পিঠা বিক্রি করে চলছে চন্দনার সংসার

প্রকাশিত: ডিসেম্বর ২৯, ২০২০; সময়: ১১:৫৩ am |

মাসুদ রানা. পত্নীতলা :  চন্দনা রানী মহন্ত , বাড়ী নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার কাশিপুর গ্রামে পিতা মৃত হরেন্দ্রনাথ মহন্ত, পরিবারে তিনি সহ দুই ছেলে ও বৃদ্ধা মাতা ৪ জনের ভরন পোষন করছেন তিনি নিজেই। রাতে পিঠা বিক্রি আর দিনের বেলায় মানুষের বাসা বাড়িতে কাজ করে চলছ তার কষ্টের জীবন।

কনকনে শীত উপেক্ষা করে রাতের বেলা খোলা আকাশের নিচে চাদর মুড়ি দিয়ে বসে পিঠা বানাচ্ছেন চন্দনা রানী, শীত শুরু থেকে প্রতি রাতে তিনি এখানে ভাপা পিঠা বিক্রি করে। তার নিজের পুজিও নেই একজনের সহযোগিতায় প্রতিদিন খেজুর গুড়, চালের আটা ও নারিকেল, জ্বালানি কাঠ বাঁকিতে কিনে, পিঠা বিক্রী করে ধার পরিশোধ করেন। প্রতি পিচ পিঠা বিক্রি হয় ১০ টাকায়, খরচ বাদ দিয়ে প্রতিদিন ২শ, ৩শ টাকা লাভ থাকে। তা দিয়ে চলে সংসার।

১৯ বছর আগে সাত পাক ঘুরে সংসার শুরু করেছিলেন হরিরামপুর গ্রামের এক যুবকের সাথে। নতুন জীবন ১০ বছর পর্যন্ত ভালই চলছিল , এর পর তার জীবনে শুরু হয় কালো অধ্যায়, স্বামী খারাপ লোকজন দের সাথে মিশে নেশায় আসক্ত হয় প্রতিনিয়তই নির্যাতন করতে থাকে। স্বামীকে অনেক বুঝিয়ে লাভ হয় নি, সংসার করবে বলে দুটি সন্তানের মুখ চেয়ে স্বামীর অত্যাচার সহ্য করে আরো কয়েক বছর মুখ বুজে পরে ছিল স্বামীর বাড়ী। অবশেষে অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে বাবার বাড়ী চলে যান। কম বয়সি মেয়ে বাড়িতে

থাকে লোকজন কটু কথা বলে পরে আবার বিয়ে হয় একজনের সাথে, নিয়তির নির্মম পরিহাস এ বিয়েও টিকেনি বেশি দিন। বাবার বাড়ীতে কষ্ট করেই চলে চন্দ নার জীবন, মাথার উপর ছাতা ছিল বাবা, সেই বাবাও গত হয়েছে বছরখানেক হলো এখন দুই ছেলের পড়াশুনার খরচ, বৃদ্ধা মায়ের ঔষধ খাবার তার মাথার উপর এসে পরে, বাধ্য হয়ে মান সম্মান ত্যাগ করে বাসা বাড়ী ও মেসে কাজ শুরু করেন তিনি।শনিবার সন্ধ্যায়

নজিপুর বাসস্ট্যান্ডের ধামইর রোডে ফুটপাতে বসে চাদর মুড়ি দিয়ে পিঠা বানানোর সময় কথা হয় তার সাথে, ছল ছল আখি নিয়ে মলিন মনে বলছিল তার জীবন কাহিনী। তিনি আরও বলেন সরকারী কোন সহযোগীতাও তেমন পান নি অনেক ঘুরে ১০ টাকা কেজির একটি কার্ড পেয়েছেন। তার দাবী সরকারি ভাবে তাকে যদি একটি গাভী দেন বা কোন ভিজিডি কার্ড দেন তাহলে তার কষ্ট একটু লাঘব হবে।

 

  • 130
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
উপরে