নির্মাণ শেষে ৭ দিন পর ভাঙতে শুরু করেছে রাস্তা

প্রকাশিত: জুন ১৬, ২০২১; সময়: ১২:৪৬ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, বদলগাছী :  বদলগাছীতে পাঁকা সড়ক নির্মাণ কাজ শেষের ৭ দিনের মধ্যে ভেঙ্গে যাচ্ছে রাস্তা। ভাঙ্গাস্থানটিতে মাটি দিয়ে ঢেকে রাখার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ তুলেছেন এলাকায় জনগণ। কাজের গুণগত মান দেখে হতাশ হয়ে পড়েছে গ্রামবাসী। আলোচিত এই সড়কটির নাম খাদাইল বাজার টু ভেরেন্ডি বাজার। স্থানীয় এলাকাবাসীর ভাষ্যে জানা যায়, এই ১ কিলো ৪শ মিটার সড়ক নির্মাণে ১ কোটি ৪লাখ ৭৭ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। মেসার্স স্বচ্ছ এন্টারপ্রাইজ এন্ড ব্রিক্স নামক এক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজটি বাস্তবায়ন করেছেন।

গ্রামবাসীরা জানান, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে এই সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু করা হয় নিম্নমানের ইট, খোয়া দিয়ে কাজ শুর করেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠনটি। গ্রামবাসীর বাধার মুখে নিম্নমানের ইট, খোয়া তুলে নেন ঠিকাদার। নিম্নমানের ইট-খোয়া দিয়ে ঐ সড়কে ১২ টি ইউড্রেন নির্মাণ করে ঠিকাদার। সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে কান্দা গ্রামের আহম্মদ আলী, সানোয়ার হোসেন, নজরুল ইসলামসহ প্রায় অর্ধশতাধীক গ্রামবাসী জানান, আঃ সাত্তারের বাড়ির পাশে ১ টি পুরাতন ভাঙ্গা কালভাটের উপর রাস্তা নির্মাণ করায় রাস্তার দক্ষিণপার ভেঙ্গে পড়ে। এখানে রাস্তার মাপ সঠিক নেই। খালেকের বাড়ির নিকট রাস্তার পাশে ১টি ডোবা রয়েছে। ডোবাই কিছু অংশ পালাস্যাইটিং দেওয়া থাকলেও রাস্তাটির কোন উপকারে আসেনি সেটি। এখানে পশ্চিম পার্শ্বে প্রায় দেড় ফিট সড়ক ভেঙ্গে পড়েছে। তার দক্ষিনে আরও খারাপ অবস্থা।

গত রমজানের ঈদের ১০ দিন আগে এ প্রকল্পের কার্পেটিং কাজ সমাপ্ত করা হয় এবং ঈদের আগেই ভেঙ্গে পড়ে এই রাস্তার দুই পাড়। ঠিকাদারের লোকজন এসে মাটি দিয়ে ঢেকে রাখে রাস্তার সেই ভাঙ্গনস্থানটি।
মোবাইল ফোনে কথা বললে ঠিকাদার আঃ সোবহান বলেন, নিম্নমানের কাজ হয়েছে কথাটা সঠিক নয়। তাছাড়া বৃষ্টিতে সড়ক ভাঙ্গতেই পারে। স্থানীয় লোকজন কি অভিযোগ করল সেটা আমার দেখার বিষয় না। উপজেলা প্রকৌশলীসহ পর্যবেক্ষক দল রাস্তাটি পরিদর্শন করেছেন। তাঁরা জানেন রাস্তার কাজ ভাল হয়েছে। তাঁর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, এতো কিছু জানার তো কোনো কারণ নেই।
এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ে প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইলে অফিসের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, এ প্রকল্পের ফাইলটি খুজে পাচ্ছি না।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মোখলেছুর রহমানের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, রাস্তার সাইড ভেঙ্গে পড়েছে সে বিষয়টি আমি জানি। তবে এবিষয়ে ঠিকাদারের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে বর্ষা মৌসুম কেটে গেলে তা পুনরায় নতুন করে ঐ ভাঙ্গন স্থানটি সংস্কার করে দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, ঠিকাদারের পার পাওয়ার কোন সুযোগ নেই কারণ ঐ কাজের জামানতের টাকা আমাদের কাছে রয়েছে।

  • 168
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে