থেকে কাজের অর্ডার নিয়ে কাঠ কিনে নৌকা তৈরি করে বিক্রি করি।

তাড়াশের নওগাঁ হাটের নৌকা বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন কারখানায় তৈরি করা নৌকা কিনে এনে হাঁটে হাঁটে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করি। এছাড়াও বন্যার সময় চলন বিলে নৌকার চাহিদা প্রচুর।

নৌকা ক্রেতা তাড়াশের নাদাসৈয়দপুর গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান, বন্যায় নিচু সড়ক ডুবে যায়। তাই পরিবারের সদস্যদের পারাপার করার জন্য ২ হাজার ৬০০ টাকা দিয়ে নৌকা কিনেছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে