নওগাঁয় পরকীয়ার জেরে মা-ভাই-বোন মিলে বাবাকে হত্যা

প্রকাশিত: মার্চ ১০, ২০২১; সময়: ৯:৩২ pm |

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, নওগাঁ : পরকীয়ার প্রতিবাদ করা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর দ্বন্দ্ব। এরপর স্ত্রী ফাইমা খাতুনের পরিকল্পনায় ছেলে- মেয়ে ও জামাই মিলে আব্দুল খালেককে খুন করে। শ্বাসরোধ করে হত্যার পর গভীর রাতে বস্তাবন্ধি লাশ ফেলে দেয় নদীতে। ঘটনা আড়াল করে মাসখানেক পর থানায় জিডি করতে গিয়ে পুলিশের জেড়ায় ধরা পড়েন হত্যাকারীরা। এমন নৃসংশ ও নাটকীয় ঘটনা ঘটছে নওগাঁর পোরশায়।

বুধবার দুপুরে নওগাঁর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে আব্দুল খালেক হত্যাকান্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) রকিবুল আক্তার। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মামুন খান চিশতী, সাপাহার সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার বিনয় কুমার, সহকারী পুলিশ সুপার সুরাইয়া আখতার, পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শফিউল আজম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আব্দুল খালেক নওগাঁর পোরশা উপজেলার গাঙ্গুরিয়া ইউনিয়নের বালিয়াচান্দা গ্রামের বাসিন্দা। গত ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন আব্দুল খালেক।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এএসপি রকিবুল আক্তার বলেন, গত সোমবার খায়রুল ইসলাম পোরশা থানায় উপস্থিত হয়ে তার বাবা আব্দুল খালেকের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। নিখোঁজ হওয়ার এক মাসের অধিক সময় পরে থানায় এসে জিডি করায় পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। তদন্তে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল মঙ্গলবার সন্দেহভাজন আসামি নিখোঁজের ছেলে খায়রুলকে নওগাঁ পুলিশের সাপাহার সার্কেল অফিসে ডেকে নিয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ কর্মকর্তারা।

জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে বোন নাজমা খাতুনের সহযোগিতায় বাবা আব্দুল খালেককে শ্বাসরোধ হত্যার কথা স্বীকার করে খায়রুল। খায়রুলের দেওয়ার তথ্যমতে আব্দুল খালেক হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে ফাইমা খাতুন, নাজমা খাতুন ও তার স্বামী মোদাচ্ছেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশের কাছে অভিযুক্ত খায়রুলের দেওয়া স্বীকারোক্তির বর্ণনার বরাত দিয়ে রকিবুল আক্তার বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে খায়রুলের বাবা আব্দুলের খালেকের মা ফাইমা খাতুনের বনিবনা হচ্ছিল না। পারিবারিক কলহের জেরে গত ২৭ জানুয়ারি ফাইমা খাতুনকে মৌখিকভাবে তালাক দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেন আব্দুল খালেক। মাকে তালাক দেওয়ার সংবাদ পেয়ে ছেলে খায়রুল ইসলাম তার কর্মস্থল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শ্রীরামপুর হাফিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক) থেকে এবং মেয়ে নাজমা খাতুন শ্বশুরবাড়ী থেকে এসে বাবা-মার মধ্যে বিবাদ মিমাংসার চেষ্টা করেন।

স্থানীয়ভাবে আপোস-মিমাংসার ব্যর্থ হয়ে ৪ ফেব্রুয়ারি খায়রুল মাকে উপজেলার পিছলডাঙ্গা গ্রামে তার খালার বাড়িতে পাটিয়ে দেন। ওই দিন রাতে খায়রুল ও নাজমা তাঁদের বাবা আব্দুল খালেককে মায়ের সঙ্গে বিবাদের মিমাংসা করার অনুরোধ করেন। কিন্তু খালেক তাদের অনুরোধ মানতে অস্বীকার করলে বোন নাজমা ও বোন জামাই মোদাচ্ছেরের সহযোগিতায় মাফলার গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খায়রুল। পরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে খায়রুল বাবার লাশ একটি বড় পাটের বস্তায় ভরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ উপজেলা সদরে তাঁর কর্মস্থল শ্রীরামপুর হাফেজিয়া মাদ্রাসার পিছলে একটি খালে ফেলে দিয়ে আসে।

তিনি আরও বলেন, খালে লাশ ফেলে দেওয়ার ১২ দিন পর বস্তাবন্দি ওই লাশ ভেসে উঠলে চাঁপাইনাবাবগঞ্জ সদর থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে এবং অজ্ঞাতনামা লাশ হিসেবে দাফন করে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নিহতের ছোট ভাই জাকির আলম (৪৫) লাশের আলমত দেখে আব্দুল খালেককে শনাক্ত করেন এবং থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আজম খান বলেন, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে নিহতের ভাই জাকির আলম বাদী হয়ে গ্রেপ্তার আসামিদের নাম উল্লেখ করে আলাদা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বুধবার বিকেলে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদেরকে আদালতে নেওয়া হবে। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে দুই-এক জনের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার কথা রয়েছে।

 

  • 150
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে