চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুই বংশের সংঘর্ষে নিহত ২

প্রকাশিত: এপ্রিল ১০, ২০২১; সময়: ১১:০৭ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুরে দফাদার ও হাচড়ি বংশের মধ্যে সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক পক্ষ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকায় শুক্রবার সকালে রাস্তায় ট্যাফে ট্যাক্টর চালানো নিয়ে স্থানীয় দফাদার বংশের লোকজন বাধা দেয়। ট্যাফে ট্রাক্টরের মালিক পক্ষ হাচড়ি বংশের লোকজনও এর প্রতিবাদ জানায়।

ঘটনার এক পর্যায়ে স্থানীয় দফাদার বংশের পক্ষে জালাল মেম্বারের নেতৃত্বে তার ছেলে অসিম, ইয়াসিনের ছেলে শরীফ, ওয়াসিমের ছলে ইকবাল, আলাউদ্দিনের ছেলে নাইমসহ ৪০-৫০ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্র, রামদা ও লাঠিসোটা সহ হাচড়ি বংশের লোকজনের বাড়ি আক্রমন করে। এসময় উভয় পক্ষের নয়জন আহত হয়।

মাথায় ইটের আঘাতে দফাদার বংশের আব্দুর রহমান (৪০) মারা যায়। তার কিছুক্ষন পর হাচড়ি বংশের মনসুর আহমেদ (৮৫) মারা যাওয়ার খবর আসে। মনসুর আহমেদের পরিবারের দাবি দফাদার বংশের লোকজনের আঘাতেই তিনি মারা যান।

পুলিশ ঘটনার পরে জালাল উদ্দিন মেম্বার, খাইরুল ইসলাম, খোকন আলী, আমিরুল ইসলাম, ইব্রাহিম হোসেন, আমিরুল ইসলাম, রুবেল হোসেন, বেলাল উদ্দিন, সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করে। এর মধ্য থেকে জালাল উদ্দিন মেম্বারকে পুলিশ ছেড়ে দিয়েছে বলে জানা যায়।

এদিকে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সদর উপজেলায় আব্দুর রহমান নিহতের ঘটনায় দফাদার বংশের আব্দুল জব্বার ৩৭ জনের নামসহ অজ্ঞাত ৪৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করে।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন বলেন, এই ঘটনায় নিহত আব্দুর রমানের পক্ষে জব্বার বাদী হয়ে ৪৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মনসুর আহমেদ মন্ডল নিহতের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। তারাও অভিযোগ দিলে নেয়া হবে।

এদিকে, নিহত অপরপক্ষের মনসুর আহমেদ এর আত্মীয় স্বজনরা হত্যা মামলা করতে চাইলেও আগেই অপরপক্ষ তাদের নামে মামলা দায়ের করায় তারা থানায় যেতে পারেন নি। তবে কোর্টে মামলা করবেন বলে জানান এই পক্ষের ইসরাইল হক।

স্থানীয় হাচড়ি বংশের আইউব আলী বলেন, নিহত মুনসুর আলীর বয়স বেশি হওয়ায় তার পরিবারের লোকজনকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে তার স্বাভাবিক মৃত্যু বলে চালানোর চাপ দিচ্ছে প্রতিপক্ষরা। কিন্তু আঘাত জনিত কারনেই মনসুর আলী মন্ডল মারা গেছে।

আইউব আলীর দাবি, দফাদার বংশের লোকজনের ছোড়া ইটের আঘাতেই আব্দুর রহমান মারা গেছেন। কিন্তু তার মৃত্যুর ঘটনায় নিরীহ লেকজনকে আসামি করা হয়েছে।

  • 2.3K
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে