তাড়াশে ব্রীজ ও রাস্তার ক্ষতি করে পুকুর খনন, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২১; সময়: ৭:০০ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, তাড়াশ : সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কাবিটার (বিশেষ) সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয়ের নামমাত্র রাস্তা মেরামত কাজের মাটির জন্য ব্রীজের মুখ বন্ধ করে ও রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি করে ব্যক্তি মালিকানা জায়গায় পুকুর খনন করা হচ্ছে। সম্প্রতি ন্যাক্কার জনক এ ঘটনা ঘটছে তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের পংরৌহালী-বিরল এলাকার রাস্তায়।

চলতি অর্থ বছরে নওগাঁ বাজার হতে হামকুড়িয়া রাস্তার পংরৌহালী পাকার মাথা হতে বিরল আফাজ ফকিরের বাড়ির সামনের ব্রীজ পর্যন্ত মেরামতের জন্য কাবিটার সাড়ে তির লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অসময়ে প্রচলিত আইন অমান্য করে অপরিকল্পিত ভাবে নওগাঁ-হামকুড়িয়া রাস্তার পংরৌহালী পাকার মাথা হতে বিরল আফাজ ফকিরের বাড়ির সামনের ব্রীজ পর্যন্ত সরকারি ঐ সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে রাস্তা মেরামত কাজের মাটির জন্য ঐ রাস্তারই পাশে বিরল এলাকায় একটি ব্রীজ নষ্ট করে তিন ফসলী জমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে। এতে ঐ রাস্তারও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।

আব্দুর রহিম নামক যে ব্যক্তি ঐ পুকুর খনন করছেন সেই আবার ঐ রাস্তার মেরামত কাজেরও দায়িত্বে আছেন। তিনি খনন করা তাঁর ঐ পুকুরের কাঁদা মাটি দিয়েই রাস্তাটির নামমাত্র মেরামত কাজ করছেন যেনোতেনোভাবে অতিধীর গতিতে। এ দিকে ঐ রাস্তায় যেনো তেনো ভাবে কাঁদা মাটি ফেলানোর কারণে রাস্তাটি দিয়ে যান-বাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে আছে এক মাস ধরে। এ কারণে এই করোনাকালে মুজিবনগর হিসেবে খ্যাত ঐ এলাকাবাসির আর্থিক অভাব-অনটন ও জনদুর্ভোগ আরো ব্যাপক ভাবে বেড়ে গেছে।

জানা গেছে, ঐ এলাকার প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ নৌকা মার্কায় ভোট দেয়। এ কারণে ঐ এলাকাকে অনেকেই মুজিবনগর বলেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় অথচ মুজিবনগর হিসেবে খ্যাত এলাকার মানুষ ভালোভাবে চলাচল ও কোন কিছুই ঐ রাস্তা দিয়ে ভালো ভাবে পরিবহন করতে পারছেন না। এ নিয়ে এলাকায় চলছে নানা প্রকার আলোচনা-সমালোচনা।

রাস্তা খারাপের কারণে ঐ এলাকার মানুষের চলাচল ও পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে কয়েক গুণ বেশি। ঐ রাস্তা খারাপ হওয়ার কারণে বন্ধ হওয়ার পথে বিরল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও জলিল নগর হাই স্কুলের ভবন নির্মাণ কাজ এবং ঐ এলাকার অসংখ্য নানা প্রকার হ্যাচারী ও খামার। অসংখ্য কৃষকসহ হ্যাচারী ও খামার মালিকগণও পড়ে গেছে মহাবিপাকে।

তাঁরা পাচ্ছেন না পণ্যের ন্যায্য মূল্য। এ ছাড়াও ঐ রাস্তায় প্রায়ই ঘটছে ব্যাপক আকারে অঘটন। অপরদিকে গত অর্থ বছরেও ঐ রাস্তার বিরল থেকে হামকুড়িয়া পর্যন্ত রাস্তা মেরামতের নামেও প্রচলিত আইন অমান্য করে সরকারি লাখ লাখ টাকা ও রাস্তার শতাধিক গাছ হরিলুট করা হয়েছে। কিন্তু ঐ রাস্তার তেমন কোন উন্নয়নই হয়নি। এমনকি অপরিকল্পিত ভাবে অসময়ে রাস্তা মেরামত কাজ করার কারণে রাস্তার কোন কোন জায়গায় আরোও বেশি ক্ষতি হয়েছে।

এ সকল ঘটনা গুলোর সাথে জড়িত আছেন প্রভাবশালী প্রতারক চক্র। এ সকল কারণে জীবন যাত্রার মান ও আর্থিক উন্নয়ন বাড়ছে না মুজিব নগর হিসেবে খ্যাত ঐ এলাকার মানুষের। যা নিয়ে জনমনে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে অনেক দিন ধরে। তদন্ত করলে এ সকল ঘটনার সত্যতা মিলবে। কিন্তু এ গুলো দেখার কেউ নেই।

পংরৌহালী গ্রামের কৃষক মোঃ নজরুল ইসলাম দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ধান কাটার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত একমন ধানও বিক্রি করতে পারিনি। এ রাস্তার ব্যহাল দশার কারনে কোনো প্রকার যানবাহন চলাচল করতে পারেনা।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এই দুই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই কৃষক। কাচাঁ বাজার করে খাওয়ার মত টাকা আমাদের পকেটে নাই। আমরা পরে আছি মহাবিপাকে।

এ বিষয়ে বিরল গ্রামের শিক্ষিত মেধাবী মানুষ মোঃ সবুজ ফকির বলেন, আমার একটা মুরগির খামার আছে, গত ২ থেকে ৩ দিন পূর্বে আমি মুরগী বিক্রি করেছিলাম কিন্তু আমাদের এই রাস্তাটিতে যেনো তেনো ভাবে কাদা মাটি ফেলার কারণে মুরগী কেনার গাড়ি না আসতে পারায় আমি কয়েকটি অটো ভ্যানে (ভাড়ায় চালিত) প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ২/৩ হাজার মুরগী নিয়ে গাড়িতে পৌঁছে দেই। এতে আমার প্রায় ১০/১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তিনি আরও বলেন আমার মত আমাদের গ্রামে এবং আমার পাশের গ্রামে অনেক খামারী রয়েছেন তাদেরও একই অবস্থা।

এ ব্যপারে বিরল গ্রামের একাধিক (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) হাসের বাচ্চা ফোটানো হ্যারিকেন হ্যাচারীরা বলেন আমরা প্রায় এক মাস যাবৎ ঐ রাস্তা দিয়ে হাসের বাচ্চা নেয়ার গাড়ি আসতে পারছে না। আমরা এখন মহা বিপদে পরে আছি।

এলাকাবাসির দাবী নওগাঁ বাজার টু হামকুড়িয়া রাস্তা সঠিক ভাবে মেরামত ও পাকার কাজ করা।

এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলার পিআইও সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে