করোনার মাঝেও চাটমোহরে ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা শুরু

প্রকাশিত: এপ্রিল ১৩, ২০২১; সময়: ৭:১৩ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, পাবনা : পাবনার চাটমোহরে বড়াল নদের তীরে বোঁথর গ্রামে শুরু হয়েছে হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা। তবে করোনা ও লকডাউন পরিস্থিতির কারণে মেলা বন্ধ রেখে স্বল্প পরিসরে শুধুমাত্র পূজার আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হচ্ছে।

পাট ঠাকুরের পাটে ধুপ দেয়ার পর সোমবার (১২ এপ্রিল) মন্দিরে মহাদেব এর অধিবাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয় পূজার আনুষ্ঠানিকতা। মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) সকাল দশটায় দীঘির পানি থেকে চড়ক গাছ তোলা হয়। ১৩ হাত দৈর্ঘ্যরে শাল গাছটি চড়ক নামে পরিচিত। চড়ক গাছটি মন্দির প্রাঙ্গনের স্থাপনের পর মনোবাসনা পূরণের আশায় সেই গাছে দুধ, তেল, চিনি ঢালেন ভক্ত, অনুসারী ও পূন্যার্থীরা।

হিন্দু সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে হাজার বছর ধরে চলে আসা এই মেলা সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়। শুধু এপার বাংলা নয়, ওপার বাংলা থেকেও ভক্ত অনুসারীরা আসেন পূজা দিতে। কিন্তু এবছর করোনা পরিস্থিতি ও লকডাউনের কারণে পাল্টে গেছে উৎসবের চিত্র। মেলা বন্ধ রেখে স্বল্প পরিসরে পূজার আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থান থেকে পুন্যার্থীরা পুজার আনুষ্ঠানিকতায় যোগ দেন।

পূজা দিতে আসা উজ্জল দত্ত ও মানিক দাস বলেন, আমরা বিশ্বাস করি বাবা মহাদেবের কাছে মানসা করলে সেই মানসা পূরণ হয়। সেকারণে আমরা মহাদেবের মানসা দিতে আসি। বাবা মহাদেবের আশির্বাদে গোটা বিশ্ব শান্তিতে থাকবে আশা করি।

সুরভী দত্ত বলেন, বিয়ের পর থেকে দেখে আসছি মনোবাসনা পূরণের উদ্দেশ্যে প্রতিবছর বোঁথড়ে মহাদেবের মন্দিরে ও চড়ক গাছে পূজা দেয়। সবার মনোবাসনা বাবা মহাদেব পূর্ন করে। সেজন্য আমিও আসি পূজা দিতে।

উদ্দীপনা দত্ত বলেন, এতদিন মনোবাসনা যা যা চেয়েছি ভগবানের কাছে তার সবই পূরণ হয়েছে। আশা করি এবারও হবে। এবারের প্রত্যাশা করোনা মুক্ত সুস্থ্য বিশ্ব পাবো আমরা।

বোঁথড় মহাদেব মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ধীরেন দত্ত ও সহ সম্পাদক রাজিব কুমার বিশ্বাস রাজু বলেন, আমরা প্রশাসনের সহযোগিতায় সুষ্ঠুভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্প পরিসরে পূজার আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনা করছি। স্বেচ্ছাসেবক টিম সবসময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ নিশ্চিত করছে। ইতিপূর্বের পূজার সাথে মেলাও হতো। কিন্তু করোনার কারণে আমরা এবার মেলা বন্ধ রেখেছি। এ কারণে কোনো দোকানপাট বসতে দেয়া হয়নি।

উল্লেখ্য, তিনদিনব্যাপী এই পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে আগামী ১৫ এপ্রিল। করোনার কারণে গতবছর চড়ক পূজার আয়োজন বন্ধ ছিল।

  • 27
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে