মা-মেয়েকে গাছে বেঁধে জমি দখল

প্রকাশিত: এপ্রিল ৭, ২০২১; সময়: ৮:১৭ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, মহাদেবপুর : নওগাঁর মহাদেবপুরে এক বিধবা মহিলা ও তার মেয়েকে গাছের সাথে বেঁধে রেখে বাড়ি ভাংচুর ও তাদের জমি দখল করে ঘরের প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটেছে গত সোমবার (৫ এপ্রিল) সকালে উপজেলার উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের সুলতানপুর মন্ডল পাড়ায়।

মারপিটের ঘটনায় বিধবা নুরজাহান গুরুতর আহত হলে এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেন। এ বিষয়ে ওই মহিলার ছেলে মো. রাকিব হোসেন বাদি হয়ে থানায় একটি অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিবেশী মৃত মঞ্জু রহমানের ছেলে মো. মাসুদ রানা, মৃত বছির উদ্দীনের ছেলে মো. সিদ্দিক হোসেন, মো. ফেরদৌস, মো. সাত্তার, মো. ফেরদৌসের ছেলে মো. শামিম, মো. সাত্তারের ছেলে মো. সজীব, মৃত মঞ্জু রহমানের মেয়ে নাছরিন, ফেরদৌসের মেয়ে মোসা. শারমিন, সিদ্দিকের মেয়ে সীমাসহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন লোক বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই বিধবার বাড়ি ভাংচুর করেন। বাড়ির জিনিসপত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ফেলে দেন। তাদের থাকার ঘর তালাবদ্ধ করে রাখেন।

এ ঘটনায় বিধবা নুরজাহান ও তার মেয়ে কুমকুম বাঁধা দিতে গেলে তাদেরকে মারপিট করেন তারা। এরপর তাদেরকে গাছের সাথে বেঁধে রেখে জায়গা দখল করে বাড়ীর প্রাচীর নির্মাণ কাজ শুরু করেন অভিযুক্তরা। পরে পুলিশ গিয়ে প্রাচীর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু বর্তমানে অদৃশ্য শক্তির জোরে তারা প্রাচীর নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী বিধবা নুরজাহান।

বুধবার সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সাংবাদিক আসার খবরে মিস্ত্রিরা কাজ ফেলে পালিয়ে যান। এ সময় কলেজ ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার সিনথী, ইশরাত জাহান ও আব্দুল জলিলের স্ত্রী এসলেমা জানান, প্রতিপক্ষরা প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকায় তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

এ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, ওই বিধবার জমির প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের লোভ। ঘটনার দিন সকালে তারা নুরহাজান ও তার মেয়ে কুমকুমকে মারপিট করে গাছের সাথে বেঁধে রেখে জোরপূর্বক ইটের প্রাচীর নির্মাণ করেন। ওইদিন রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত তারা ওই প্রাচীর নির্মাণ কাজ চালিয়ে যান।

এ ব্যাপারে জানতে অভিযুক্ত মাসুদের নম্বরে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার এস আই মো. এমদাদুল হক জানান, শরিকান সম্পত্তি স্থানীয় লোকজন ভাগবাটোয়ারা করে সীমানা নির্ধারণ করে দিলে বিবাদীরা সেখানে প্রাচীর নির্মাণ করতে যান। কিন্তু ওই মহিলা সেই মাপজোক মেনে না নেয়নি।

তাদেরকে মারপিট ও গাছের সাথে বেঁধে রাখা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি গিয়ে কাউকে বেঁধে রাখা দেখিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে