শৈত্যপ্রবাহে শিবগঞ্জে ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী পায়নি শীতবস্ত্র

প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি ১, ২০২১; সময়: ১০:৪১ pm |

নিজস্ব প্রতিবেদক, শিবগঞ্জ : সারা দেশের ন্যায় উত্তরবঙ্গের চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জেও চলছে শৈত্যপ্রবাহ। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী। মেলেনি কোনো শীতবস্ত্রও। কথা হয় প্রতিবন্ধী ভোগুর সাথে। তিনি জানান, একে তো প্রতিবন্ধী, তারপর আবার মাদকাসক্ত ছেলে বাড়ির সমস্ত কিছু বিক্রি করে শেষ করে দিয়েছে।

বর্তমানে খোলা আকাশের নীচে শুধু একখানা গোদলা (ছিঁড়া কাপড় দিয়ে এক ধরনের মোটা কাঁথা) গায়ে দিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি। অনেকের কাছে গিয়েও একখানা কম্বলও পাইনি। মনাকষা ইউনিয়নের খড়িয়াল গ্রামের ৭৫ বছরের প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ ভোগুরুদ্দীন ও তার স্ত্রী কান্নজড়িত কণ্ঠে এসব কথা বলেন। শুধু ভোগুরুদ্দীন ও তার স্ত্রী নয়। নদী ভাঙ্গনে পাঁকা ইউনিয়নের চরপাঁকা গ্রামের মৃত কুড়ানের স্ত্রী শেফালী বেগম (৫০), মাসিদুল হকের ছেলে শিবলী হক (৩৬), আজাহারের ছেলে শরিফুল ইসলাম, মনাকষা ইউনিয়নের পোড়াদিহি গ্রামের হৃদরোগী আবুল কাসেম, হাঁপানী রোগি ভিক্ষুক আসনারা বেগম, মনাকষা শেখপাড়া গ্রামের প্যারালাইসের রোগি আব্দুর রাজ্জাক, পারচৌকা গ্রামের দুইচোখ অন্ধ কুমরুল হকসহ ১৫টি ইউনিয়নের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের একই ভাষ্য।

তাদের ভাষ্য- তীব্র শৈত্যপ্রবাহে থমকে গেছে জীবন যাত্রার গতি। উপজেলার নদী ভাঙ্গনের শিকার অসহায় ও দরিদ্র শ্রেণির মানুষেরা জানায়, ঠান্ডায় তারা বিপদে পড়েছেন। আর্থিক সংকটের কারণে তার শীতবস্ত্র কিনতে না পারায় প্রায় খালি গায়ে থাকতে হচ্ছে। গরীব শ্রেণির মানুষের সারাদিন মাঠে কাজ করার পর রাতে লেপ না থাকার কারণে ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে রাত পার হচ্ছে। অনেকে আবার ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন ধরনের রোগে ভুগছেন। দূর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজিব রাজু বলেন, এ ইউনিয়নে জনগণের সংখ্যায় শীতবস্ত্রের সংখ্যা একেবারে অল্প। মাত্র ৩’শ ৮০টি কম্বল বরাদ্দ পেয়েছি।

যা দ্বারা অসহায়দের চাহিদা মিটানো সম্ভব হয়নি। অনেক অসহায়-গরীব শীতে মানবেতর জীবনযাপন করছে। একই কথা জানালেন মনাকষা ইউপি চেয়ারম্যান মীর্জা শাহাদাত হোসন খুররম, বিনোদপুর ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক, শ্যামপুর ইউপি চেয়ারম্যান খাইরুল ইসলামসহ ১৫টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের। তারা জানিয়েছেন- এ পর্যন্ত প্রতি ইউনিয়নে ১’শ থেকে সর্বো”চ ৩’শ পর্যন্ত শীতবস্ত্র দেয়া হয়েছে।

তবে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে চাহিদা পাঠিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব আল-রাব্বি জানান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কাছে সঠিক তথ্য আছে। তবে এ পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার কম্বল অসহায়দের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। কম্বলের জন্য আরো চেষ্টা করছি। বরাদ্দ পেলে তাদের মাঝে বিতরণ করা হবে। সংসদ সদস্য ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল জানান, ইতোমধ্যে অনেক অসহায় পরিবারের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। আরো কম্বলের জন্য চেষ্টা করছি। আশা করছি শীঘ্রই কম্বল বরাদ্দ পাবো।

  • 72
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে