ঘুষের টাকা ফেরতের দাবিতে ইউপি কার্যালয়ে বিক্ষোভ

প্রকাশিত: এপ্রিল ৫, ২০২১; সময়: ৪:৪২ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, আদমদীঘি : বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার ইউপি চেয়ারম্যান এরশাদুল হক টুলুর বিরুদ্ধে সরকার প্রদত্ত বিভিন্ন ভাতা এবং বাড়ি দেওয়ার নাম করে বহু হতদরিদ্র পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরকারি বাড়ি দেওয়ার নামে গ্রহন করা টাকা ফেরত দেয়ার দাবিতে রবিবার সকালে ইউপি কার্যালয়ে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ করেছেন কিছু সংখ্যক হতদরিদ্র মানুষ।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমি আছে বাড়ি নাই এবং ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের বাড়ি পাওয়ার যোগ্যদের তালিকাভুক্ত করার নামে সান্তাহার ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এরশাদুল হক সরদার টুলু নিজে এবং অনুগত ইউপি মেম্বার, চৌকিদার এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের মাধ্যমে অবাধে ঘুষ বাণ্যিজ্য করেছেন।

গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে কথা বলেন ইউনিয়নের সান্দিড়া গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক (৬০)। কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের বাড়ি নির্মাণ শুরু হলে আমার প্রতিবন্ধি মেয়ে রঞ্জনা আক্তারের জন্য চেয়ারম্যানের সাথে দেখা করে একটি বাড়ি দেওয়ার মৌখিক আবেদন করি। চেয়ারম্যান বলেন, বাড়ি দেওয়া যাবে, কিন্তু টাকা লাগবে ৫০ হাজার। প্রায় দেড় মাস পূর্বে আমি সমিতি (এনজিও) থেকে লোন নিয়ে ৫০ হাজার টাকা চেয়ারম্যানের হাতে দিই এবং কিছু কম নিতে বলি। তিনি ৫ হাজার টাকা কম নেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত বাড়ি দেননি। আবার টাকাও ফেরত দিচ্ছেন না।

একই ধরনের অভিযোগ করেন একই গ্রামের সুমন, সুমনের ভাই রফিকুলের স্ত্রী মেহেরুন, হাসান আলী ও হোসেন আলী। তারা বলেন, প্রায় ৩ বছর পূর্বে জমি আছে বাড়ি নাই প্রকল্পে বাড়ি দেওয়ার কথা বলে চেয়ারম্যান মৃত সফুরা মেম্বারের মাধ্যমে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা করে নেয়। কিন্তু বাড়ি দেয়নি। টাকা ফেরত চাইলে চেয়ারম্যান কিছু টাকা দেওয়ার পর আর দিচ্ছে না। সেজন্য আমরা আজ সবাই এসেছি। কিন্তু চেয়ারম্যান নাই। সে কারনে আমরা বিক্ষোভ করেছি। আমাদের সাথে সাধারণ মানুষও ছিল।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যানের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি কারো কাছ থেকে নিজে টাকা নিইনি। তবে এক মহিলা মেম্বার নিয়েছিল। তিনি মারা যাবার পর মানুষজন আমাকে জানালে আমি কিছু কিছু করে টাকা ফেরত দিয়েছি। এরপরও কেউ যদি আমার নাম ভাঙ্গিয়ে টাকা নিয়ে থাকে তাহলে আমি সন্ধান করে দেখব।

এ ব্যাপারে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সীমা শারমিন বলেন, সরকারি কোনো অনুদান, ভাতা অথবা ভূমিহীন গৃহহীনদের ঘর নির্মাণে কোনোরূপ অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের সুযোগ নেই। অর্থদাতা এবং গ্রহিতা সমান অপরাধী। অভিযোগ দাখিল হলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • 55
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে