বদলগাছীতে মাটিবাহী ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলে অতিষ্ট জনজীবন

প্রকাশিত: এপ্রিল ২২, ২০২১; সময়: ১:৪৩ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, বদলগাছী : নওগাঁর বদলগাছীতে সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লকডাউন আদেশকে তোয়াক্কা না করে মাটিবাহী ট্রাক্টর বেপরোয়া চলাচলের কারণে কয়েকটি গ্রামের জনজীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। বেপরোয়া ট্রাক্টর ধুলিবালি উড়ে জনস্বাস্থ্য হুমকীর মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার রহিমপুর হতে তাজপুর সংযোগ সড়কের মেঠোপথে ১ মিনিট দাঁড়িয়ে ১ জন ট্রাক্টর চালকের নাম ও মালিকের নাম-ঠিকানা জানতে চাইলে নিমিষেই আগে পিছে আরো ৫ থেকে ৬টি মাটিবাহী ট্রাক্টর এসে জমা হয়।

ঐ ট্রাক্টর ড্রাইভার সুমন জানায়, তিনি ট্রাক্টর মালিক মিঠুনের ড্রাইভার। পথেই ট্রাক্টর মালিক মিঠুন এর সংগে দেখা হয়। লকডাউন উপেক্ষা করে বেপরোয়ভাবে তাদের ট্রাক্টর রাস্তা ঘাটে চলছে জানতে চাইলে ট্রাক্টর মালিক মিঠুন বলেন, আমার কোন ট্রাক্টর নেই। অবশ্য তার সাথে থাকা শিশু কন্যা বললেন আব্বা মিথ্যা কথা বলছে, আমাদের ট্রাক্টর আছে।

তথ্য সংগ্রহকালে উপস্থিত আরও ৫/৬ টি মাটিবাহী ট্রাক্টরের মালিক কিসামত পাঁচঘরিয়া গ্রামের মিলন। মিলনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে মিলন পাল্টা প্রশ্ন করেন যে, আমাদের বিরূদ্ধে কে অভিযোগ করেছেন তার নাম বলেন।

তিনি আরও বলেন, সরকার আমাকে জন্ম দেয়নি জন্ম দিয়েছে আল্লাহ। তাই সরকার কখন কি নিয়ম-নীতিমালা করছে তাতে আমার কিছু যায় আসে না। আমার ৪ টি ট্রাক্টর আছে। মাটি কেনাবেচা ব্যবসা আমার থাকবেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার কয়েকজন গ্রামবাসী বললেন, আপনারা ঘুরে ঘুরে এলাকার পরিস্থিতিটা দেখুন তাহলে দেখতে পারবেন রহিমপুর, পাকুরিয়া, কিসামত পাঁচঘরিয়া, তাজপুর, কসবা, পুকুরপার গ্রামসহ আশপাশের লোকজন বাড়ী ঘরের জানালা দরজা খুলে রাখতে পারে না। রাস্তা ঘাটে বের হওয়া যায় না। বেপরোয়া মাটিবাহী ট্রাক্টরগুলো চলাচলের কারণে মেঘের মতো ধুলি বালি উড়ে।

এলাকায় তিন ফসলী জমির উর্বর মাটি, ফসলি জমিতে পুকুর খনন, এমনকি ডোবা নালার মাটি গভীরভাবে খনন করে মাটি কেনা বেচার জমজমাট ব্যবসা চলছে। তারা না মানে লকডাউন, না মানে সরকারের কোন নীতিমালা। মাটি কেনাবেচার সিন্ডিকেট নেতারা যেন এই এলাকার রাজা।

এবিষয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও পাহাড়পুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কিশোর বলেন, মাটি বাহি ট্রাক্টরগুলো বেপরোয়া চলাচলের কারণে এলাকার রাস্তা ঘাট সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলপনা ইয়াসমিন বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

  • 156
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে