শিবগঞ্জে আদালতের আদেশ অমান্য করে আম ভেঙ্গে নিল প্রতিপক্ষরা

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২১; সময়: ৮:৪৩ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, শিবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে আদালতের আদেশ অমান্য করে ১৩টি গাছের আম ভেঙ্গে বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে শিবঘঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের ঠুঠাপাড়া বৈদ্যনাথপুর মাঠে।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চাঁপাইনবাবগঞ্জের মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বরে জমা জমিসংক্রান্ত ঘটনার জের ধরে প্রায় ১৮০শতক জমির উপর ১৪৪ ধারা জারির জন্য মনাকষা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামরে মৃত তামসুরুদ্দিনের ছেলে সেলিশ রেজা মাস্টার আদালতে আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে সেই বছরের ১৪ অক্টোবর আদালত ওই জমির ওপর ১৪৪ ধারা জারি করেন। ওই মামলার নম্বর ৫৭/পি ২০২০খ্রী: (শিবগঞ্জ)।

কিস্তু প্রতিপক্ষ তারাপুর মিস্ত্রী পাড়া গ্রামের এনসান আলির ছেলে রমজান আলি গত ৯ জুন আদালতের আদেশ অমান্য করে তার নিজস্ব লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে ১৩টি আমগাছের প্রায় ৬০ মণ আম পেড়ে বিক্রি করে দেন। গত ৯ জুন সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রমজান ও তার ১০ থেকে ১২ জন লোক গাছ থেকে আম ভাঙছেন, এবং ক্যারেটে আমগুলি প্যাকেট করছেন। কয়েকজন সেখানে বসে আছেন। গণমাধ্যমকর্মী দেখেই তারা বিভিন্ন স্থানে ফোন করতে শুরু করেন।

এ ব্যাপারে প্রতিপক্ষ রমজান আলি জানান, আমার আইনজীবি মৌখিকভাবে আম ভাঙতে বলেছেন। তাই আম ভাঙছি।

তিনি আরো জানান, আমরা আদালতে আবেদন করায় আদালত এ জমির ওপর ১৪৫ ধারা জারি করেছেন। কিন্তু তিনি কোন ডকুমেন্টস দেখাতে পারেননি।

বসে থাকা লোকজনের মধ্যে তারাপুর মিস্ত্রী পাড়ার ফটিক উদ্দিন, আতাউর রহমান, আবু তাহের ও আমিরুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে আমরা ভাঙ্গা আমগুলি নিজ দায়িত্বে নিয়েছি, আম বিক্রি করে টাকা জমা রাখা হবে।

কার নির্দেশে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জানতে চাইলে তারা জানান, আমরা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

অপর দিকে মামলার বাদী সেলিম রেজা জানান, তারা রমজান আলির ভাড়াটিয়া বাহিনী। জোর করে তারা আম ভেঙেছে।

তিনি আরো জানান, যদি কোন মামলা করি বা প্রশাসনকে জানাই তবে জীবনে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য সমির উদ্দিন বলেন, আমার জানা মতে, ওই জমির ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা জারি করা আছে। ওই জমিতে প্রশাসন ছাড়া অন্য কেউ যেতে পারবে না। তিনি আরো বলেন, এ ব্যাপারে তারা আমাকে কিছু বলেননি।

শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ফরিদ হোসেন বলেন, ঘটনাটি আমার জানা নেই। তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলে সমাধান না হওয়া পর্যন্ত কেউ ওই জমিতে যেতে পারবেন না। তবে এ ব্যাপারে আমাকে কেউ জানায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

  • 433
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে