নওগাঁয় ঠিকাদারের গাফিলতিতে সড়কের বেহাল দশা

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১; সময়: ১১:১৭ pm |

আরিফুল হক সোহাগ, নওগাঁ : দরপত্রে ১বছর আগে কাজ শেষ হওয়ার চুক্তিনামা থাকলেও এখনও রাস্তা পাকা করনের কাজই শুরুই হয়নি নওগাঁর রানীনগর – কালীগঞ্জ –নন্দিগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ২২ কি মি কালভার্ট সহ রাস্তার কাজ। যান্ত্রিক দুর্ভোগ আর ঝুকিপুর্ন সড়ক ব্যবস্থা কারনে দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছে ছোট বড় যানবাহন গুলো। অপরদিকে, রাস্তার ধুলার কারনে কৃষি জমিতে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় দিন পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। নওগাঁ প্রতিনিধি আরিফুল হক সোহাগ এর রিপোর্টে দেখুন বিস্তারিত।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এসপেক্টা ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড এবং ওহায়েদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড দরপত্রের মাধ্যমে ২০ নভেম্বর ২০১৮ সালে পাকা রাস্তা নির্মানের কাজ শুরু করে ১৯ নভেম্বর ২০১৯ এ তা শেষ করার কথা থাকলেও এখনও রাস্তা পাকা করনের কাজই শুরু করতে পারে নি প্রতিষ্ঠান দুটি। গেল ২বছরে নির্মান কাজ নির্ধারিত শুরুর স্থান থেকে শেষ পর্যন্ত পুর্বের পিচ ঢালা রাস্তার আস্তরণ উঠিয়ে দেওয়ায় বর্তমানে ধুলা আর উচু নিচু রাস্তা হওয়ায় যান্ত্রিক চলাচলে দুর্ভোগ চরমে।

রানীনগর কালীগঞ্জ নন্দিগ্রাম মহাসড়কে জীবীকার তাগিদে প্রতিদিন ছোট বড় সহ ১৫-২০ হাজার যানবাহন চলাচল করে থাকে । এদের মধ্যে বড় ট্রাক, ছোট ট্রাক, সিনএনজি, অটো-রিকশা, মটরবাইক, সাইকেল সহ স্থানীয় যানবাহন গুলো প্রতিনিয়ত চলাচল করে থাকে। শুধু যানবাহনের ক্ষতি না যাত্রীদেরও অনেক কষ্ট সহ্য করে যানবাহনগুলোতে চলাচল করতে হচ্ছে দীর্ঘ ২বছর যাবত।

পরিবহণ চালকদের পুর্বে যেখানে ৩-৪ বার রাস্তা দিয়ে যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে পাড়তেন সেখানে এমন অসহনীয় রাস্তার কারনে ১-২ বার যাতায়ত করতে পারছেন। এতে করে তাঁরা আর্থিক সংকটে পড়ছেন এবং তাদের যানবাহনেরও অনেক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান তাঁরা। অপরদিকে রাস্তার বেহাল অবস্থার কারনে যাত্রীদের ধুলাবালী এবং ঝাঁকুনির কারনে তাদের শারিরিক সমস্যা হয়ে থাকে বলে জানান চলাচলের যাত্রীরা।

রাস্তার ধুলায় পাশে থাকা সবুজ গাছগুলো যেন ধুলার আস্তরনে বাদামী বর্ন ধারন করে আছে। আর কৃষি জমিগুলো রাস্তার ধুলার করনে ফসলহানীর সম্ভাবনায় আশঙ্কায় দিন পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। রাস্তায় চলচলে পরিবহক চালক, যাত্রী এবং স্থানীয়দের দাবী অতি স্বত্বর পাকা রাস্তা নির্মানের কাজ শেষ করে এমন দুর্ভোগ থেকে তাদের মুক্তি দিতে।

এদিকে রাস্তার বেহাল অবস্থার কারন জানতে নওগাঁ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী (সওজ) সাজেদুর রহমান বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দুটি কাজ শেষ করতে পারে নি । গত অর্থবছরে করোনার কারনে পূর্বের পাওনা বকেয়া থাকলেও এই অর্থবছরে তা পরিশোধ করা হয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দুটিকে।

তিনি জানান, বকেয়া পরিশোধ করবার পরেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের গাফিলতির কারনে এখনও কাজ শুরু করে নি। এই বিষয়ে সড়ক বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তা দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য চুড়ান্ত নোটিশ প্রদান করা হয়েছে প্রতিষ্ঠান দুটিকে। যদি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান দুটি কাজ শুরু না করে তবে জরিমানাসহ তাদের কাজ বাতিল করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করে রাস্তা নির্মানের কথা জানান নওগাঁ সড়ক বিভাগের এই কর্মকর্তা।

স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন হেলাল জানান, রাস্তায় চলাচলে ব্যক্তিদের ধুলার কারনে চেনার উপায় থাকে না । এলাকার মানুষদের সুবিধা জন্য অতি দ্রুত রাস্তার কাজ শুরু করতে সংশ্লিষ্টদের অবগত করা হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে রানীনগর কালীগঞ্জ নন্দিগ্রাম মহাসড়কের কাজ শেষ হলে এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষ উপকৃত হবে বলে জানান এই সাংসদ।

এদিকে নওগাঁর রানীনগর কালীগঞ্জ নন্দিগ্রাম মহাসড়কের নির্মান কাজের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

১৪ কোটি ১১লক্ষ ১০হাজার ৭শত ৮৩ টাকা ব্যয়ে নির্মান হওয়ার কালভার্ট সহ রাস্তার কাজ শেষ হওয়ার সময়কাল শেষ হয়ে গেছে অনেক আগেই। কিন্তুু রাস্তা পাকা করনের কাজ শুরু হয়নি এখনও। বর্তমানে দুর্ভোগে দিন পার করছেন এলাকার মানুষগুলো। এমন দুর্দশা এবং দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্টদের নিকট এর সু-ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

 

  • 67
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে