মা-বাবা হারানো বক্সার কায়মার উন্নত প্রশিক্ষণ প্রয়োজন

প্রকাশিত: এপ্রিল ৩০, ২০২১; সময়: ১১:১৮ am |
কপোত নবী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : আমের রাজধানী খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিগ্রামের সুমী বেগমের মেয়ে কায়েমা খাতুন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাহ শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষে অধ্যায়নরত আছে। জানাগেছে, কায়েমার বয়স যখন মাত্র ৩ মাস তখন দাদির সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা করেন তাঁর বাবা। বাবার মৃত্যুর কিছুদিন পর মা আবার বিয়ে করেন। সৎ বাবার সংসারে কায়েমার ঠাঁই হয়নি।
আরও জানাগেছে, বড় হয়েছেন নানি নূরজাহান বেগমের কাছে। এই নানিই তাঁর বাবা-মা সবকিছু। কায়েমার খেলাধুলায় হাতেখড়ি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়। নবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় (টাউন হাইস্কুল), আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করার সময় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় কায়মা অংশগ্রহণ করতেন। সদ্য শেষ হওয়া বাংলাদেশ গেমস বক্সিংয়ে মেয়েদের ৪৮ কেজি ফ্লাইওয়েট শ্রেণিতে সোনা জিতেছেন কায়েমা। ১৮ বছর বয়সী কায়েমা ছোটবেলা থেকেই জীবনের বাঁকে বাঁকে বাঁধা পেয়েছেন তবু দমে যাননি।
নানি গৃহকর্মীর কাজ করেন, মামা নূরনবী নির্মাণশ্রমিক। মা তো থেকেও নেই। ক্রীড়াশিক্ষক নূর আলম আর কুমকুম বেগমের অনুপ্রেরণায় তাঁর খেলাধুলায় আসা। কায়েমা চাঁপাইনবাবগঞ্জ বক্সিং একাডেমির একজন খেলোয়াড়। মসজিদপাড়ার সন্তান কোচ রাজু আহমেদ এর সানিন্ধে সে বক্সিং প্র্যাকটিস করেন। রাজুর প্রেরণায় আজ এতদূর আসা।
কায়মা জানান, বাংলাদেশ গেমসের সাফল্য বদলে দিয়েছে আমার জীবন। শত প্রতিকুলতার সাথে যুদ্ধ করে পড়ালেখা করার পাশাপশি দেশের হয়ে এসএ গেমসে অংশ নিয়ে সোনা জিততে চাই। সে জন্য প্রয়োজন অনুশীলনের, ভালো সুযোগ সুবিধা। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।
  • 25
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে