জীর্ণ ভবন, দায়সারা সেবা

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২১; সময়: ১২:১২ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : দীর্ঘদিনেও সংস্কার করা হয়নি। উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের টিনের চাল ফুটো হয়ে গেছে। তা দিয়ে পানি পড়ে কক্ষে। গত মঙ্গলবার রংপুরের তারাগঞ্জের কুর্শা ইউনিয়নে । ৪৫ বছর আগে তৈরি একতলা ভবনের পেছনের অংশের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। জং ধরেছে টিনের চালে। কয়েক জায়গায় ফুটো তৈরি হওয়ায় মেঝেতে পড়ে বৃষ্টির পানি। দরজা-জানালার কোথাও ভাঙা। নেই শৌচাগার ও পানির ব্যবস্থা। এমন দশা রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের। অথচ এই কেন্দ্র থেকে ৩০ হাজার মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার কথা।

উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটির অবস্থান তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নে। এমন ভবনের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য নিয়োগ পাওয়া এক অফিস সহকারী ও দন্তচিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ।কুর্শা উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের দন্ত চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ আজিজুল হক বলেন, এই কেন্দ্রে তিনিই চিকিৎসক, তিনিই ফার্মাসিস্ট। প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ জন রোগী সেবা নিতে আসেন। একা চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হয় তাঁকে।

মঙ্গলবার সরেজমিনে গেলে চিকিৎসা নিতে আসা থানাপাড়া গ্রামের আঞ্জুয়ারা খাতুন (৩৫) বলেন, ‘পাঁচ বছরেও মুই এটে কোনা ডাক্তার দেখনু না। ওষুধ চাইলেও পাওয়া যায় না। যেটা হামার কোনো উপকারত আইসে না।’১৯৭৫ সালে স্থাপিত এ উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা, চিকিৎসক সহকারী, ফার্মাসিস্ট ও অফিস সহকারী থাকার কথা। কিন্তু চারটি পদই শূন্য। দৌলতপুর গ্রামের সুলতানা খাতুন (৩৩) বলেন, ‘মুই তো অনেক দিন থাকি এটে কোনা চিকিৎসা নিবার আইসোং। হামাক ওষুধ, চিকিৎসা দেয় পিয়ন আর একটা স্যার। শুনছি ওই স্যার দাঁতের চিকিৎসা দেওয়া স্যার।’

ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের আরেক গৃহবধূ নাজমা খাতুন (২৮) বলেন, ‘সাত দিন থাকি জ্বর, কোমর ব্যথা। ডাক্তার দেখাপার তকনে এটে কোনা আলছুনু, কিন্তু ডাক্তার দেখপার পানু না। যায় আছে তায় মোক রংপুরোত চিকিৎসা নিবার যাবার কইল। কিন্তু মুই তো গরিব মানুষ, রংপুরোত যাবার টাকা কোনটে পাইম।’কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আজহারুল ইসলাম বলেন, উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে চিকিৎসক না থাকার বিষয়টি সত্যি দুঃখজনক। যাঁদের একটু অবস্থা ভালো, তাঁরা এখানে আসেন না। গরিব মানুষ বাধ্য হয়ে গেলেও চিকিৎসক না থাকায় সুচিকিৎসা পান না।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে