শুকিয়ে যাচ্ছে চলনবিল এলাকার ১৬ নদী

প্রকাশিত: মার্চ ১৫, ২০২১; সময়: ৩:৪৪ pm |

নূর ইসলাম রোমান, তাড়াশ : পাবনা-সিরাজগঞ্জ-নাটোর জেলার অধ্যুষিত তাড়াশের কোরতোয়াসহ চলনবিলের প্রধান নদী আত্রাই, নন্দকুজা, গুমানীসহ ১৬টি নদীতে পানি শুকিয়ে নৌচলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে পানি দেখা গেলেও বর্ষা শেষে আর থাকে না। এতে কৃষিজমির সেচ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি মাছসহ দেশি মৎসসম্পদ হুমকির মুখে পড়েছে। নদীতে জীবিকা করে খাওয়া মানুষগুলোও বেকার হয়ে পড়েছেন। এছাড়া স্থবিরতা নেমেছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও।

নাটোরের গুরুদাসপুর ও চলনবিলের প্রধান নদী আত্রাই, নন্দকুজা, গুমানীসহ ১৬টি নদীতে পানি শুকিয়ে নৌচলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে পানি দেখা গেলেও বর্ষা শেষে আর থাকে না। দখল, দূষণ আর ভরাটের কারণে নদীগুলো সংকুচিত হয়ে পড়ায় মরে যাচ্ছে চলন বিলের নদী। পানির অভাবে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এতে কৃষিজমির সেচ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি মাছসহ দেশি মৎসসম্পদ হুমকির মুখে পড়েছে। নদী থেকে জীবিকা অর্জন করা মানুষগুলোও বেকার হয়ে পড়েছেন। এ ছাড়া স্থবিরতা নেমেছে ব্যবসা-বাণিজ্যেও। তবে উপজেলার সাবগাড়ী এলাকায় একটি রাবার ডাম স্থাপনের কারণে নদীর কয়েক কিলোমিটারজুড়ে এখনো পানি রয়েছে। আগামী মাসের পর রাবারডাম নামিয়ে দিলেও হয়তো সে পানিও পাওয়া যাবে না।

এক সময় নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বাণিজ্যকেন্দ্র গুরুদাসপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে নৌযোগাযোগের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্য হয়েছে। নানা কারণে অস্তিত্ব সংকটে থাকা নন্দকুজা ও আত্রাই নদী স্বকীয়তা হারিয়ে খালে পরিণত হয়েছে। পানিপথে পণ্য পরিবহনে খরচ কম হলেও বর্তমান সময়ে এলাকার সব জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেশি খরচে ব্যবসায়ীদের স্থল পথে পণ্য পরিবহন করতে হচ্ছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. মো. রেদওয়ানুর রহমানের প্রবন্ধ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ২৯ বছর আগেও চলনবিলের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদ-নদীতে বছরজুড়েই ৬ থেকে ১২ ফুট পানি থাকত। ফলে বছরজুড়েই নৌচলাচল করত। কিন্তু বছরের পর বছর পলি জমে এসব নদী ভরাট হয়ে গেছে।

পরিসংখ্যান মতে, প্রতি বছর ২২২১/২ মিলিয়ন ঘনফুট পলি পড়ে এবং ৫৩ মিলিয়ন ঘনফুট পলি বর্ষায় চলনবিল ত্যাগ করে। অবশিষ্ট ২৬৯১/২ মিলিয়ন ঘনফুট পলি নদ-নদীসহ চলনবিলে স্থিতি থাকে। অথচ এক সময় এসব নদীতে বছরজুড়েই পানি থাকত। নদীতে চলাচল করত ছোট-বড় নৌকা। নদী আর নৌকাকে ঘিরে চলনবিলের গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড়, নাজিরপুর, সিংড়ার, বড়াইগ্রামের আহম্মেদপুর, তাড়াশের ধামাইচ, নাদোসৈয়দপুর, চাটমোহরের ছাইকোলা, অষ্টমনিষা, মির্জাপুর ভাঙ্গুড়ায় গড়ে উঠেছিল বড় নৌবন্দর। চলত রমরমা ব্যবসা-বাণিজ্য। সময়ের পরিবর্তনে সেসব এখন শুধুই ইতিহাস।

গুরুদাসপুরের চাঁচকৈড় মোকামের ব্যবসায়ী আইনুল মোল্লা, আব্দুল্লাহসহ অনেক ব্যবসায়ী জানান, তারা এক সময় নৌকায় করে শত শত মণ ধান, পাট, গম সরিষাসহ চলনবিলের সব কৃষিজাত পণ্য ঢাকা, খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে নিয়ে যেতেন। আবার সেসব মোকাম থেকে নানা পণ্য এখানে এনে পাইকারি দামে বিক্রি করতেন। কম খরচে সহজলভ্য পরিবহন সুবিধা ভোগ করলেও এখন আর ওই সুবিধা তারা পান না। এখন বছরের ৩-৪ মাস (বর্ষাকালে) কোনো রকমে তারা নৌকায় পণ্য আনা-নেয়া করে থাকেন। ফলে আগের মতো আর ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারেন না।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে