সিরাজগঞ্জে আলিয়া মাদ্রাসায় পূণঃভর্তি ফি তিনগুন বেশি নেয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২১; সময়: ৭:০৪ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জ পৌর শহরের হাজী আহমাদ আলী আলিয়া কামিল মাদ্রাসায় স্নাতকোত্তর (২ বছর মেয়াদী) দ্বিতিয় পর্বে পূণঃভর্তি ফি তিনগুন বেশি নেবার অভিযোগ উঠেছে । এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি স্নাতকোত্তর (২ বছর মেয়াদী) দ্বিতিয় পর্বে পূণঃভর্তি ফি বাবদ মাদ্রাসা বোর্ড ও আরবি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়মকে তোয়াক্কা না করে নিজেদের ইচ্ছে মত নির্ধিারিত ৩৭৫ টাকার বিপরীতে প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১ হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে।

আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড.আবু হানিফা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সেশন ফি ৩০০, ক্রীড়া ফি ৫০ টাকা ও রোভার স্কাউট ফি ২৫ টাকাসহ প্রতি শিক্ষার্থীকে মোট ৩৭৫ টাকা প্রদান করতে হবে। অথচ আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই নিয়মের তোয়াক্কা করছেনা কর্তৃপক্ষ। এমন কান্ডে শিক্ষার্থীরা অসহায় হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়েও বেশি ভর্তি ফি দিয়ে ভর্তি হতে বাধ্য হচ্ছেন।

এ ব্যাপারে কয়েকজন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, দুর্নীতির কারণে বরং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চেয়েও আমাদের বেশি ফি দিয়ে পড়ালেখা করতে হচ্ছে। প্রায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৬২৫ টাকা করে বেশি নিলে কত টাকা হয়? আর সেই টাকা কার পকেটে যাচ্ছে? এই অতিরিক্ত টাকা কোন খাতে নেওয়া হচ্ছে সেটিও রসিদে লেখা হচ্ছে না । সরকারি প্রতিষ্ঠানে আমরা সরকারি সুবিধা ভোগ করার জন্যই নিম্নমধ্যবিত্তরা ভর্তি হই। আমাদের সেই সুবিধা হতে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ শামছুল আরেফিন বলেন, আমরা কোন প্রকার অতিরিক্ত অর্থ নিচ্ছিনা। তবে যাদের মাসিক বেতন বকেয়া আছে তাদের কাছ থেকে সেগুলো আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত ৬২৫ টাকা কোন খাতে নেওয়া হচ্ছে সেটি রশিদে উল্লেখ করা হচ্ছে না কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যক্ষ বলেন, কি কি খাতে নেওয়া হচ্ছে সেটি উল্লেখ করার সময় নেই। শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সরকারি টাকায় সম্পন্ন হয় না। তাই নির্ধারিত ৫৫০ টাকার কাছে ১০০ টাকা বেশি নিয়ে ৬৫০ টাকা আদায় করা হচ্ছে ।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিউল্লাহ জানান, প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় ও বোর্ডের নির্ধারিত ফির বাইরে কোন প্রকার অতিরিক্ত ফি নেবার সুযোগ নেই। বিষয়টি সরেজমিনে দেখে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

  • 9
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে