মান্দায় ভেস্তে যেতে বসেছে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান

প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২১; সময়: ৬:৫৮ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, মান্দা : নওগাঁর মান্দায় বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযানের কাঙ্খিত অগ্রগতি নেই। উদ্বোধনের দুইমাসে সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ২৭২ মেট্রিকটন ধান। অন্যদিকে একমাসে সংগ্রহ হয়েছে ৪৩৯ মেট্রিকটন চাল। সরকারের বেঁধে দেওয়া মূল্যের সঙ্গে বাজার দরের সামঞ্জস্য না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে ভেস্তে যেতে বসেছে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রম।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে প্রসাদপুর খাদ্য গুদামে ২ হাজার ৭২৮ মেট্রিকটন ধান ও ৬৯৫ মেট্রিকটন চাল ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এতে কৃষকদের নিকট থেকে প্রতিকেজি ধান ২৭ টাকা ও মিলারদের নিকট থেকে প্রতিকেজি চাল ৪০ টাকা দরে কেনার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। নির্ধারিত দরে আজ সোমবার (২৮ জুন) পর্যন্ত এ খাদ্যগুদামে সংগ্রহ করা হয়েছে ২৭২ মেট্রিকটন ধান ৪৩৯ মেট্রিকটন চাল। আগামি ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে বলেও নিশ্চিত করে সূত্রটি।

এদিকে উপজেলার চৌবাড়িয়া, সাবাই, দেলুয়াবাড়ি, প্রসাদপুর, পাঁজরভাঙ্গাসহ বিভিন্ন হাট ঘুরে জিরাশাইল প্রতিমণ ধান ১২২০ টাকা থেকে ১২৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখে গেছে। ব্রিধান-২৮ বিক্রি হচ্ছে ১১০০ টাকা থেকে ১১৫০ টাকা। হাইব্রীড জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে ১০০০ টাকা থেকে ১০৫০ টাকা দরে। সরকারের বেঁধে দেওয়া দরের চেয়ে প্রকার ভেদে প্রতিমণ ধান ২২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে হাট-বাজারগুলোতে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিন জানান, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ১৯ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রীড জাতের ধানের চাষ হয়েছে ২ হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে। আবহাওয়া অনুকুল ও খেতে রোগবালাই কম হওয়ায় এ চাষ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিকটন ধান উৎপাদন হয়েছে চলতি মৌসুমে।

ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলাম, ইউসুফ আলীসহ আরো অনেকে জানান, আবহাওয়া অনুকুল থাকায় কাটা-মাড়াইয়ের সময় কৃষকরা মাঠেই ধান শুকিয়ে ঘরে তুলেছেন। প্রয়োজনের অতিরিক্ত ধান হাটে ধান বিক্রির জন্য আনছেন না তারা। এ কারণে হাটবাজারগুলোতে ধানের আমদানি কমে গেছে। চাহিদার তুলনায় আমদানি কমে যাওয়ায় ধানের বাজার প্রতিনিয়তই বাড়ছে।

পাঁজরভাঙ্গা হাটে ধান বিক্রি করতে আসা এনায়েতপুর গ্রামের কৃষক অমল চন্দ্র সরকার জানান, এ মৌসুমে জিরাশাইল ধান ১২৩০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। এ দামে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাজারে এ দাম থাকলে কৃষকরা লাভবান হবেন। এতে করে কৃষকরা ধানের উৎপাদনে আরো আগ্রহী হবেন।

উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রক মামুন-অর-রশীদ জানান, সরকারের বেঁধে দেওয়া দামের সঙ্গে বাজার দরের সামঞ্জস্য নেই। সরু ধানের দাম অনেক বেশি। হাইব্রীড জাতের ধানের দর কিছুটা লেভেল থাকলেও কৃষকরা গুদামে ধান বিক্রি করছেন না। বাজারে এ দর অব্যাহত থাকলে কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার কোন সম্ভবনা নেই।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে