মন্দিরের সামনে মলের ট্রাংকি নির্মাণে হিন্দু ছাত্রদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ

প্রকাশিত: এপ্রিল ২৪, ২০২১; সময়: ৩:০২ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর সরকারী কলেজের মন্দিরের সামনে নির্মানাধীন ছাত্রী হোস্টেলের পায়খানার ট্রাংকি নির্মান করায় কলেজের হিন্দু ছাত্রসহ স্থানীয় হিন্দুদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রভাবশালী মহলের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস করছে না অনেকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শাহজাদপুর কলেজের পিছনে কলেজের একটি মন্দির রয়েছে। যে মন্দিরটিতে দূর্গাপুজা সহ বারো মাসে নানা পুজা অনুষ্ঠিত হয়। মন্দিরের মধ্যে এখনো কালী প্রতিমা রয়েছে। অথচ মন্দিরের সামনে ৩ ফুট দুরত্বে কলেজের ছাত্রী হোস্টেলের পায়খানার ট্রাংকি নির্মান করা হয়েছে। যা মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট করার পাশাপাশি ধর্মীয় অনুভতিতে আঘাত হানা হয়েছে বলে অভিযোগ কলেজের হিন্দু শিক্ষার্থী ও স্থানীয় হিন্দুদের।

হিন্দু ছাত্রদের অভিযোগ কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস ছাত্তার দুই বছর ধরে মন্দিরে পুজা আয়োজন করতে দিচ্ছে না। এমন কি করোনার মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্বরসতী পুজা করা হলেও করোনার দোহাই দিয়ে শাহজাদপুর কলেজে স্বরসতী পুজা পর্যন্ত করতে দেয়নি অধ্যক্ষ। পুজোর কথা শুনলে তিনি রেগে যান । একদিকে পুজা বন্ধ করে দিয়েছেন অন্য দিকে মন্দিরের সামনে পায়খানার ট্রাংকি বসিয়ে মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট করছেন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কলেজ মন্দিরের সামনে ট্রয়লেটের ট্রাংকি এমন ছবি ভাইরাল হলে শাহজাদপুর উপজেলা হিন্দু ছাত্র পরিষদ মন্দিরটি সংস্কার এবং ট্রয়লেটের ট্যাংকি অপসারনের দাবিতে স্বারক লিপি দিলে অধ্যক্ষ সেই স্বারক লিপি গ্রহণ করেননি। এসময় তিনি হিন্দু ছাত্র নেতাদের বলেছেন উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলেই এ কাজ করা হচ্ছে। তোমাদের এখানে কোন কথা চলবে না। পরে শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট স্মারক লিপি প্রদান করেন।

তবে মন্দিরের সামনে পায়খানার ট্রাংকি নির্মান করা হলেও এই বিষয় নিয়ে উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ কোন প্রতিবাদ করেনি। দীর্ঘ দিন ধরে তাদের কাছে সাধারন শিক্ষার্থীরা এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য অনুরোধ করলেও তারা তা কর্ণপাত করেনি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

এবিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা পুজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক বিমল কুন্ডু জানান, শাহজাদপুর কলেজের মন্দিরের সামনে ট্রাংকি নির্মান করা হচ্ছে এটা আমরা জানি। যেহেতু মন্ত্রনালয়ের কাজ এটি সরকারি উন্নয়নে কাজের জন্য আমরা কিছু বলেনি। তবে সমস্যা হলে মন্দিরের সামনে দেযাল দেয়ার ব্যবস্থা করবে কলেজ কর্তৃপক্ষ এমন আলোচনা আমাদের হয়েছে। তিনি এসময় আরো বলেন, মন্দিরের সামনে ট্যাংকি নির্মান করা হচ্ছে শুনে আপনারা স্বোচ্চার হলেন অথচ গৌর বসাক মন্দিরের যায়গা দখল করেছে এ বিষয়ে তো আপনারা লেখেন না। কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনায় কোন রেজুলেশন আছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন মৌখিক সিদ্ধান্ত হয়েছে কোন আলোচনা হয়নি।

মন্দিরের সামনে পায়খানার ট্রাংকি নির্মানের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস ছাত্তারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভার্চুয়াল মিটিং এ আছি এসময় সামনা সামনি কথা বলতে পারবো না। তিনি বলেন, প্রকৌশলী যে ভাবে নকশা করেছে সে ভাবে কলেজের জমিতে কলেজের ছাত্রীদের জন্য হোস্টেল নির্মান করা হয়েছে। নকশায় ভবনের দুই পাশে ট্যাংকি রয়েছে। যেহেতু প্রকৌশলী নকশা দিয়েছে মন্ত্রনালয় কাজ করছে এখানে আমাদের কিছু বলার নেই। আর ট্যাংকিতো উন্মুক্ত থাকবে না প্রয়োজনে মাটি দিয়ে ঢেকে দেয়া হবে ট্যাংকি। এসময় তিনি বলেন মন্দিরের যায়গা দখল করে পাইপ গেরেছে কারা আপনারা তাদের সম্পর্কে লেখেন। এটা সরকারের উন্নয়ন কাজ এটা চলবে। কলেজ অধ্যক্ষর মোবাইল শেষে মন্দিরের সামনে ছাত্রলীগ নেতা মামুন সহ কলেজ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ এসে উপস্থিত হিন্দু ছাত্র এবং গণমাধ্যম কর্মীদের উপর চড়াও হয়।

সিরাজগঞ্জ জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক দিলীপ গৌর ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে বলেছেন এই বিষয়ে আমরা উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি। তিনি আমাদের আশ্বাষ দিয়েছেন মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষা করার ব্যবস্থা করা হবে। আমরা আশাবাদি যদি এটি সরানো না হয় তাহলে আমরা জেলা ব্যাপী আন্দোলনের ডাক দিবো।

এবিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহ মোহাম্মদ শামছুজ্জোহা জানান, মন্দিরের সামনে পায়খানার ট্যাংকি নির্মান একটি গ্রহীত কাজ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ বাংলাদেশ এখানে মন্দিরের সামনে পায়খানার ট্যাংকি নির্মান করে ধর্মঅনুভতিতে আঘাত হানার চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। তবে যেহেতু আমি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরেছি আমি দ্রুত পদক্ষেপ নেবো এবং ঐখান থেকে ট্যাংকি সরানোর বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

  • 108
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে