জয়পুরহাটে লোকালয়ে দলছুট হনুমান!

প্রকাশিত: জুন ২, ২০২১; সময়: ৮:০৩ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, জয়পুরহাট : জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে হঠাৎ করে লোকলয়ে ঢুকে পড়েছে দলছুট একটি হনুমান। খবর পেয়ে উৎসুক লোকজন হনুমানটিকে এক নজর দেখতে সেখানে ভিড় করছিলেন। হনুমানটিকে কেউ কলা-পাউরুটি ছুড়ে দিচ্ছিলেন। কেউ আবার তালি দিয়ে হনুমানটি সামনে আসার সংকেত দিচ্ছিলেন। ভয়ে হনুমানটি এই বাড়ি ওই বাড়ির ছাদ ও গাছপালায় ছুটাছুটি করছিল। তখন একজন গ্রাম পুলিশ হনুমানটিকে হাত দিয়ে ডেকে বলছিলেন, আমরা এসেছি।

তোর কোন সমস্যা নেই। কেউ তোকে ডিস্টাব করবে না। তোর যা ইচ্ছে তাই কর। তখন ভয়ে-ভীতে থাকা হনুমানটি হঠাৎ করেই স্বস্তি ফিরে পায়। হনুমানটি বাড়ির ছাদ থেকে নেমে গ্রাম পুলিশের সামনা সামনি থাকা একটি বাড়ির দরজার ওপর আমগাছে ডালে এসে বসে পড়ল। হনুমানটি আপন ইচ্ছায় আমগাছের ঝোপায় থাকা আমগুলো নেড়েচেড়ে দেখছিল আর গাছের পাকা আম ছিঁড়ে খাচ্ছিল। এ দৃশ্য দেখে সেখানে উপস্থিত লোকজন অবাক হয়ে যান। জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার উপজেলার কানুপুর গ্রামের রেলগেট এলাকায় আজ বুধবার বেলা সাড়ে এগারোটার ঘটনা এটি।

কানুপুর গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, হনুমানটি সকাল এগারোটার দিকে ওই গ্রামের আনোয়ার হোসেনের বাড়ির ছাদে অবস্থান করছিল। উৎসুক লোকজন হনুমানটিকে এক নজর দেখতে বাড়ির আশপাশে ভিড় করছিলেন। অনেকই হনুমানটিকে পাউরুটি- কলা খাবার ছুঁড়ে দিচ্ছিলেন। লোকজন দেখে হনুমান এদিক ওদিক ছুটাছুটি করছিল। কিছুপর আনোয়ার হোসেনের ছাঁদ বয়ে হনুমানটি পাশের সাইদুল মাস্টারের বাড়ি যায়। তখন রুকিন্দীপুর ইউনিয়নের দুইজন গ্রাম পুলিশ সেখানে ছিলেন। তখন একজন গ্রাম পুলিশ হনুমানটিকে বলছিল আমরা এসেছি। তোর কোন সমস্যা নেই। কেউ তোকে ডিস্টাব করবে না। তোর যা ইচ্ছে তাই কর। এমন আশ্বাস পর হনুমানটিকে উপ¯ি’ত লোকজনের মাত্র ২-৩ গজ দূরে দরজার সামনে চলে আসে।

এরপর হনুমানটি দরজার ওপর থাকা একটি আমগাছের গাছের ডালের ঝোপার আম নেড়েচেড়ে দেখে পাকা আম খাওয়া শুরু। গ্রাম পুলিশের উপস্থিতি দেখে হনুমান আর ভয় করছিল না। এতে হনুমাণের এমন আচরণ উপস্থিত লোকজন অবাক হন।

স্থানীয়রা বলছেন, কয়েক দিন আগে পার্শ্ববর্তী নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার খাদাইল এলাকা থেকে এটি এসেছে। তবে হনুমানটির মধ্যে শান্তভাব বিরাজ করায় এখনো কারোর ক্ষতি হয়নি। কেউ হাত বাড়িয়ে খাবার দিলে খাবার নিয়ে আবার গাছের ডালে বিচরণ করছে। বর্তমানে এটি উপজেলার রুকিন্দিপুর ইউনিয়নের কানুপুর গ্রাম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ভান্ডারীপাড়া, নলডাঙ্গা গ্রামের দিকে যাচ্ছে।

কানুপুর গ্রামের আব্দুর রশিদ বলেন, সকালে হনুমানটি এই এলাকায় দেখতে পেয়ে প্রথমে ৯৯৯ ফোন করে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। প্রাণিটির যেন কেউ কোন প্রকার ক্ষতি না করতে পারে সেজন্য গ্রামের সকলকে আমরা সজাগ করেছি। তবে হনুমানটি কারো কোন ক্ষতি করেনি।

কলেজ ছাত্র রাজন আহাম্মেদ বলেন, গ্রাম পুলিশের আশ্বাসের পর হনুমানটি লোকজনের কাছাকাছি থাকা সাইদুল মাস্টারের বাড়ির দরজার আমগাছের ডালে বসে আপন মনে পাকা আম খেতে শুরু করে। এতে আমরা অবাক হয়েছি।

কানুপুর রেলগেট এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম বলেন, হনুমানটিকে সকালে পাউরুটি আর কলা খেতে দিয়েছি। হনুমানটি আমাদের গ্রামের মেহমান হয়ে এসেছে। আমরা কেউই হনুমানটি বিরক্ত করতে দিচ্ছি না।

উপজেলা বন কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করে প্রাণিটির গতিবিধি লক্ষ্য করছি। ইতিমধ্যে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এবং বন্য প্রানী ব্যবস্থাপনা বিভাগে জানানো হয়েছে। এটি প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ মুখপোড়া হনুমান। হনুমানটির কেউ কোন ক্ষতি বা তাকে কেউ কোন আঘাত না করতে পারে সে বিষয়ে সকলকে সচেতন করা হয়েছে।

আক্কেলপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইদুর রহমান বলেন, দলছুট একটি হনুমান কানুপুর গ্রামে এসেছে। কেউ যেন বিরক্ত না করে তাঁর জন্য সেখানে গ্রাম পুলিশ রয়েছে। দলছুট হনুমানটি সম্ভবত ভারত থেকে এসেছে। হনুমানটি আপন মনে আবার অন্য কোথাও চলে যাবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম.এম হাবিবুল হাসান বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা বন বিভাগকে
নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হনুমানের গতিবিধি লক্ষ্য করার জন্য ঘটনাস্থলে দু’জন গ্রাম পুলিশ নিয়োজিত করা হয়েছে। মূলত খাবারের সন্ধানে হনুমানটি লোকালয়ে প্রবেশ করেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে