পত্নীতলায় গ্রীষ্মের তাপদাহে প্রাণ জুড়াচ্ছে তাল শাঁস

প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২১; সময়: ৮:১৬ pm |

মাসুদ রানা,পত্নীতলা : ঐ দেখা যায় তাল গাছ, ঐ আমাদের গাঁ, ঐ খানেতে বাস করে কানা বগীর ছা’ গাঁয়ে এখন বকের ছানা থাক বা না থাক, পত্নীতলা উপজেলার প্রায় প্রতিটি এলাকার তালগাছগুলোতে কিন্তু কচি তালে ভরে আছে।

মধুমাসের এ ফলকে কেউ বলে তালের শাঁস, কেউ বলে তালকুর, কেউ বলে তালের আটি। গরমের মধ্যে তৈলাক্ত খাবারের চেয়ে তালের শাঁস অনেক উপকারী। এর রয়েছে অনেক পুষ্টি গুণ। তাই জৈষ্ঠ্যের এ মধুমাসে বাজারে নানা ফলের সাথে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে তালের শাঁস।

মধুমাস জৈষ্ঠ্য। গাছে গাছে নানা ফলের সমাহার আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু ছাড়াও অন্যতম আরেকটি ভিন্নধর্মী ফল তাল, গ্রামগঞ্জের সকলেই চেনেন এ ফলটি। তাল ফলের নরম অংশটি খুবই সুস্বাদু। আঞ্চলিক ভাষায় এটি ‘তালকুর’ নামেই বেশি পরিচিত। প্রচন্ড গরমে তালের এই শাঁসটি শহর ও গ্রামের মানুষের কাছে খুবই প্রিয়।

বর্তমানে গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের বিভিন্ন স্থানে এই মৌসুমী ফল তালের শাঁস বিক্রি বেড়েছে। অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ীরা তাল গাছ থেকে অপরিপক্ক তাল ফল পাইকারী কিনে এনে কেটে কেটে বিভিন্ন দামে বিক্রয় করে।

পাকা তালের চেয়ে তাল শাঁসের দাম অনেক বেশি। কিন্তু,দিন যতই যেতে থাকে এই তাল শাঁস ততই শক্ত হতে থাকে। তখন শাঁসের দাম কমতে থাকে এবং এক সময় তাল পরিপক্ক হয়ে গেলে তখন আর এই শাঁস খাওয়া সম্ভব হয়। পাকা তালের রস আরও সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরা।

গ্রীষ্মের এই তাপদাহে পত্নীতলায় তালের শাঁস প্রাণ জুড়াচ্ছে পথিকের খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার। মঙ্গলবার উপজেলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ড কাঁচা বাজার এলাকায় দেখা যায়, স্থানীয় যুবক শরিফ তাল শাঁস বিক্রি করছেন। ক্রেতাদের অনেক ভিড়। বিক্রেতা শাঁস কেটে সারতে পারছেন না, ক্রেতারা দাঁড়িয়ে রয়েছেন শাঁস নিতে।

এ সময় তালশাঁস কিনতে দেখা যায় নজিপুর পৌর আওয়ামী লীগ ও বাসস্ট্যান্ড বণিক কমিটির সভাপতি শহিদুল আলম বেন্টু, শিক্ষা কর্মকর্তা আপেল মাহমুদ, কৃষ্ণপুর ইউপির চেয়ারম্যান প্রার্থী ফজলুল হক, ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক, আশরাফুল, রাব্বীসহ আরও অনেককে।

তাল শাঁস বিক্রি করতে আসা মোঃ শরিফ উদ্দীন (৩০) বলেন, প্রতি বছরই এ সময়ে তালের শাঁস বিক্রি করে সংসার চালান তিনি। গ্রাম অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে তাল ক্রয় করে, গাছ থেকে পেড়ে এনে শাঁস বিক্রি করেন।

জৈষ্ঠ্যের অর্ধেক পর্যন্ত চলবে তালের শাঁস বিক্রি। প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ তাল বিক্রি করা যায়। একটি শাঁস (চোখ) আকার ভেদে ৫ থেকে ১০ টাকা দরে বিক্রি করছি। এতে তার প্রায় এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা বিক্রি হয়। এতে তার ভালই লাভ হয় বলে জানান।

এ বিষয়ে টিএমএসএস ফিরোজা বেগম আয়ুর্বেদিক- ইউনানি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রভাষক ও জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. আব্দুল গফুর বলেন, পাকা তালের চেয়ে তাল শাঁসের পুষ্টিগুণ বেশী। এটি মানব শরীরে ক্যালসিয়াম ঘাটতি, পানিশুন্যতা পূরণ করে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। তালশাঁস শরীরের কোষের ক্ষয় প্রতিরোধ করে। এমনকি ক্ষয় হয়ে গেলে তা পূরণ করাসহ অন্যান্য পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে