বাংলাবাজার-শিমুলিয়ায় ফেরিতে কিছুটা কমেছে যাত্রীর ভিড়

প্রকাশিত: জুন ২৯, ২০২১; সময়: ২:১৬ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে ঢাকা থেকে আসা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলমুখী যাত্রীরা এখনো ফেরিতে পদ্মা পারাপার হচ্ছে। মাদারীপুরের বাংলাবাজার ও মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া নৌপথে রাজধানী ঢাকা থেকে আসা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলমুখী যাত্রীরা এখনো ফেরিতে পদ্মা পার হচ্ছেন। তবে গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে যাত্রীদের ভিড় কিছুটা কমেছে। ফেরি পারাপারে যাত্রীরা দুর্ভোগে না পড়লেও ফেরি থেকে নেমে গন্তব্যে পৌঁছাতে পোহাতে হচ্ছে দুর্ভোগ।

বিআইডব্লিউটিসি ঘাট সূত্র জানায়, বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে ১৮টি ফেরি আছে। করোনা পরিস্থিতিতে ফেরি চলাচল সীমিত করা হলেও যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় বর্তমানে স্বাভাবিক নিয়মে ১৬টি ফেরি চলাচল করছে। করোনার সংক্রমণ বাড়ায় সপ্তাহখানেকের বেশি সময় ধরে বন্ধ আছে লঞ্চ, ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচল। ফলে গত শুক্রবার থেকে উভয় পাড়েই যাত্রীদের ভিড় বেড়ে যায় ফেরিতে। তবে গত তিন দিন ঢাকা থেকে আসা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলমুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় থাকলেও মঙ্গলবার সকাল থেকে ভিড় কিছুটা কম।

আজ সকাল ১০টার দিকে বিআইডব্লিউটিসি বাংলাবাজার ফেরিঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) জামিল আহমেদ  বলেন, ‘ঢাকাগামী যাত্রীর চাপ খুবই কম। তবে শিমুলিয়া থেকে আসা প্রতিটি ফেরিতে ভিড় রয়েছে। যাত্রীরা ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছেন। প্রতিটি বড় রো রো ফেরি শিমুলিয়া থেকে ৫০০ থেকে ৭০০ যাত্রী নিয়ে বাংলাবাজার ঘাটে আসছে। তবে দুদিন আগে এই ফেরিতে হাজারের ওপরে যাত্রী ছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘লকডাউনে বিধিনিষেধ থাকায় ঘাটে যানবাহনের তেমন চাপ নেই। ঘাটে আসামাত্রই ছোট গাড়িগুলো ফেরিতে উঠতে পারছে। কিছু পণ্যবাহী ট্রাক লাইনে অপেক্ষমাণ থাকলেও ধীরে ধীরে সবই পারাপার করা হচ্ছে।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগামী বৃহস্পতিবার থেকে কঠোর লকডাউন শুরু হতে যাওয়ায়  শুক্রবার থেকে দুর্ভোগ মাথায় নিয়েই ঢাকা ছাড়তে শুরু করে হাজার হাজার মানুষ। এ কারণে যাত্রীদের চাপ বাড়তে থাকে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথের শিমুলিয়া ঘাটে। যাত্রীরা বাংলাবাজার ঘাটে নেমেই পাচ্ছেন ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল। এসব মোটরসাইকেল অবৈধভাবে ঝুঁকি নিয়ে একাধিক যাত্রী বহন করে চলছে। এ ছাড়া যাত্রীরা কিছুটা পথ হেঁটে মাহিন্দ্র, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, ইজিবাইক ও থ্রি–হুইলারে গাদাগাদি করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছেন। কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা তাঁদের মধ্যে নেই। এসব যানবাহন মহাসড়ক ব্যবহার না করে গ্রামের আঞ্চলিক সড়ক ব্যবহার করছে। এ কারণে পুলিশের বাধার মুখে তাদের পড়তে হচ্ছে না। এ কারণে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া।

তবে চালকদের দাবি, বিকল্প সড়ক হয়ে চলাচল করায় দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে। এতে তেলের খরচ বেশি হয়। তাই যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা থেকে আসা বরিশালগামী যাত্রী সায়মন খান বলেন, ‘কঠোর লকডাউন হলে ঢাকায় থাকা কষ্ট। তা ছাড়া অফিস বন্ধ হয়ে যাবে। তাই দেশের বাড়ি যাচ্ছি। রাস্তায় কোনো গাড়ি না থাকায় কিছুটা দুর্ভোগ হলেও ভাড়ার মোটরসাইকেলে আসতে তেমন অসুবিধা হয়নি। আর ঘাটে আসা মাত্রই ভিড়, মানুষের ঠেলাঠেলি ছাড়াই ফেরিতে উঠতে পেরেছি।’

পিরোজপুরগামী শাহীন হাওলাদার নামের আরেক যাত্রী বলেন, ‘অটোরিকশা, ভ্যান, ইজিবাইকে করে ঢাকা থেকে ঘাট পর্যন্ত আসছি। ভাড়া বেশি দিতে হচ্ছে। কিন্তু কী করার! বাস তো চলে না। বাধ্য হয়েই বেশি ভাড়া আর ঝুঁকি নিয়ে যেতে হচ্ছে।’

বাংলাবাজার ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) জামালউদ্দিন  বলেন, ‘গত তিন দিনের তুলনায় আজ ফেরিতে মানুষের ভিড় অনেকটাই কমেছে। তবে এখনো ভিড় ঠেলে অনেকে ঢাকা থেকে আসছেন। তবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ ঢাকায় যাচ্ছেন কম। ঘাটে কোনো যাত্রীবাহী যানবাহন ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। যাত্রীরা কিছুটা পথ হেঁটে, কিছুটা পথ বাড়তি ভাড়া দিয়ে কোনো যানবাহনে করে চলাচল করছেন। তাঁদের কোনোভাবেই আটকানো যাচ্ছে না। পুলিশের চোখে পড়ামাত্রই এসব যানবাহন ধরে মামলা দেওয়া হচ্ছে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে