নিয়ামতপুরে যৌতুকের দাবীতে গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ

প্রকাশিত: জুন ২৮, ২০২১; সময়: ১২:৫৩ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিয়ামতপুর : আমি মাত্র ১৫ বছর বয়সে তার ঘরে আসি সংসার করার জন্য। বিয়ে হয় ২৫ বছর পূর্বে। দশ বছর সুখেই কাটছিল সংসার। আমাদের ঘরে আসে ৩ মেয়ে ১ ছেলে।

বিয়ের দশ বছর পর থেকে শুরু যৌতুকের দাবীতে শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন। ১৫ বছর ধরে সহ্য করছি এই নির্যাতন। শুধুমাত্র সন্তানদের কথা চিন্তা করে।

চোখে অশ্রু নিয়ে আঁচল দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে এমনটাই বলছিলেন এক অসহায় গৃহবধু উপজেলার পাড়ইল ইউনিয়নের দাসড়াই গ্রামের নূরনবীর স্ত্রী সাজেদা বেগম (৪০)।

এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করে সাজেদা বেগম। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দাসড়াই গ্রামের মৃত বছির মন্ডলের ছেলে নুরনবী ২৫ বছর পূর্বে প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ায় দ্বিতীয় বিয়ে করেন সাজেদা বেগমকে। দশ বছর সুখে সংসার করার পর থেকে যৌতুকের দাবীতে শারীরিক ও মানুসিক নির্যাতন করে আসছিল সাজেদা বেগমকে।

সর্বশেষ গত ১৬ মে শনিবার সন্ধ্যে ৭টায় নুরনবী স্ত্রী সাজেদা বেগমকে যৌতুকের দাবীতে নির্যাতন শুরু করে। সাজেদা বেগম মারাত্মকভাবে জখম হলে ভাই এসে উদ্ধার করে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। সাজেদা বেগম বর্তমানে ভাই এর বাড়ীতে অবস্থান করছে।

সাজেদা বেগম এ প্রতিবেদককে আরো বলেন, আমার স্বামী আমার অনুমতি ছাড়াই এক হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করে। সম্প্রতি ১৫/২০ দিন পর্বে আমেনা বেগম নামে আরেক মেয়েকে বিয়ে করে আমার ঘরে তুলে। এ নিয়ে আমার স্বামী নূরনবী পাঁচটি বিয়ে করে। ১৮ জুন শুক্রবার আমাকে মারপিট করে বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেয়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমার স্বামী বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছে।

গত ২০ জুন রাতে নিজে খড়ে আগুন লাগিয়ে, নিজের শরীরের কাপড় ছিড়ে আমার সতীন আমেনা বেগম আমার ভাই ও প্রতিবেশীকে আসামীকে করে কোর্টে মিথ্যে মামলা দায়ের করে হয়রানী করার জন্য।

প্রতিবেশী আব্দুল খালেক বলেন, ঐ রাতে আমেনা ঘরের ভেতর থেকে চিৎকার করে বাঁচাও বাঁচাও বলে। আমি ও আরো প্রতিবেশীরা বের হলে আমরা কাউকে দেখতে পাইনি। শুধুমাত্র সামান্য খড়ে আগুন দেখতে পাই। আমি আমেনাকে দিয়ে সেই আগুন নিভাই।

এরপর তাকে আমার বাড়ীতে নিয়ে আসি। সে সময় তার শারীরে কোন দাগ বা কাপড় ছেড়া ছিল না। পরবর্তীতে আমাকে ও সাজেদার ভাইকে ফাঁসানো বা সাজেদার মামলাকে অন্যখাতে নেয়ার জন্য মিথ্যে মামলা দায়ের করে।

এ বিষয়ে অফিসার ইন চার্জ হুমায়ন কবির বলেন, সাজেদা বেগমের অভিযোগ পেয়েছি। আসামীকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে