ট্রাক্টর কেনার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পরিবহন শ্রমিক শহিদুলকে হত্যা

প্রকাশিত: মে ৩০, ২০২১; সময়: ৮:২৬ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ : ট্রাক্টর কেনার জন্য ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে নওগাঁ শহরে এসেছিলেন পরিবহন শ্রমিক শহিদুল ইসলাম। ট্রাক্টর কিনে দেওয়ার জন্য তিনি সহযোগিতা ছিলেন তাঁর পূর্ব পরিচিত তিনজন পরিবহন শ্রমিকের কাছে। কিন্তু সেই তিন ব্যক্তিই ট্রাক্টর কেনার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে শহিদুলকে হত্যা করে। পরে লাশ প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে পুকুরে ফেলে দেয়।

আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বাকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন শ্রমিক শহিদুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই যুবক। আজ রোববার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য তুলে ধরেন নওগাঁর পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান মিয়া।

পরিবহন শ্রমিক শহিদুলকে হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনার ৩৯ দিন পর গতকাল শক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গতকাল শনিবার আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, নওগাঁ সদর উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা সজিব (২৩) ও দুর্গাপুর সোনাপুর গ্রামের সোহেল রানা।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান মিয়া বলেন, গত ১৭ এপ্রিল ট্রাক্টর কেনার জন্য নিজের জমানো টাকা নিয়ে নওগাঁ শহরে যান নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার ধনপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও ট্রাক্টর চালক শহিদুল ইসলাম। ওই দিন থেকেই তাঁর সন্ধ্যান পাচ্ছিলেন না পরিবারের লোকজন। গত ১৯ এপ্রিল বাড়ির পাশে রাণীনগর উপজেলার মেরিয়া গ্রামের একটি পুকুরে ভাসমান ড্রাম থেকে শহিদুলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার পর পরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। কিন্তু শুরুর দিকে এই হত্যাকা-ের কোনো কূল কিনারা করতে পারছিলো না পুলিশ। পরবর্তীতে এই ঘটনার জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যানুসারে এ ঘটনার সঙ্গে গ্রেপ্তার সজিব, ও সোহেল রানা এবং মান্দা উপজেলার সদরের আব্দুল জব্বারের জড়িত থাকার প্রমাণ পায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

গত শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে নওগাঁ শহরের চকদেবপাড়া এলাকার একটি বাসা থেকে সজিব ও সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গতকাল শনিবার গ্রেপ্তার সজিব ও সোহেল রানা আদালতের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পুলিশ সুপার জানান, শহিদুলের সঙ্গে আগে থেকেই পরিচয় ছিল ট্রাক চালক সজিব ও সোহেল রানার। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে গত ১৭ এপ্রিল নওগাঁয় এসে একটি ট্রাক্টর কিনে দেওয়ার জন্য সজিব ও সোহেলের কাছে সহযোগিতা চান।

শহিদুলের কাছে থাকা টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য কৌশলে মান্দায় আব্দুল জব্বারের বাসায় তাঁকে নিয়ে যান সজিব ও সোহেল রানা। পরে সেখানে তাঁকে হত্যা করে তাঁর লাশ প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে দেয়। পর দিন রাতে একটি পিকআপে করে নিয়ে ড্রামে ভরা শহিদুলের লাশ তাঁর গ্রামের বাড়ির পাশে মেরিয়া গ্রামের একটি পুকুরে ফেলে যায়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ একেএম মামুন খান চিশতী ও আবু সাঈদ উপস্থিত ছিলেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে