পশ্চিমাঞ্চল রেলে কোচ সংকটে ৬ বগি নিয়েই চলছে ৫ ট্রেন

প্রকাশিত: জানুয়ারি ৮, ২০২১; সময়: ১১:১৩ am |

পদ্মাটাইমস ডেস্ক : এগারটি করে বগি নিয়ে চলাচল করার কথা থাকলেও পশ্চিমাঞ্চল রেলে কোচ সংকটের কারনে গত ৩/৪ মাস ধরে ৫টি আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করছে ৬টি করে বগি নিয়ে। এতে একদিকে যেমন যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে চরম আকারে, অন্যদিকে রেলওয়েও রাজস্ব হারাচ্ছে প্রতিনিয়ত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈশ্বরদী থেকে রহনপুরগামী আন্তঃনগর কমিউটার এক্সপ্রেস, রাজশাহী টু ভাঙ্গা ফরিদপুরগামী মধুমতি এক্সপ্রেস, রাজশাহী থেকে ঈশ্বরদী

হয়ে টুঙ্গিপাড়া গোবরা গামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস, রাজশাহী টু ঢালারচর গামী ঢালারচর এক্সপ্রেস, ও রাজশাহী-চীলাহাটির মধ্যে চলাচল কারী আন্তঃনগর তীতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনগুলি চলাচল করছে ৬টি করে বগি নিয়ে। এসব ট্রেনে ৯ থেকে ১১ টি কোচ বা বগি নিয়ে চলাচল করার কথা অথচ কোচ সংকটের অজুহাতে ট্রেনগুলির অর্ধেক বগি কমিয়ে দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এসব ট্রেনগুলোতে যেখানে ১১ বগি নিয়ে চলাচলের সময়ই প্রতিদিন থাকতো উপচে পড়া ভিড়, সেখানে অর্ধেক

বগি কমিয়ে দেওয়ায় এসব ট্রেনের যাত্রী সাধারণদের নিদারুণ কষ্টে ও চরম ভোগান্তি মাথায় নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছে। এই দুর্ভোগের মধ্যে কোন ট্রেনেরই কোচ সিরিয়ালের ধারাবাহিকতা মানা হচ্ছেনা। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাধারণত: ক, খ, গ, ঘ…. ধারাবাহিকতায় ট্রেন চলে কিন্তু এসব ট্রেনগুলির কোনটিতে ‘ক’ এর পরে ‘ঙ’ বগি, আবার ‘খ’ কোচের পরে ‘জ’ বগি সিরিয়াল রাখা হয়েছে। এছাড়া সাধারণত: চলন্ত ট্রেনের মধ্যেই এক বগি থেকে অন্য

বগিতে যাতায়াত করার ব্যবস্থা থাকে কিন্তু এসব ট্রেনের কোনটিতেই সে ব্যবস্থা নেই। গার্ড ব্রেক ট্রেনের সর্ব পেছনে থাকার কথা থাকলেও এখন মাঝখানে সংযুক্ত করার ফলে যাত্রীরা ইচ্ছে করলেও ট্রেনে ওঠার পর তাদের নির্দিষ্ট আসন খুঁজে নিজের আসনে বসবার জন্য চলন্ত ট্রেনে এক বগি থেকে অন্য বগিতে যেতে পারছেননা।

একাধিক রুটে চলাচলকারী ট্রেনযাত্রী দূর্জয় ইসলাম লিমন মন্ডল বলেন, আগে টিকেট না কাটতে পারলেও জরুরী প্রয়োজনে ট্রেনে উঠে টিটিইর কাছ থেকে টিেিকট কেটে আসন নিয়ে চলাচল করা যেতো। এখন কাউন্টার থেকে টিকেট কেটে ট্রেনে উঠলেও আসন না পেয়ে ঠাসাঠাসি করে ট্রেনে দাঁড়িয়ে ভ্রমন করতে হচ্ছে। বেশ কয়েকজন যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে একই অভিযোগ পাওয়া যায়।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরে পশ্চিমাঞ্চল রেলে কয়েকটি নতুন ট্রেন চালু করা হয়েছে, বগি সংকটের এটিও অন্যতম কারন। সর্বশেষ গত অক্টোবর মাসে রাজশাহী-পঞ্চগড় গামি নতুন ট্রেন বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেন চালু করা হয় মধুমতি, টুঙ্গিপাড়া, ঢালারচর, তীতুমীর, বরেন্দ্র একসপ্রেস ট্রেন থেকে বগি কেটে এনে। নতুন ট্রেনে পুরনো ট্রেনের বগি কেটে যুক্ত করা ছাড়াও বিভিন্ন ট্রেনের বগি মেরামতের জন্য কারখানায় মাসের পর মাস ধরে ফেলে রাখার কারনেও বগি

সংকট বেড়েছে বলে জানান রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তারা। পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রেলপথে রাজশাহী-ভাঙ্গার দুরত্ব প্রায় ২৪০ কিলোমিটার, রাজশাহী-গোবরার দুরত্ব প্রায় ৩০০ কিলোমিটার, ঢালারচর-রাজশাহীর দুরত্ব প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার, ঈশ্বরদী-রহনপুরের দুরত্ব প্রায় ১৫০ কিলোমিটার, রাজশাহী-চীলাহাটির দুরত্ব প্রায় ৩০০ কিলোমিটার। এত দীর্ঘপথ ট্রেন যাত্রা করতে গিয়ে ট্রেন যাত্রীরা প্রতিদিন দুর্ভোগে নাকাল হচ্ছেন অথচ রেলওয়ের সংশ্লি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সংকট নিরসনের কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করছেননা।

এসব বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলের পাকশী বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ডিএমই ক্যারেজ এন্ড ওয়াগন) মমতাজ উল ইসলাম বলেন, নতুন ট্রেন চালু হলেও নতুন কোচ আমদানি না করা, কারখানার সক্ষমতা না থাকার কারনে মেয়াদ উত্তির্ন কোচগুলো সময়মত মেরামত না করার কারনে কোচ সংকটে পড়েছে পশ্চিমাঞ্চল রেল। এ সংকট সহসা লাঘব হওয়ারও কোন লক্ষণ নেই। পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে বানিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) ফুয়াদ হোসেন আনন্দ বলেন, কোচ সংকটের

কারনে আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছে রেল, যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং ট্রেন চলাচল নির্বিঘœ করার জন্য মেয়াদ উত্তির্ণ কোচ বা বগি দিয়ে ট্রেন চালানো হচ্ছেনা, তবে কোচ মেরামত হয়ে এলে এই সংকট নিরসন হতে পারে। রেলের বিভাগীয় পরিবহণ কর্মকর্তা (ডিটিও) মো. নাসির হোসেন বলেন, কোচ পুরনো হওয়া ও মেয়াদ না থাকায় কোচগুলো কারখানায় রয়েছে, এ কারণে কম কোচ দিয়ে ট্রেন চালাতে হচ্ছে। পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) শাহীদুল ইসলাম বলেন, আমরা চেষ্টা করছি কোচ সংকট কমিয়ে পরিপূর্ণ কোচ দিয়ে ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা করার।

ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন টিকেট কাউন্টারে টিকেট বিক্রয়কারিরা তাদের নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে স্বীকার করেন, রেলের রাজস্ব আয় ৩/৪ মাস আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে।

  • 71
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে