বিনা বেতনে ২১ বছর শিক্ষকতা, জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে দূর্বিষহ জীবন শিক্ষকের

প্রকাশিত: জুন ৩, ২০২১; সময়: ৬:৪৬ pm |

ডি এম কপোত নবী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : দীর্ঘ ২১ বছর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। পাননি সরকারি বেতন-ভাতা। বর্তমানে প্যারালাইসিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত তিনি। অর্থাভাবে উপযুক্ত চিকিৎসা না পেয়ে দূর্বিষহ জীবন পার করছেন এক শিক্ষক।

ওই শিক্ষকের নাম মো. তারিফ হোসেন। তিনি আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। ২০০০ সালে উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের রশুনচক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। সেই থেকে অদ্যাবধি শিক্ষকতা করছেন।

বিদ্যালয়টি এমপিওভূক্ত হলেও সহকারি শিক্ষক তারিফ হোসেনসহ কয়েকজন শিক্ষক এখন পর্যন্ত কোন সরকারি বেতন-ভাতা না পেয়ে কষ্টেই কাটাচ্ছেন জীবন। গত এক বছর যাবত বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে বাবার সামান্য সম্পদ থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু গত ৬ মাস থেকে পুরো শরীরে ঘা হয়ে জটিল এক রোগে আক্রান্ত হন তিনি। বর্তমানে তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন।

কিন্তু পরিবার ও স্বজনদের সহযোগীতা নিয়েও উন্নত চিকিৎসার অর্থ যোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। এরই মাঝে গত ২ মাস থেকে আবারো প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হলে চরম দূর্বিষহ হয়ে ওঠে এই শিক্ষকের জীবন। উন্নত চিকিৎসা তো পাচ্ছেনই না, বরং বর্তমানে খাওয়া-পরাসহ ব্যক্তিগত সকল কাজেই তিনি অক্ষম হয়ে পড়েছেন।

তারিফ হোসেন বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর যাবত আমি সরকারি এমপিওভুক্ত একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে চাকরি করে আসছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন প্রকার বেতন-ভাতা পাইনি। অদ্যাবধি আমি সরকারের সুদৃষ্টির অপেক্ষায় রয়েছি। আমার মত হতভাগা আর কেউ নেই। বর্তমানে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে আমি চরম অসহায় হয়ে পড়েছি। পরিবার ও স্বজনদের সহযোগীতা নিয়ে কোন রকমে এই পর্যন্ত জীবন অতিবাহিত করলেও বর্তমানে আমি সর্বদিক দিয়েই অক্ষম হয়ে পড়েছি।

তিনি আরও বলেন, ঔষধ কেনার পয়সাও আমার কাছে নেই। আমি বাঁচতে চাই। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করছি। সেই সাথে আমার উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার, জেলা প্রশাসক মহোদয়, উপজেলা প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিগণের নিকট দোয়া ও সহযোগীতার আবেদন করছি। গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে নিজের অসহায়ত্বের কথা জানানোর সময় কেঁদে ফেলেন সেই শিক্ষক।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রশুনচক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মো. তারিফ হোসেন আমাদের বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতা করে আসছেন। এমপিওভূক্ত না হওয়ায় তিনি এখন পর্যন্ত কোন সরকারি বেতন-ভাতা পাননি। তবুও বেতনের আশায় তিনি অনেক চেষ্টা করে যাচ্ছেন। আমরাও আমাদের জায়গা থেকে সহযোগীতা করে আসছি। বর্তমানে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে আসলেই তাঁর জীবন দূর্বিষহ হয়ে উঠেছে। এখন উনার চিকিৎসার জন্য অর্থের প্রয়োজন। উনার পক্ষ থেকে আমি সকলের সহযোগীতা ও দোয়া কামনা করছি।

শিক্ষক তারিফ হোসেনের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও তাঁর সহকর্মীগণ তাঁর জন্য সকলের দোয়া ও সহযোগীতা কামনা করেছেন। প্রয়োজনে শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করা যাবে ০১৭২৬৩৭৭৩৬৯ নম্বরে। এছাড়াও তার স্বজনদের সাথে কথা বলা যাবে ০১৭৫১২০৯১৯৮ নম্বরে।

  • 474
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে