সুজানগরে সড়ক নির্মাণকাজ শেষ না করেই পুরো বিল উত্তোলন

প্রকাশিত: জুন ২২, ২০২১; সময়: ৪:২৯ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, সুজানগর : সুজানগর উপজেলার সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নের একটি রাস্তার কাজ শেষ না করেই কাজ সমাপ্ত দেখিয়ে পুরো বিল উত্তোলন করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। দীর্ঘ এক বছরেও রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন ওই এলাকার মানুষ। এর জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের অনিয়ম, গাফিলতি এবং অবহেলাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাযায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন গ্রামীণ রাস্তাসমূহ টেকসই করার লক্ষ্যে এইচবিবিকরণ(২য় পর্যায়)প্রকল্পের আওতায় ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে সুজানগর উপজেলার সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নের উপেন্দ্রনগর পুরাতন মসজিদের নিকট রাস্তা হতে নতুন মসজিদ হয়ে উপেন্দ্রনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তা(এইচবিবি)করণ ৫০০ মিটার এবং ভাটপাড়া মহির উদ্দিন মোল্লার বাড়ী হইতে রবিউল শেখের বাড়ী হয়ে ভাটপাড়া পুরাতন হাটের পাকার রাস্তা পর্যন্ত (এইচবিবি) করণ ৭৩৪ মিটার মিটার রাস্তা নির্মাণের কাজ পায় পাবনার মেসার্স খালেদা কনস্ট্রাকশন নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর জন্য নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৬৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।

কাজটি ২০২০ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা আজও শেষ হয়নি। গতকাল সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়,রবিউল শেখের বাড়ী হতে ভাটপাড়া পুরাতন হাটের পাকার রাস্তা পর্যন্ত দুই শতাধিক মিটার মাটির রাস্তা এখন পর্যন্ত (এইচবিবি)করণ কাজই করা হয়নি। স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা মাহাতাব আলী অভিযোগ করে বলেন, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবিরের নিজ বাড়ি এই সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নেই। আমাদের এই ভাটপাড়া গ্রাম আ.লীগের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। এই গ্রামের ৯০ ভাগ মানুষ নৌকায় ভোট দেয়। তারপরও গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শেষ না করেই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অসাদু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে সব বিল তুলে নিয়ে গেছে ঠিকাদার বলে জানতে পেরেছি। আর প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই সব টাকা তুলে নেওয়ায় এখন আর বাকি কাজ করছে না ঠিকাদার। স্থানীয় কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল না হওয়ায় কৃষি পণ্য পরিবহনে বেশি সমস্যা হচ্ছে। আখিঁ খাতুন নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, রাস্তার কাজ না হওয়ায় অসুস্থ কাউকে হাসপাতালে নিতে বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এই মাটির রাস্তায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সরকার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ দিলেও তা ঠিকমত বাস্তবায়ন হয়না। কিছু লোকের কারণে সরকারের দুর্নাম হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সাতবাড়ীয়া ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম সামছুল আলম বলেন, সময়মত রাস্তার কাজটি শেষ না করায় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এলাকার স্কুল কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থী সহ সাধারণ জনগন। এদিকে রাস্তার কাজ শেষ না করেই কীভাবে চূড়ান্ত বিল তুলে নিলেন উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি সরেজমিন তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন উন্নয়নবঞ্চিত ওই এলাকার মানুষ।

এ ব্যাপারে ঠিকাদার আসাদুজ্জামান দোলনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওই সড়কের কাজ সমাপ্ত করেই পুরো বিল তুলে নিয়েছেন বলে জানান। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নাজমুল হুদা জানান, রাস্তার কাজ অসমাপ্ত থাকায় ঠিকাদারের জামানতের ৫ লাখ টাকা আটকে রাখা হয়েছে। রাস্তার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওই টাকা ছাড় দেওয়া হবেনা। এছাড়া ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজটি দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে সব ধরণের চেষ্টা করছি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে