মেডিকেলে চান্স পেয়েও ভর্তি অনিশ্চিত সুজানগরের দরিদ্র ভ্যান চালকের মেয়ে মুন্নীর

প্রকাশিত: এপ্রিল ৭, ২০২১; সময়: ১১:২৭ am |

এম এ আলিম রিপন, সুজানগরঃ মেডিকেল কলেজের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস কোর্সের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় মেধাক্রমে ৩১১০তম হয়ে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ দিনাজপুরে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন সুজানগরের হতদরিদ্র ভ্যান চালকের মেয়ে মোছা.জান্নাতুম মৌমিতা মুন্নী। তিনি পাবনা মেডিকেল কলেজ কেন্দ্র থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন। ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে তিনি পেয়েছেন ৬৯.৭৫ নম্বর। শিক্ষা জীবনজুড়েই আর্থিক দুশ্চিন্তা ছিল মুন্নীর নিত্যসঙ্গী। মেধার জোরে সব বাধা জয় করে মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেলেও আবার সেই আর্থিক দুশ্চিন্তাই তাকে ঘিরে ধরেছে। ভর্তির সুযোগ পেলেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থ।

কোথায় পাবেন অর্থ, কে দেবেন অর্থের যোগান এই শঙ্কায় দিন কাটছে দরিদ্র পরিবারের মেয়ে মুন্নীর। মুন্নী পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের উদয়পুর গ্রামের বাকী বিল্লাহ ও মোছা.রওশন আরা খাতুনের মেয়ে। ৪ সন্তানের মধ্যে মুন্নী বড়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মুন্নীর পিতা একজন দরিদ্র ভ্যান চালক। মুন্নীর পিতার নিজ বাড়ির ২ কাঠা জায়গা ছাড়া তেমন কিছুই নেই। বাড়িতে রয়েছে মাটির ডোয়ার একটি ছোট টিনের ঘর। সেই একটি ঘরেই থাকেন পরিবারের সকলে। পরিবারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় মুন্নীর পিতার। মেডিকেলে ভর্তি ও পড়ার খরচ যোগানোর সামর্থ্য তার পিতার নেই । মুন্নীর পিতা বাকী বিল্লাহ বলেন ব্র্যাকের স্থানীয় শাখা থেকে ২০ হাজার টাকা লোন নিয়ে একটি ভ্যান ক্রয় করি। এবং সেই ভ্যান চালিয়ে দিনে যে দুই-তিনশত টাকা আয় হয় সেই টাকা দিয়েই কোন রকম কষ্টে পরিবারের ৬ জনের মুখের আহার তুলে দেওয়া সহ সংসারের অন্যান্য খরচ চালাতে হয়। তাই সংসার চালানো যেখানে দায়,সেখানে মেয়ের মেডিকেলে লেখাপড়ার খরচ চালানো আমার কাছে দুঃস্বপ্ন।

তবে স্বপ্ন দেখি আমার মেয়ে ডাক্তার হবে। কিন্তু টাকার অভাবে মেয়েকে ভর্তি করাতে পারবো কিনা জানিনা । মুন্নী ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী, সে পোড়াডাঙ্গা হাজী এজেম আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ছোট থেকেই তার ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন ছিল। স্বপ্ন পূরণের জন্য তিনি অধিকাংশ সময়ই লেখাপড়ার পিছনে ব্যয় করেছেন। স্বপ্ন পূরণের এতো কাছে এসেও টাকার অভাবে স্বপ্ন ভেঙ্গে যাবে তা মেনে নিতে পারছেন না মুন্নী। মুন্নী জানান, স্কুল কলেজে পড়াশুনার সময় অর্থের অভাবে একসঙ্গে প্রয়োজনীয় সব বই কিনতে পারতাম না । একটা একটা করে বই কিনতাম। মন চাইলে একটা ভালো পোশাক কিনতে পারতাম না। কারণ আমার জন্ম গরিবের ঘরে। মা-বাবা খুশি হয়ে যা কিনে দিতেন,আমি তাতেই খুশি থাকতাম। স্কুল ও কলেজে পড়াশুনা করা অবস্থায় বিভিন্ন দিক দিয়ে সহযোগিতা করেছেন স্থানীয় নাছির স্যার। আর এ জন্য স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সে।

এমনকি পাবনা যেখানে থেকে তিনি এইচএসসি পাশ করেছেন সেই বড়বাড়ি ছাত্রী নিবাসের মালিক ইমরান হোসেন ভাইও দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় আমার আমার কাছ থেকে ২ বছর রুমের কোন ভাড়া নেয়নি। মুন্নী আরো বলেন মেডিকেলে চান্স পাওয়ার পর এখন খুব চিন্তা হচ্ছে। মেডিকেলের বইয়ের দাম বেশি। দিনাজপুরে পড়াশুনা করতে গিয়ে সেখানে থাকা,খাওয়া,সহ অনেক খরচ হবে। এত টাকা আমার হতদরিদ্র বাবা কোথায় পাবে? কিভাবে পড়ালেখার খরচ চালাবে বুঝতে পারছিনা।আমার বাবার পক্ষে সেই খরচ চালানো সম্ভব না।এজন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি আকুল আবেদন জানাচ্ছি,তিনি যেন আমার লেখাপড়ার চালানোর দায়িত্ব নেন। সহযোগিতা ছাড়া আমার পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

আমি সকলের সহযোগিতায় পড়াশুনা সম্পন্ন করে ভালো একজন চিকিৎসক হয়ে দেশ ও দেশের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য সারাজীবন কাজ করে যেতে চাই। পোড়াডাঙ্গা হাজী এজেম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ১৯৮৪ সালে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হলেও বিগত ৩৬ বছরে এই বিদ্যালয় থেকে কোন শিক্ষার্থী সরকারী মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পায়নি। কিন্তু এবারে দরিদ্র পরিবারের এই অত্যান্ত মেধাবী মেয়ে মুন্নী সে সুযোগ পাওয়ায় আমরা গর্বিত। এবং সে আমাদের বিদ্যালয় সহ ইউনিয়নবাসীর মুখ উজ্জল করেছে। তিনি আরো জানান মুন্নী দরিদ্র পরিবারের সন্তান হলেও সে অত্যন্ত মেধাবী একজন ছাত্রী। প্রশাসন সহ সমাজের বিত্তবানরা নজর দিলে মুন্নীর ডাক্তারি পড়া আটকাবে না। স্থানীয় শিক্ষক নাছির উদ্দিন বলেন,মোছা.জান্নাতুম মৌমিতা মুন্নীকে যদি কেউ সাহায্য পাঠাতে চান তাহলে ০১৭১০০৬৩৮৪৪ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।

 

 

  • 443
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে