মধুর গ্রাম পরানপুরের ফেটগ্রাম

প্রকাশিত: মার্চ ২০, ২০২১; সময়: ১১:৪৮ am |

আরিফুল হক সোহাগ, নওগাঁ : প্রাকৃতিকভাবে বাসা বাড়িতে মৌমাছির বাসা বাঁধায় ফেটগ্রামের পরিচিতি এখন মধু“র গ্রাম নামে। বাসা বাড়িতে ঘরের ভিতরের শত শত মৌমাছির চাক। এলাকার এক বাড়িতে ৭০-৮০ টি মৌমাছির আবাসস্থল দেখতে দৃষ্টিনন্দন। রাস্তার পাশে বাড়ি গুলোতে মৌমাছির চাক দেখে নিজ চোখে চাক কাটা দেখে ক্রেতারা সংগ্রহ করতে পারছেন মধু।
একটি মৌচাক থেকে ৪-৬ কেজি পর্যন্ত মধু সংগ্রহ করা যায়। এতে করে এলাকার পরিবার গুলোর ভাগ্য ফিরেছে যেন বিধাতার হাতের ইশারায়। নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার পরানপুর ইউনিয়নের ফেটগ্রামের মানুষদের ভাগ্য ফেরার চিত্র এখন সবার মুখে মুখে ।

সৃষ্টিকর্তার মহিমায় মান্দার ফেটগ্রামে গত ১৫-২০ বছর থেকে মৌমাচিহ দের দল আবসস্থল গড়ে তুলেছে গ্রামের প্রতিটি ঘরের দেওয়ালে , ছাদের কার্নিশে, ঘরের ভিতরের কক্ষগুলোতে, গাছের ডালে ডালে সহ বাড়ির আনাচে কানাচে যায়গাগুলোতে। গ্রামের মানুষদের বসবাস এখন মৌচাক পুরীর মধু;র গ্রামে। সৃষ্টিকর্তার মহিমায় ফিরেছে গ্রামবাসীদের জীবন। গ্রামবাসীরা জানান- গেল ২০বছর থেকে তাঁরা এই মৌচাকগুলো দেখে আসছেন । বছরের প্রায় ৬মাস এমন ভাবে মৌচাকদের সাথে জীবন যাপন করেন তাঁরা। তাদের কোন অসুবিধা বা মৌমাছি কামড়ানোর ঘটনাও কোনদিন ঘটে নাই বলে তাঁরা জানান।

গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে প্রায় ৭০-৮০ টা মৌচাক আছে। সবমিলিয়ে প্রায় ১০০০ টি মৌচাকের সাথে বসবাস করেন তাঁরা। তাঁরা জানান- প্রতিটি মৌচাক থেকে ৪-৫ কেজি পর্যন্ত মধু সংগ্রহ করে থাকেন যা তাঁরা ৫০০-৬০০ টাকা কেজি প্রতি বিক্রি করে থাকেন । এদিকে মধু ক্রেতাগন নিজ চোখে মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করতে দেখে তাঁরা ক্রয় করে থাকেন । প্রাকৃতিকভাবে মধু সংগ্রহ করা দেখে মৌচাক বাড়ি থেকেই ক্রেতারা মধু কেনেন অতি উৎসাহের সাথে।

ক্রেতারা জানান- রাস্তার পাশে মৌচাক থেকে অনেকে গ্রামের ভিতরে গিয়ে প্রাকৃতিক মধু সংগ্রহ করে থাকেন। এছাড়া অনেক চাকুরীজীবী রয়েছেন যারা ছুটির দিনে বেড়াতে এসে মধু সংগ্রহ করে থাকেন। অপরদিকে, পাইকারী মধু ব্যবসায়ীরাও ছুটে আসেন এখানে প্রাকৃতিক মধু সংগ্রহ করে তা বাজারজাত করার জন্য বলে জানান গ্রামবাসীরা।

মৌচাক থেকে মধু ভাঙতে গ্রামের মানুষেরা অভিজ্ঞদের সাথে চুক্তি করেন । এবং তার দক্ষতায় কোন প্রকার মৌমাছি কামড়ানো ছাড়া বিচক্ষণতার সাথে মধু সংগ্রহ করে বাড়ির মালিকদের দিয়ে থাকেন । এই এ পেশায় চুক্তিকৃত ব্যক্তি মধু এবং টাকা পেয়ে তার সংসার পরিচালনার কাজ করে থাকেন বলে তিনি জানান।

এদিকে মান্দা উপজেলা কৃষি বিভাগ জানান- বর্তমানে মৌমাছি থেকে মধু আহরোন একটি উৎপাদনশীল ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। আর প্রাকৃতিক এই সকল মধু উৎপাদনে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে । এই মৌচাক থেকে গ্রামবাসী উপার্যনের পথটি ধরে রেখেছেন।

মান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শায়লা শারমিন জানান- এসকল প্রকৃতিক মৌচাকের মধুর ঐতিহ্য ঘনবসতি হওয়ার কারনে ধীরে ধীরে এখন শেষের পথে। মান্দার ফেটগ্রামের মানুষেরা এর ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এটি সৃষ্টিকর্তার নিদর্শন বলে মনে করেন তিনি।

সৃষ্টিকর্তার এমন মহিমায় একদিকে যেমন এই মৌচাকগুলো ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক এবং অপরদিকে সংগ্রহকৃত মধু বিক্রি করে ফিরেছে গ্রামবাসীর ভাগ্য। তাই এই ঐতিহ্যকে যুগের পর যুগ ধরে রাখতে চান গ্রামবাসীরা।

 

  • 247
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে