ধামইরহাটে বছর ধরে বন্ধ কেজি স্কুল, দূর্ভোগে শিক্ষক-কর্মচারী

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৯, ২০২১; সময়: ৮:৪১ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, ধামইরহাট : নওগাঁর ধামইরহাটে এক বছরের বেশি সময় ধরে কেজি স্কুলগুলো বন্ধ থাকায় দূর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীগণ। কেউ পেশা বদলেছেন, অনেকেই মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ধামইরহাট উপজেলার কিন্ডারগার্টেন স্কুল শিক্ষক সমিতির সভাপতি আফজাল হোসেন জানান, সরকারি ঘোষণা মোতাবেক ২০২০ সালের ১৭ই মার্চ থেকে সমস্ত স্কুল বন্ধ রয়েছে। সরকারী বিধি মোতাবেক নিজ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বেতন, সেশন ফি, ভর্তি ফি, ইত্যাদি থেকে অর্জিত নামমাত্র বেতনে শিক্ষিত বেকার তরুণরা শিক্ষকতা করে থাকেন। বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পাশাপাশি কোচিং ও প্রাইভেট পড়ানো ইত্যাদির মাধ্যমে বেতন পুষিয়ে নিতেন তারা। কিন্তু অভিশপ্ত করোনাভাইরাসের কারণে উপজেলার ২৫টি কেজি স্কুলের ২২৫ জন শিক্ষক-কর্মচারীর বড় সংকটে দিন কাটছে।

তিনি আরও জানান, পেশা বদলে কেউ কৃষি কাজে আত্মনিয়োগ করেছেন। কেউ স্থানীয় ক্লিনিকে স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে পার্টটাইম কাজ করছেন। আবার কেউ বাবা-মায়ের সংসারের বোঝা হয়ে রাতদিন গালমন্দ হজম করছেন। বিদ্যালয়ের পরিচালকরা ঘরভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদি খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

ধামইরহাট কিন্ডারগার্টেন স্কুলের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল বারিক বলেন, কিন্ডারগার্টেন স্কুল শিক্ষকদের দিন যাচ্ছে অত্যন্ত অর্থকষ্টে।

নওগাঁ জেলা কিন্ডারগার্টেন স্কুল সমিতির সভাপতি আল মুবিন রানা বলেন, নওগাঁ জেলায় তিন শতাধিক কিন্ডারগার্টেন স্কুল বন্ধ থাকায় শিক্ষক-কর্মচারীরা অত্যন্ত দুঃখ-কষ্টে দিনযাপন করছেন। অর্থ কষ্ট দূর করতেই কেউবা গার্মেন্টসে চাকরি করছেন, কেউবা কৃষি কাজে জড়িয়ে পড়েছেন।

সরকারি প্রণোদনা পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকারি সামান্য প্রণোদনা দেয়ার চেয়ে আমাদের বিদ্যালয় খুলে দিলেই বেশি উপকার।’

ধামইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার গণপতি রায় বলেন, আন্তরিক সদিচ্ছা থাকলেও সরকারি কোন সহযোগিতা না পাওয়ায় তাদের জন্য কোন কিছু করা সম্ভব হয়নি। সরকারি অনুদান আসলেই দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে