সলঙ্গায় বসতবাড়ী দখলে বাধা দেয়ায় গাছের সাথে বেঁধে যুবককে নির্যাতন

প্রকাশিত: জুন ২৪, ২০২১; সময়: ৬:৩৩ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ : জোরপূর্বক বসতবাড়ি দখল নিতে বাধা দেয়ায় সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় এক যুবককে গাছের সাথে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

গত সোমবার ভোরে সলঙ্গা থানার পাঠানপাড়া গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ব্যাপারে সলঙ্গা থানায় ১১ জনকে আসামী করে একটি অভিযোগ দাখিল করেছে ওই যুবকের মা হাসিমন খাতুন।

অভিযোগ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পাঠানপাড়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক ইসমাইল হোসেনের সাথে বসতবাড়ী ও জায়গা-জমি নিয়ে একই গ্রামের প্রভাবশালী হযরত আলী ফকির ও ফজলার রহমান গংদের দ্বন্দ চলে আসছিল। বিষয়টি গ্রাম প্রধানগণ একাধিকবার মিমাংসার চেষ্টা করেছেন। প্রধানদের রায় মানেন না হযরত আলী ফকির ও ফজলার গং।

এরই এক পর্যায়ে গত সোমবার ভোরে হযরত আলী ফকির ও ফজলার গং দেশীয় অস্ত্র দা,কুড়াল,ছুরি ও লাঠি শোঠায় সজ্জিত বহিরাগত ভাড়াটে লোকজন সাথে নিয়ে ইসমাইল হোসেনের বসতবাড়ী জোরপুর্বক দখল করার চেষ্টা চালায়। এ সময় ইসমাইল হোসেনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম বাঁধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয় প্রভাবশালী হযরত আলী ফকির ও ফজলার গং। তার নির্দেশে অন্যান্য সহযোগীরা ওই যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় তাল গাছের সাথে রশি দিয়ে বেঁধে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকে। এছাড়াও বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে বাড়িঘর ভাংচুর ও বাসতবাড়ির জায়গা জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা চালায় এবং হত্যার হুমকি দেয়।

প্রায় ঘন্টাব্যাপী ওই যুবককে আটকে রাখার পর ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা কৌশলে ৯৯৯ ফোন দিলে পুলিশ ও গ্রামের মাতবররা খবর পেয়ে তাকে উদ্ধার করেন।

এদিকে এ বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় এমন নির্যাতনের প্রতিবাদ জানান।

সলঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী জানান, এ নির্যাতনের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে