কুষ্টিয়ায় যুবককে পিটিয়ে হত্যায় কথিত পীরের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৬

প্রকাশিত: জুন ৭, ২০২১; সময়: ৭:৫২ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কথিত পীরের দরবার শরীফে রাশেদ (২৮) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় কথিত পীর তাছের উদ্দিন কল্যানপুরীসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন নিহতের পিতা আব্দুর রাজ্জাক।

রোববার দুপুরে মোবাইল চুরির অভিযোগে দৌলতপুর উপজেলার কল্যানপুরে কথিত পীর তাছের ফকিরের দরবার শরীফের ভেতরে ওই যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত যুবক দৌলতপুর উপজেলার রিফাইতপুর ইউনিয়নের হরিনগাছী গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

এদিকে হত্যার ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে রোববার গভীর রাতে কল্যালপুর দরবার শরীফের কথিত পীর তাছের তাছের উদ্দিন কল্যানপুরীসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ১৫-২০ জনকে আসামী করে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহার নামীয় ৬ জন আসামীকে গ্রেপ্তার করেছে। এরা হলেন, পার্শ্ববতী ভেড়ামারা উপজেলার কাচারিপাড়ার মোসাব্বির হোসেনের ছেলে সাইদুর রহমান মিলন (৩৫), দৌলতপুর উপজেলার কল্যানপুর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে সামসুদ্দিন ওরফে শিমুল (২৮), সেনাইকুন্ডি গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে আব্দুস সাদি শিমুল (৩৫), ইনছাফনগর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে সুমন হোসেন (৩৫), হোসেনাবাদ গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে ইমরান আলী (২০) ও কল্যানপুর গ্রামের আফিরুল ইসলামের ছেলে শফিউল রহমান লিমন (১৯)। আসামীরা সকলে কথিত পীর তাছের ফকিরের ভক্ত এবং সবসময় তারা দরবার শরীফের ভেতরে অবস্থান করতেন।

দৌলতপুর থানার ওসি নাসির উদ্দিন জানান, মোবাইলফোন চুরির অভিযোগে কল্যানপুর দরবার শরীফের লোকজন রাশেদ নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহার নামীয় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামীদেরও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এদিকে মামলা দায়েরের পর থেকে পীর তাছের উদ্দিন পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, কল্যানপুর দরবার শরীফের কথিত পীর তাছের ও তার ক্যাডারদের বিরুদ্ধে দরবার শরীফ সংলগ্ন হিসনা নদী ও স্থানীয় লোকজনের জমি জোরপূর্বক দখল করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। দরবার শরীফের সশস্ত্র ভক্ত ক্যাডারদের ভয়ে স্থানীয় লোকজন ভয়ে মুখ খুলতেও সাহস পাইনা। কেউ মুখ খুললে বা জমি দখলের প্রতিবাদ করলে তার ওপর চালানো হয় অমানষিক নির্যাতন ও অত্যাচার। করা হয় মিথ্যা মামলা।

নদীর জায়গা দখলের ঘটনায় সম্প্রতি দৌলতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাড. এজাজ আহমেদ মামুন, দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমিন আক্তার, দৌলতপুর থানার ওসি নাসির উদ্দিন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা এ সময় হিসনা নদী দখলমুক্ত করার নির্দেশ দিলেও সে নির্দেশ অমান্য করে চলেছে দরবার শরীফের ভক্তরা।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে