মান্দায় আতঙ্কের নাম হাতুড়ী সোহেল

প্রকাশিত: মার্চ ২৫, ২০২১; সময়: ৪:২৩ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, মান্দা : ডাকাতি, চাঁদাবাজী, গভীর নলকূপের দখল নিয়ে মারামারিসহ একাধিক ঘটনায় আলোচিত ওয়ার্ড যুবলীগের নেতা সোহেল রানা ওরফে হাতুড়ী সোহেল (৩৭)। সবসময় হাতুড়ী নিয়ে চলাফেরা করায় এলাকাবাসি তাকে এ নামেই চেনেন।

আধিপত্য বিস্তার করতে গড়ে তুলেছেন ক্যাডার বাহিনী। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে।

সোহেল রানা ওরফে হাতুড়ী সোহেল নওগাঁর মান্দা উপজেলা পরানপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত জনপদ হাটোর উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। চাঁদা না পেয়ে হাটোর স্কুল বাজারের এক ব্যবসায়িকে হাতুড়ী দিয়ে পিটিয়ে জখম ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গত মঙ্গলবার তাকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ি আব্দুল মান্নান মোল্লা জানান, মোল্লা ট্রেডার্স নামে হাটোর স্কুল বাজারে তার সার ও কীটনাশকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সম্প্রতি নিজের বসতভিটায় ইট দিয়ে বাড়ির নির্মাণ কাজ শুরু করলে হাতুড়ী সোহেল তার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে নির্মাণ কাজসহ দোকানঘর বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল সোহেল। একই দাবিতে গত শনিবার (২০ মার্চ) দুপুরে সোহেল দোকানে গিয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়।

জের ধরে মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সোহেল তার বাহিনী নিয়ে দোকানঘর থেকে ব্যবসায়ি মান্নানকে টেনে হিঁচড়ে বের করে হাতুড়ী দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। এসময় পাশের মুদি দোকানি মেহেদী হাসানসহ আশপাশের লোকজন সোহেলের হাত থেকে ব্যবসায়ি মান্নানকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় সোহেলকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এদিকে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১০টার দিকে হাটোর স্কুলবাজারে গিয়ে দেখা যায় অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ। ব্যবসায়ি মান্নানকে মারপিটের পর এলাকা এখন অনেকটাই থমথমে। লোকজনের দেখা পাওয়া গেলেও অনেকেই হাতুড়ী সোহেলের ভয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। এর মধ্যে দু’একজন সাহস নিয়ে সোহেলের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকার তথ্য প্রদান করে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ১৩ মে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার ভাবিচা ইউনিয়নের চকদেউলা গ্রামের মৎস্যজীবীপাড়ার জলিল হাজীর বাড়িতে দুধর্ষ ডাকাতি সংঘঠিত হয়। ডাকাতির ওই ঘটনায় নিয়ামতপুর থানা পুলিশের হাতে ২২ মে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘদিন হাজতবাস করেন সোহেল। জামিনে বেরিয়ে এসে আরো বেপরোয়া চলাফেরা শুরু করে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে গড়ে তোলেন ক্যাডার বাহিনী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি হাটোর মৎস্যজীবীপাড়ার গভীর নলকূপের দখল নিয়ে সোহেল ও তার বাহিনী গ্রামের কাজী ওমর আলীকে পিটিয়ে হাত-পা গুড়িয়ে দেন। একই বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি হাটোর মৎস্যজীবী পাড়ার উজ্জল হোসেন নির্মম নির্যাতনের শিকার হন সোহেল ও তার বাহিনীর হাতে। এ দুটি মামলায় গ্রেফতার হাজতবাস করতে হয়েছিল তাকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের কারণে সোহেলের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাগিয়ে নেন ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ। সন্ত্রাসী বাহিনী ও রাজনৈতিক পরিচয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন তিনি। তার সকল কর্মকান্ড নিরবে সহ্য করেন এলাকাবাসি। সন্ত্রাসী সোহেলের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করেন তারা।

এ প্রসঙ্গে মান্দা উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি খালেদ মোশাররফ বলেন, সংগঠন পরিপন্থী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ায় সোহেল রানাকে যুবলীগের সকল পদ থেকে বহিষ্কার করার প্রক্রিয়া চলছে। অচিরেই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মান্দা থানার ওসি শাহিনুর রহমান জানান, চাঁদা দাবি ও হত্যাচেষ্টা মামলায় সোহেলকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ মামলার অপর আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে