কৃষকের স্বপ্নের মাঠে কালবৈশাখীর ছোবল

প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২১; সময়: ৫:২৯ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, তাড়াশ : দেশের অন্যতম শস্য ভান্ডার খ্যাত নাটোরের চলনবিল। বিলজুড়ে রয়েছে কৃষকের শ্রমের সোনালি ফসল। এই ফসলকে কেন্দ্র করেই স্বপ্ন দেখছিলেন হাজারো কৃষক। তবে বৈশাখের আগেই কৃষকের স্বপ্নের মাঠে কালবৈশাখীর ছোবল পড়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন এলাকার হাজারো কৃষক।

জানা গেছে, গত রোববার বিকেলে চলনবিলের তাড়াশ উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যায় কালবৈশাখী ঝড় ও হালকা মাঝারি বৃষ্টি। প্রায় ঘন্টাব্যাপি ওই ঝড় আর হাল্কা মাঝারি বৃষ্টিতে সদ্য ফুলে বের হওয়া বোরো ধান মাটিতে নূয়ে পড়েছে।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ধানগাছে সবেমাত্র ফুলে বের হচ্ছে। এই অবস্থায় ধানগাছ মাটিতে নূয়ে পড়লে ধানে চিটা হবে। এতে ফলন বির্পযয় হবে।

চলনবিলের তাড়াশ উপজেলার বিনসাড়া গ্রামের কৃষক মো. ইব্রাহীম হোসেন, আসানবাড়ি গ্রামের খবির উদ্দিন ও কাজিপুর গ্রামের আব্দুল হাকিমসহ একাধিক কৃষক জানান, রোববারের ঝড়ে কমবেশি সব ধানের ক্ষতি হবে। তবে মিনিকেট ধানের বেশি ক্ষতি হয়েছে।

তারা জানান, অন্য ধানগাছের তুলনায় মিনিকেট ধান গাছ দূর্বল। আগাম জাতের হওয়ায় মিনিকেট ধান বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ঝড়ে মাঠের সব মিনিকেট ধান মাটিতে নূয়ে পড়েছে। এতে প্রতি বিঘায় ২ মন থেকে ৪ মন ধান ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এবছর উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ২২ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অর্জিত হয়েছে ২২ হাজার ৩১৫ হেক্টর। এর মধ্যে মিনিকেট ধান আবাদ হয়েছে ৩ হাজার হেক্টর।

তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ লুৎফুন্নাহার লুনা জানান, মিনিকেট ধান আগাম জাতের ও এর গাছ অন্য ধানগাছের তুলনায় দূর্বল। রোববারের ঝড়ে কিছু কিছু মাঠের মিনিকেট ধান মাটিতে নূয়ে পড়েছে। ফলে একটু ফলন বির্পযয় হতে পারে।

  • 44
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে