মান্দায় খেয়াঘাট শ্রমিক হত্যার মোটিভ ৩ মাসেও উদঘাটন হয়নি

প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২১; সময়: ৪:৫১ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, মান্দা : নওগাঁর মান্দা উপজেলার ত্রিমোহনী খেয়াঘাটের শ্রমিক আব্দুস সাত্তার মোল্লা (৫০) হত্যাকান্ডের মোটিভ ৩ মাস ৭ দিনেও উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। ঘটনার পর গত ১৫ জানুয়ারি সন্দেহভাজন হিসেবে খোদাবকস প্রামানিক (৫০) নামে একব্যক্তিকে গ্রেফতার ছাড়া এ মামলার আর কোন অগ্রগতি নেই। গ্রেফতারকৃত খোদাবকস উপজেলার জোতবাজার এলাকার বিশু মাঝির ছেলে। তিনি পুলিশের তালিকাভূক্ত মাদক ব্যবসায়ি।

তবে থানা পুলিশ বলছে, মাদক সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে খেয়াঘাটের শ্রমিক আব্দুস সাত্তার খুন হয়ে থাকতে পারেন এমন সূত্র ধরেই তদন্তকাজ শুরু করা হয়েছিল। এ সূত্রের আলোকে গ্রেফতার করা হয় ওই এলাকার তালিকাভূক্ত মাদক ব্যবসায়ি খোদাবকস মিয়াকে। তাকে আদালতে পাঠিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু আদালত রিমান্ড মঞ্জুর না করায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে অন্ধকারেই ঘুরপাক খাচ্ছে এ হত্যাকান্ডের রহস্য।

অন্যদিকে ত্রিমোহনী খেয়াঘাট সংলগ্ন আত্রাই নদীতে প্রত্যেক রাতেই মাছ শিকার করেন এমন কয়েকজন মৎস্যজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাত ১০ টার পর খেয়াঘাট বন্ধ করে দিয়ে মালিকরা বাসায় চলে যান। এরপর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শ্রমিক আব্দুস সাত্তার ঘাটে বসে টাকা আদায় করতেন। পারাপারের টাকা নিয়ে অনেক সময় বাকবিতন্ডা হতেও শুনেছেন। তবে রাতের কারণে ওইসব লোকদের বিষয়ে তারা কোন তথ্য দিতে পারেন নি।

মৎস্যজীবীরা আরও বলেন, খরা মৌসুমের শুরুতে এ খেয়াঘাটে নির্মিত হয় বাঁশের সাঁকো। এ সাঁকো দিয়ে বছরের অন্তত ৮ মাস লোকজন চলাচল করে। খেয়াঘাটের অবস্থান নির্জন এলাকায় হওয়ায় রাত ৯ টার পর লোকজন আর তেমন চলাচল করেন না। কিন্তু খরা মৌসুমে রাত গভীর হলে এ পথে মোটরসাইকেলের চলাচল বেড়ে যায়। তবে গভীর রাতে মোটরসাইকেলে কারা এবং কেন চলাচল করেন এ বিষয়ে তারা পুরোটাই অন্ধকারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, খুন হবার কয়েকদিন আগ থেকেই আব্দুল সাত্তারকে বেশ উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছিল। জানতে চাওয়া হলেও তিনি কিছুই বলেননি। এ অবস্থায় হঠাৎ করেই তাকে জবাই করে হত্যা করা হয়। নিহত আব্দুস সাত্তার খেয়াঘাটের শ্রমিক ছিলেন। তার একমাত্র ছেলে জাইদুর রহমান বালুর পয়েন্টে শ্রমিকের কাজ করেন। কোন জমিজমা নেই। এরপরও বিপুল পরিমান টাকা খরচ করে ফ্ল্যাট বাড়ি তৈরি করলেন, এ টাকার উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।

তারা আরও বলেন, ত্রিমোহনী খেয়াঘাট নিরাপদ রুট হওয়ায় গভীর রাতে মোটরসাইকেলে এ পথে মাদক পাচার হয়ে থাকে এমনটাই সন্দেহ তাদের। আব্দুস সাত্তার মাদকের চালান থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করতে গিয়ে কারবারিদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। মাদক কারবারিদের হাতেই সাত্তার খুন হয়ে থাকতে পারেন তারা এমনটাই ধারণা করছেন।

নিহতের মেয়ে রিপা আক্তার জানান, গত ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নিকটস্থ বাজারে চা খাওয়ার উদ্দেশ্যে বাবা আব্দুস সাত্তার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। রাত ১০টা পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। এরপর তার ব্যবহৃত মোবাইলফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সেটি রিসিভ হয়নি। এ অবস্থায় বুধবার সকাল ৯টার দিকে বাবার মৃত্যুর বিষয়ে জানতে পারেন তারা। তবে আব্দুস সাত্তার গভীর রাত পর্যন্ত খেয়াঘাটে বসে টাকা আদায় করতেন কি-না এবিষয়ে তিনি কিছুই জানাতে পারেন নি।

মেয়ে রিপা আক্তার বলেন, তার বাবা একজন ভাল মানুষ ছিলেন। এলাকার লোকজনের সঙ্গে কখনই দ্বন্দ্ব-বিবাদে জড়াতেন না। কারও সঙ্গে বিরোধের বিষয়েও তার জানা নেই। তবে আব্দুস সাত্তার কেন হত্যাকান্ডের শিকার হলেন এটিও তার অজানা। মান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুর রহমান বলেন, আব্দুস সাত্তার খুনের ঘটনায় একজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। খুব শিগ্রই হত্যাকান্ডের মোটিভ উদ্ধারসহ জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য. এ বছরের ১৩ জানুয়ারি সকালে নওগাঁর মান্দা উপজেলার আত্রাই নদীর ত্রিমোহনী খেয়াঘাটের শ্রমিক আব্দুস সাত্তারের গলাকাটা মরদেহ বাড়ি থেকে অন্তত: ১০ কিলোমিটার দুরে উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের শহরবাড়ি পূর্বপাড়া এলাকায় আত্রাই নদীর তীর সংলগ্ন একটি ভুট্টাখেত থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আব্দুস সাত্তার উপজেলার নুরুল্লাবাদ ইউনিয়নের নুরুল্লাবাদ উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত ফজের আলী মোল্লার ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে জাইদুর রহমান বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

  • 7
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে