১৮ বছর পর ফেসবুকে মেয়েকে খুঁজে পেলেন বাবা

প্রকাশিত: জানুয়ারি ১৯, ২০২১; সময়: ৫:০৯ pm |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : ঢাকায় বেড়াতে এসে ১৮ বছর আগে নিখোঁজ হওয়া তানিয়া ফেসবুকের কল্যাণে পরিবারের সন্ধান পেয়ে স্বামী সন্তানসহ বাবার বাড়ি ফিরেছে।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া পৌরসভার মেয়র হাজী কামাল হোসেন শেখ জানান, তানিয়া আক্তারকে (২৫) স্বামী সন্তানসহ গত ১২ জানুয়ারি বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন বাবা সুন্দর আলী সিকদার।

তানিয়া গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ি গ্রামের সুন্দর আলী সিকদারের মেয়ে ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া পৌরসভার শান্তিনগর এলাকার আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী।

তানিয়ার বাবা বলেন, তানিয়ার বয়স যখন ৬ বছর তখন তাকে ঢাকা বেড়াতে নিয়ে যাই। আমার বোনের বাসায় তাকে রেখে আমি গ্রামে চলে আসি। আমি আসার সময় তানিয়া আমার পিছু পিছু বাসা থেকে বাইরে এসে নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় আমি তেজগাঁও ও কোটালীপাড়া থানায় জিডি করে পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞাপনসহ মাইকিং করি। এর পরও তানিয়াকে খুঁজে পায়নি।

গত ৮ জানুয়ারি ফেইসবুকে তানিয়ার ছোট বেলার ছবি ও সঙ্গে আমার, স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েদের নাম দেখে কোটালীপাড়ার ইমরান ঘরামীর স্ত্রী পলি খানম আমাকে বিষয়টি জানায়। তিনি ফেসবুক থেকে আমার জামাতার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন এবং ওই দিন রাতে মেয়ে জামাইয়ের সঙ্গে কথা বলে আমার মেয়ের সন্ধান পাই। পরের দিন আমরা ঢাকা যাই।

সুন্দর আলী আরও বলেন, জামাই ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে ট্রেনে করে আমাদের আখাউড়া নিয়ে যায়। পরে ১২ জানুয়ারি মেয়ে-জামাই, নাতি, নাতনি, বেয়াই ও তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোটালীপাড়ার গ্রামের বাড়িতে আসি। হারানো মেয়েকে এভাবে ফিরে পাব তা কোনো দিনই ভাবিনি।

২০১৫ সালে তানিয়াকে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া পৌরসভার শান্তিনগর এলাকার সুরুজ মিয়ার ছেলে কাঠ ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে বিয়ে দেন।

তানিয়া জানান, কলাবাগান মসজিদের ইমাম রিপন মিয়া আমাকে সংসদ ভবন এলাকা থেকে উদ্ধার করে তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলায় রায়তলা গ্রামে নিয়ে যান এবং নিজ সন্তানের স্নেহে লালন পালন করে বিয়ে দেন।

তানিয়ার স্বামী আনোয়ার হোসেন বলেন, বিয়ের পর থেকে তানিয়ার মা-বাবাকে খুঁজে পেতে অনেক চেষ্টা করছি। পরে ফেসবুকে তানিয়ার ছোট বেলার ছবি পোস্ট করি। এ সূত্রধরে তানিয়ার বাবা-মা তার সন্ধান পাই।

  • 13
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে