পাবনায় গণপূর্ত ভবনের ঘটনায় তিন আ.লীগ নেতার আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল

প্রকাশিত: জুন ১৭, ২০২১; সময়: ৭:১৬ pm |

রাজিউর রহমান রুমী, পাবনা : পাবনায় গণপূর্ত ভবনে অস্ত্র নিয়ে ঠিকাদার আওয়ামী লীগ নেতাদের মহড়ার ঘটনায় প্রদর্শিত দুটি শটগানের লাইসেন্স বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার বিকেলে লাইসেন্স বাতিলের পর এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেয়া হয়েছে। পাবনা জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অপরদিকে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের তিন নেতাকে দল থেকে অব্যহতি ও স্থায়ীভাবে বহিস্কারের জন্য কারণ দর্শাও নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, সম্প্রতি, পাবনা গণপূর্ত ভবনে কয়েকজন ঠিকাদার আওয়ামী লীগ নেতাদের অস্ত্র নিয়ে প্রবেশের ঘটনা তদন্তে অস্ত্র আইনের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে জানিয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ। বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার হওয়ায় স্থগিতকৃত পাবনা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহসীন রেজা খান মামুন (এম আর খান মামুন) এবং যুবলীগ পাবনা জেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য শেখ আনোয়ার হোসেন লালুর নামে ইস্যুকৃত শটগানের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

পাবনার পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান জানান, পাবনা গণপূর্ত বিভাগে ঠিকাদার আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রবেশের ঘটনা জানার পরই বিষয়টি তদন্ত শুরু করে জেলা পুলিশ। গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা লিখিত অভিযোগ না করলেও পুলিশ নিজ উদ্যোগে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিষয়টি তদন্ত শুরু করে। ঠিকাদারদের প্রদর্শিত অস্ত্রও জব্দ করা হয়।

সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলে, অস্ত্র আইনের শর্ত বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। বৈধ অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহারের প্রমাণ মেলায় প্রদর্শিত অস্ত্রগুলোর লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হয়। জেলা প্রশাসন লাইসেন্স বাতিল করায় জব্দকৃত অস্ত্রগুলি সরকারের সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে।

এদিকে বুধবার সন্ধ্যায় পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপি স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গণপূর্ত ভবনে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়া নেতাদের শো-কজ নোটিশ দেওয়া হয়। শো-কজ প্রাপ্তরা হলেন, বিলুপ্তকৃত পাবনা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহসীন রেজা খান মামুন (এম আর খান মামুন) এবং পাবনা সদর উপজেলার বিলুপ্তকৃত কমিটির বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ ফারুক হোসেন ওরফে ফারুক হাজী। দলের সকল পদ থেকে কেন স্থানীভাবে বহিস্কার করা হবেনা ১৫ দিনের মধ্যে তার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এমপিকে এই চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। অপর দিকে একই অভিযোগে পাবনা জেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য শেখ আনোয়ার হোসেন ওরফে শেখ লালুকে যুবলীগ থেকে বহিস্কারের সুপারিশ করেছে পাবনা জেলা যুবলীগ।

পাবনা জেলা যুবলীগের আহবায়ক আলী মর্তুজা বিশ্বাস সনি বলেন, গতকাল বুধবার আমরা শেখ লালুকে বহিস্কারের সুপারিশ করে কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। আজকালের মধ্যে কেন্দ্র বহিস্কারের সিদ্ধান্ত জানাবে।

এ ব্যাপারে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনির উদ্দিন আহমেদ মান্না ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকক গোলাম ফারুক প্রিন্স এমপির স্বাক্ষর করা চিঠি শোকজপ্রাপ্ত মহসীন রেজা খান মামুন (এম আর খান মামুন) এবং হাজী ফারুকের বাড়ী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দলের দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়ার কাছে হোয়াটসঅ্যাপ ও কুরিয়ার করে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৬ জুন দুপুরে স্থগীতকৃত পাবনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাজী ফারুক হোসেন, স্থগীতকৃত পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এম আর খান মামুন এবং জেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য শেখ লালুর নেতৃত্বে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে গণপূর্ত ভবনে প্রবেশ করে নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ারুল আজিমকে খুঁজতে থাকেন। তারা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়েই উপ সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের কক্ষে যান এবং কিছুক্ষণ পর তারা বের হয়ে আসেন।

ঘটনার চারদিন পর জেলা আইনশৃংখলা কমিটির বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হলে, জেলাজুড়ে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্র গুলি জব্দ করে। এবং জেলা প্রশাসন বৃহস্পতিবার মহড়ায় ব্যবহারিত আগ্নেয় অস্ত্রের লাইসেন্স দুটি বাতিল করে।

এ ঘটনায় নেতৃত্ব দেয়া দুই আওয়ামী লীগ নেতাকে ফারুক হোসেন ও এম আর খান মামুন এবং যুবলীগ নেতা শেখ লালুকে দল থেকে অব্যহতি দিয়ে কেন স্থায়ী বহিস্কার করা হবে না জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিস প্রদান করেছে জেলা আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে