নিয়ামতপুরে ব্যক্তি সম্পত্তির উপর আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের অভিযোগ

প্রকাশিত: মে ২৬, ২০২১; সময়: ৬:৪৮ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, নিয়ামতপুর : নওগাঁর নিয়ামতপুরে ব্যক্তি মালিকানা সম্পত্তির উপর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ঘর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ওই সম্পত্তির উপর চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ৬ মে নওগাঁ সহকারী জজ আদালতে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ছাতড়া ভূমি অফিসের তহসিলদারের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার আবেদন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছাতড়া মৌজার ১১৮ নম্বর খতিয়ানে ২২৭ নম্বর দাগে মোট সম্পত্তি রয়েছে ৪ একর ১৪ শতাংশ। এর মধ্যে ৩ একর ৯৭ শতাংশ সম্পত্তি সরকারের ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত। বাঁকী ১৭ শতাংশ সম্পত্তি ছাতড়া গ্রামের সাদুল্যা মিয়ার ছেলে রোজন আলী মিয়া এবং রহমত উল্ল্যা মিয়ার ছেলে মীর হোসেনের নামে আর এস খতিয়ানভুক্ত হয়।

রোজন আলী মিয়ার নাতী পারভেজ আনসারীর অভিযোগ, সরকারের ৩ একর ৯৭ শতাংশ সম্পত্তির উপর ১৭ জন ভূমিহীন অনেক বছর যাবত বসতবাড়ী নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন। পাশাপাশি মসজিদ ও শ্বশানসহ আরো তিনজন ব্যক্তি পত্তন নিয়ে দখল করে আছেন। ওই দাগের পশ্চিম দিকে রাস্তার ধারের ৮ শতাংশ সম্পত্তি আমার দাদার দখলকৃত এবং খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি। যা যুগের পর যুগ ভোগ দখল করে আসছি।

তিনি আরো বলেন, হঠাৎ গত ৫ মে জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের পরামর্শে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও তহসিলদার হরিজনদের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার জন্য ইট, বালি, সিমেন্ট এনে রাখেন এবং আমাদেরকে কাজে বাধা না দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করেন।

মামলার পরেও ঘর নির্মাণ বন্ধ না করায় পারভেজ আনসারী অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে ১৭ মে পুনরায় সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৮১/২১চিঃনিঃ। আদালত কর্তৃক কারণ দর্শানো নোটিস পাওয়া সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কাজ বন্ধ করেননি বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পারভেজ আনসারী।

এ বিষয়ে ছাতড়া ভূমি অফিসের তহসিলদার হারেজ উদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, ব্যক্তি মালিকানার ১৭ শতাংশ সম্পত্তি সামনের পাকা বাড়ী থেকে পূর্বদিকে তাদের দখলেই আছে। মীর হোসেনের সাড়ে ৮ শতাংশ সম্পত্তি সুইপার কিনে নিয়েছে। অন্য অংশীদার রোজন আলী মিয়ার বাঁকী সাড়ে ৮ শতাংশ সম্পত্তির মধ্যে সাড়ে ৩ শতাংশ সম্পত্তি মোতালেব হোসেন নামে এক ব্যক্তি কিনে নিয়ে সাড়ে ৮ শতাংশ সম্পত্তি ভোগ দখল করে আছেন। আমাদের সার্ভেয়ার দ্বারা মাপ করা আছে। বিবাদীয় জায়গাটি নিচু ছিলো ১৫/১৬ বছর আগে সরকারীভাবে মাটি কেটে ভরাট করে গরুহাটি হিসাবে ব্যবহার করা হতো। মামলা বিষয়ে কোর্ট থেকে আমরা নোটিস পেয়েছি। জবাব তৈরী করা আছে, কোর্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার জয়া মারীয়া পেরেরা বলেন, এটি একেবারে নিরঙ্কুশ খাস জমি। এখানে পায়তারা করছে পাশে যিনি খাস জায়গার উপর বাড়ী করে আছেন। দুই অংশীদারের সাড়ে আট সাড়ে আট করে সম্পূর্ণ সম্পত্তি তাদের দখলেই আছে। এটা নিরঙ্কুশ খাস জমি। এখানে ছাগল হাটির জন্য ভরাট করা হয়েছিল। এখন রাস্তার ধারে মুখের সামনে ঘর উঠবে তাদের সহ্য হচ্ছে না। তাই কিভাবে আটকাবে, আটকানোর জন্য মামলা করেছে, করতেই পারে। যে কেউ মামলা করতে পারে। আমার এখানে নিরুঙ্কুশ খাস জমি, আমি এখানে ঘর উঠাবো। মামলায় তারা রায় নিয়ে আসুক। পিআইও কখনও খাস জমি ছাড়া ভরাটের জন্য বরাদ্দ দেয়? পিআইও বরাদ্দ দিয়ে এই জমি ভরাট করা হয়েছে। এটা নিরঙ্কুশ খাস এলাকার সবায় জানে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাজে বাধা দিয়ে পার পেয়ে যাবে এতই সহজ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে